সকাল বেলা ফেসবুকের ডেসপারেটলি সিকিং গ্রুপের একটি পোস্ট দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। এক বন্ধু তার ছেলের ছবি দিয়েছে। টন্সিল ফোলার কারণে চিকিৎসক তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছিলেন। সেটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সমস্ত শরীর ফুলে লাল লাল ফোস্কার মতো পড়ে গেছে। ১০ বছরের ছেলেটি টন্সিলে যত না কষ্ট পাচ্ছিল, তার থেকে তিনগুণ বেশি কষ্ট পাচ্ছে ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়। তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে না পেরে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মা ডাক্তার না পেয়ে ফেসবুকে সাহায্য চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের সিরিয়াস বিষয় নিয়ে পরামর্শ চাইলে উপকারের বদলে অপকার হওয়ার ঘটনাই বেশি ঘটে।
এ ক্ষেত্রে দরকার বিশেষজ্ঞ পরামর্শ। প্রথমেই চেষ্টা করুন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার। তাকে না পাওয়া গেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে না এটি আদৌ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিনা।
এ প্রসঙ্গে ড. মাহবুব ময়ূখ রিশাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে এন্টিহিস্টামিন(এইচ-ওয়ান ব্লকার) বা এইচটু ব্লকার (গ্যস্ট্রিকের ওষুধ) খেতে হবে। এতে প্রাথমিকভাবে এলার্জির প্রভাব কমে আসবে। এটি শিশুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে ডোজটি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীর চেয়ে অর্ধেক হবে। এটি শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা। যদি গলা বা শ্বাসনালী ফুলে গেছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এমন অনুভূত হয় তবে অতি দ্রুত আশেপাশের হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। আরেকটি বিষয়, আপনাকে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে এই এলার্জিটি কি আদৌ ওষুধ থেকে হচ্ছে নাকি কোনও খাবার থেকে হচ্ছে।
লিচু বা স্ট্রবেরির মতো ফল থেকেও কিন্তু ভয়াবহ এলার্জি আক্রমণ হয়। তাই খাবার খাওয়াতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
ড. রিশাদ জানালেন, সম্প্রতি একজন রোগী তাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন লিচুর সংক্রমণ থেকে। তার পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে তাকে আইসিউতে ভর্তি করতে হয়েছিল। তাই ওষুধ ও অন্যান্য সব বিষয়ে সচেতন থাকাটা অত্যান্ত জরুরি।
/এফএএন/








