স্মার্টফোনে গুগল ম্যাপ চালু করলেই এখন অচেনা রাস্তায় গন্তব্য খুঁজে পাওয়া সহজ। তবু হাসপাতাল, বড় ভবন কিংবা ব্যস্ত সড়কে পথ হারিয়ে ফেলেন অনেকে। কোন দিকে যেতে হবে, কোথায় প্রবেশপথ কিংবা জরুরি বিভাগ—এসব বুঝতে তখনও সাইনবোর্ডের প্রয়োজন হয়। কারণ, পথ চিনতে প্রযুক্তির পাশাপাশি চারপাশের স্পষ্ট দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি এক লেখায় পরিবেশমনোবিজ্ঞানী অ্যান স্লোন ডেভলিন ব্যাখ্যা করেছেন, প্রযুক্তির যুগেও কার্যকর সাইনবোর্ড কেন জরুরি।
হাসপাতালেই পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন
হাসপাতালে একই রকম করিডর, একাধিক ভবন, বিভিন্ন তলা ও লিফটের কারণে রোগী ও স্বজনেরা সহজেই বিভ্রান্ত হন। দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের মধ্যে থাকলে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
লেখক নিজের এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। হাসপাতালে স্বজনকে দেখতে গিয়ে তাকে কাগজে লেখা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল—কোন করিডর দিয়ে যেতে হবে, কোন রঙের লিফট নিতে হবে, কোথায় মোড় ঘুরতে হবে। এতে প্রশ্ন ওঠে, হাসপাতালের দিকনির্দেশনা যথেষ্ট স্পষ্ট হলে দর্শনার্থীদের এমন নির্দেশনার ওপর এতটা নির্ভর করতে হতো কি?
অস্পষ্ট নির্দেশনায় বিপদও হতে পারে
সাইনবোর্ডের সমস্যা সব সময় সামান্য ভোগান্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। লেখায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের লরা লেভিসের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে হাঁপানির আক্রমণের সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ খুঁজে না পেয়ে বাইরে মারা যান তিনি। পরে তার নামেই একটি আইন করা হয়, যার লক্ষ্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করা।
ঘটনাটি দেখায়, জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক দিকনির্দেশনা শুধু সুবিধার বিষয় নয়, জীবন রক্ষারও অংশ হতে পারে।
গুগল ম্যাপ কি পথ চেনার ক্ষমতা কমায়?
জিপিএস ও মানচিত্রের অ্যাপ গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তবে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা চারপাশ পর্যবেক্ষণ ও পথ মনে রাখার অভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় জিপিএস ব্যবহারের সঙ্গে স্থানিক স্মৃতির দুর্বল সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সব গবেষণার ফল এক নয়। তাই গুগল ম্যাপ ব্যবহার করলেই পথ চেনার ক্ষমতা কমে যায়, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পাশাপাশি চারপাশের রাস্তা, ভবন ও দিকনির্দেশক চিহ্নগুলোর দিকেও নজর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও জনসাধারণের ব্যবহারের ভবন নির্মাণের সময় সাইনবোর্ডের পরিকল্পনাও গুরুত্বের সঙ্গে করা প্রয়োজন।
কারণ, সঠিক দিকনির্দেশনা মানুষকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছাতেই সাহায্য করে না; অপরিচিত পরিবেশে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগও কমাতে পারে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, তবু খরচ করছেন বেশি? কেন এমন হয়