ক্যানভাসে তুলির আঁচড়ে প্রকৃতির রূপ ফুটিয়ে তোলার দুঃসাহসিকতা করে অনেক শিল্পীই প্রশংসা কুড়িয়েছেন, কিন্তু ছাপচিত্রে এই শিল্পের প্রসার খুবই কম। খুব কম শিল্পীই আছেন যারা এই ছাপ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাদের মেধা কোনও অংশেই অন্যান্য শিল্পীর চেয়ে কম নয়। চারুশিল্পে অনেক চিত্রের জনপ্রিয়তা থাকলেও ছাপচিত্রের প্রচার খুব কম বললেই চলে। কিন্তু এই মাধ্যম ব্যবহার করেও অনেক সুন্দর শিল্প উপহার দেওয়া যায়।
এই শিল্পের গণ্ডি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রখ্যাত শিল্পী ও চারুকলার প্রিন্টমেকিং বিভাগের অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা এবং কলকাতার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উত্তম কুমার বসাকের পরিচালনায় কসমস আতেলিয়ার ৭১ প্রিন্ট মেকিং স্টুডিওতে গত ৩-৮ নভেম্বর এক ছাপচিত্র কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এ কর্মশালায় সারাদেশ থেকে ১২ উদীয়মান এবং প্রতিষ্ঠিত ছাপ শিল্পী অংশ নেন।
এই কর্মশালায় শিল্পীদের ছাপচিত্রে ইন্টাগ্লিও পদ্ধতির কলাকৌশল থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সব ব্যবহারিকভাবে শেখানো হয়। ইন্টাগ্লিও পদ্ধতিতে কোনও ধাতব বস্তুতে তীব্র অ্যাসিড ব্যবহার করে সুন্দর নকশা বা চিত্রকর্ম তৈরি করা যায়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের ৪৫টি শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করে গ্যালারি কসমস।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো ডি সালাস, বরেণ্য শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী এবং শিল্প সংগ্রাহক দুর্জয় রহমান জয়। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী মনিরুল ইসলাম। এরকম অনুষ্ঠানে এসে নিজের অনুভূতি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে ব্যক্ত করেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো ডি সালাস। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি অভিভূত এসব আর্ট দেখে। আপনি নিজেও দেখতে পারছেন যে এই শিল্পীদের ছাপ চিত্রে কাজ কতটা ফুটে উঠেছে। তাদের এক একজন একটি পারস্পেক্টিভ থেকে কাজ করেছে। ভিন্ন ধারায় তারা নিজেদের সম্ভাবনাগুলোকে তুলে এনেছে। এধরনের কাজ সচরাচর দেখতে পারা যায় না, কিন্তু খুব সুন্দর। জীবনের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রকে তারা বিভিন্ন রং দিয়ে সাজিয়েছে।’
প্রদর্শনীতে শিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে কি ধরনের কাজ হছে তা এখান থেকে দেখা যায়। ছাপচিত্র শুনলেই অনেকে মনে করে প্রেসের কাজ। কিন্তু না, এটাও একটা শিল্প। এই শিল্প সম্পর্কে জানতে হলে ওয়ার্কশপে যেতে হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত। গ্যালারি কসমসে এই প্রদর্শনী চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।








