একসময় সকাল হলেই টাটকা মাছের খোঁজে বাড়ির কর্তা ডুলি হাতে ছুটতেন বাজারে। এখন আর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না। কারণ হাতের কাছেই রয়েছে সব। কাজ শেষে ফেরার পথে বাড়ির নিচের বাজার থেকে কেনা যাচ্ছে চাল, ডাল, মাছ, মাংস। সময়ের অভাবে অনেকসময় বাজারেও যাওয়া হয়ে ওঠে না। অনলাইনে চলে মাছ-মাংস কেনা। তবে যারা মাছ খেতে পছন্দ করেন তারা কিন্তু সবসময়ই নিজে দেখে শুনে টাটকা মাছটাই কিনতে চান!
লাল কানকোর তাজা মাছ কিংবা নদী থেকে সদ্য ধরা টাটকা মাছের স্বাদের কাছে ফ্রিজের বাসি মাছের স্বাদ নস্যি। একটু সময় নিয়ে টাটকা মাছ কিনতে ঢুঁ মারতে পারেন বিভিন্ন মাছের বাজার ও আড়তে। জেনে নিন মাছের বাজার ও আড়তের খোঁজখবর-
ভৈরব বাজার
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভৈরব বাজার মাছের আড়তে মাছ বিক্রি শুরু হয়। এখানে পাওয়া যায় মেঘনা নদীর টাটকা মাছ। ইলিশ, রুই, চিতল, কাতল, পাবদা, চিংড়ি কিংবা পাঙ্গাস পাবেন একেবারে তাজা। ভাগ্য ভালো হলে এই বাজারে মহাশোল মাছও পেয়ে যেতে পারেন। তবে তাজা মাছ পেতে সন্ধ্যার মধ্যেই আপনাকে ভৈরব বাজারে পৌঁছতে হবে। ঢাকা থেকে যেতে চাইলে বিকেলের আগেই রওনা দিয়ে দিন। ভৈরবের বাস গুলিস্তান থেকে প্রতি আধা ঘন্টা অন্তর অন্তর ছেড়ে যায়।
সিরাজদিখান খেয়াঘাট ও ট্যাকেরহাট
এখানে সূর্য ওঠার পরপরই মাছের বাজার শুরু হয়। সকাল ৮টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় বেচাকেনা। সিরাজদিখানের বাইরের কোনও মাছ এখানে বিক্রি হয় না। সব মাছই পাশের ইছামতি নদীর। এখান থেকে টাটকা মাছ কিনতে চাইলে আপনাকে ফজরের আজানের পরপরই বের হতে হবে। ইলিশ বাদে সব ধরনের মাছই এখানে পাওয়া যাবে। ইছামতি নদীর শোল, বোয়াল, কই, বাইন ও চিংড়ির স্বাদ অসাধারণ। সিরাজদিখান খেয়াঘাটেই বসে মাছের বাজার। মাছ ডাকে কিনতে হয়। পদ্মহেম ধাম বা ট্যাকেরহাট গেলেও এমন মাছের বাজার পাবেন। সিরাজদিখান যেতে হবে গুলিস্তান বা বাবুবাজার থেকে বাসে চেপে। তবে নিজস্ব বাহন হলে সব চেয়ে ভালো হয়।
বালাসুর বাজার
বালাসুর শ্রীনগরের কাছের একটি গ্রাম। বালাসুর বাজার মোড়ে প্রতিদিন মাছের বাজার বসে বিকাল ঠিক ৪টার পর পর। দাম একটু বেশি হলেও নিশ্চিত টাটকা মাছ পেয়ে যাবেন। এখানকার মাছের মধ্যে অন্যতম হলো ইলিশ, বাঘইর, রিঠা, পাঙ্গাস, আইড়, চিংড়ি, চিতল, পাবদা, বাচামাছ ও টাটকিনি মাছ। বালাসুর যেতে হলে আপনাকে গুলিস্তান থেকে আরাম বাসে চড়ে বসতে হবে। আর নিজস্ব বাহন হলে তো কথাই নেই।
মাওয়া লঞ্চ ঘাট ও মাওয়া সি-বোট ঘাট
পদ্মার তীরবর্তী মাওয়া লঞ্চঘাটে প্রতিদিন সকালে বিশাল মাছের আড়ত বসে। এখানে পদ্মার ইলিশ আগের মতো পাওয়া না গেলেও চাঁদপুর বা কালিগঞ্জের ইলিশ পাবেন নিশ্চিতভাবে। এছাড়া পাবদা, রুই, কাতল,পাঙ্গাস, বাঘইর, রিঠা, আইড়, বোয়াল, আর চিংড়িও পাওয়া যাবে। মাওয়া লঞ্চঘাটে একবেলা বাজার বসলেও মাওয়া সি-বোট ঘাটে সারাদিনই বাজার বসে। এখানে যেতে গুলিস্তান, বাবুবাজার বা যাত্রাবাড়ি থেকে মাওয়ার বাসে চড়ে বসুন।
রিকাবী বাজার
ঢাকার খুব কাছে মুন্সিগঞ্জের কাছে রিকাবীবাজার। লঞ্চে বা বাসে যেভাবেই যান, যেতে হবে একদম সকালে। এখানে অন্য সব মাছের চেয়ে ইলিশ আর চিতল মাছটা বেশি পাওয়া যায়।
নয়া বাজার
ঢাকা শহরের ভেতর নয়াবাজারে প্রতিদিন ঢাকার আশেপাশের নদ-নদীর সেরা মাছগুলো চলে আসে। ঢাকায় বসে ভালো ও টাটকা মাছ পেতে চাইলে নয়াবাজারের বিকল্প নেই। সারাদিন বাজারে মাছ বিকিকিনি হলেও একেবারে টাটকা মাছ পেতে হলে আপনাকে সকাল ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে সেখানে চলে যেতে হবে। সব ধরনের মাছ এখানে পাওয়া যায়। যাতায়াতও খুব সুবিধার। রিকশা বা বাসে চলে যেতে পারবেন নয়াবাজার।
এগুলো ছাড়াও ঢাকার কাছের ভাগ্যকুল বাজার, মান্দ্রাগাঁও, টঙ্গিবাড়ির হাঁসাইল বাজার, ঢাকার সোয়ারী ঘাট, যাত্রাবাড়ি, কারওয়ান বাজারে মাছ পাবেন প্রতিদিন সকালে। আর যদি কেবল ইলিশের খোঁজ করেন, তাহলে সোজা বালাসুর বাজার, মাওয়া লঞ্চঘাট বা সি-বোট ঘাট, রিকাবীবাজার আর টঙ্গিবাড়ির হাঁসাইল চলে যান। দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশের বাজার হচ্ছে চাঁদপুর। চাঁদপুর রেলস্টেশন লাগোয়া চাঁদপুর ইলিশ বাজার। এখানে প্রায় চল্লিশটি আড়ত ঘর রয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে পারবেন।
ছবি: লেখক
/এনএ/








