সারাদেশের মত রাজধানীতেও জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। অসহায় দরিদ্র, ছিন্নমুল পথশিশুদের কাছে শীত মানেই বিভীষিকা, রাত মানেই দুঃস্বপ্ন। আর মায়ের হাতের পিঠাপুলি খাওয়াতো শুধু স্বপ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
তাই পথশিশুদের এই দুঃস্বপ্ন দূর করতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সম্ভাবনা’ অষ্টমবারের মতো আয়োজন করেছে ‘পুষ্পকলিদের শীত উৎসব’। তিন শতাধিক পথশিশুকে সাথে নিয়ে সম্ভাবনা আয়োজন করেছে এই উৎসবের।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ৫ নম্বর গেটের ভেতরের খোলা অংশে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।
পথশিশুদের জন্য আয়োজিত এই উৎসবে ছিলো ‘যত চাও, তত খাও’ শীর্ষক হরেক রকমের পিঠা পুলি খাওয়ার আয়োজন। দিনের শীত নিবারণের জন্য দেওয়া হয় ভারি জ্যাকেট এবং রাতের শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল।
উৎসবের মাত্রাবাড়িয়ে দিতে ছিলো উলফাত কবিরের পরিবেশনায় ম্যাজিক শো, জলপুতুল পাপেটসের পরিবেশনায় পাপেট শো, এবং পুষ্পকলিদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
শিশুদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের নির্বাহি পরিচালক মো: তোফাজ্জল আলী, দৈনিক সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম, নারী উদ্দোক্তা হাসিনা জান্নাত ছাকি, আয়শা জেসমিন, সালমা আকতার সহ সম্ভাবনার স্বেচ্ছাসেবী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
পথশিশুদের নিয়ে এ আয়োজন সম্পর্কে সম্ভাবনা সংগঠনের সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জানান, শীতের এই আমেজটা কিংবা মমতাময়ী মায়ের হাতের পিঠাপুলির খাওয়ার সুযোগ সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পায় না। সম্ভাবনা চায়, বিভিন্ন উৎসব আমরা যেভাবে পালন করি, শিশুরাও যেন সেভাবে পালন করতে পারে। যে কেউ চাইলেই আমাদের শিশুদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারে।
উল্লেখ্য, ‘বঞ্চিত শিশু ও আগামীর সম্ভাবনা’ স্লোগান নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সম্ভাবনার পথচলা শুরু হয় ২০১১ সালে। ২০১১ সাল থেকে সম্ভাবনা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ‘পুষ্পকলি স্কুল’ নামে একটি অবৈতনিক স্কুল পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে পুষ্পকলি স্কুলের তিনটি শাখা রয়েছে মিরপুর স্টেডিয়াম, রবীন্দ্র সরোবর এবং মিরপুর কালশি বস্তিতে।
শীত উৎসব ছাড়াও ঈদসহ বিভিন্ন বড় বড় আয়োজনে নানা আয়োজন করে আসছে সম্ভাবনা।








