ঈদ আসলেও জমেনি সিলেটের সাতকরার বাজার

সিলেট প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২০, ১৮:০২আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২০, ১৮:১৮

কোরবানির ঈদ আসলেই কদর বেড়ে যায় সিলেটের সাতকরার। লেবুজাতীয় এই ফল দিয়ে রান্না এখানকার অন্যতম ঐতিহ্য। তবে অন্যবারের চাইতে এবারের কোরবানির ঈদে সাতকরার চাহিদা অনেক কম। এক সাপ্তাহ আগ থেকে সিলেটের প্রধান সবজির আড়ৎসহ নগরের বন্দরবারজার, রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি শুরু হয় সিলেটের সাতকরা। ঝুড়িতে সাজিয়ে সাতকরা বিক্রি করছেন সবজি বিক্রেতারা। ছোট-বড় আকার ভেদে প্রতি হালি সাতকরা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা করে।

সাতকরার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। ছবিটি নগরীর বন্দরবাজার থেকে তোলা
সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটের জাফলং ছাড়াও এখানকার পাহাড়-টিলায় চাষ হয় সাতকরা। এটি দেশ-বিদেশে সিলেটি সাতকরা নামে পরিচিত। ক্রেতারা সিলেটের সাতকরা শুনলেই দর কষাকষি কম করেন বলে জানান বিক্রেতারা। লেবুগাছের মতো সাতকরার কাঁটাযুক্ত গাছ ২০ থেকে ২৫ ফুট লম্বা হয়। সিলেটে প্রচুর চাহিদার কারণে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আসাম ও মেঘালয় থেকেও সাতকরা আমদানি হয়।

সিলেট সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ঝুটন চন্দ্র জানান, আমাদের কাছ থেকে অনেক কৃষকরাই উন্নত সাতকরার চারা নিয়ে বাড়ির আশপাশে রোপণ করেন নিজেরা খাওয়ার জন্য। বারি সাতকরা সিলেটের উন্নত মানের সাতকরা। এর চাহিদা অনেক বেশি। সাতকরার বাণিজ্যিক কোনও বাগান সিলেটে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের আবহাওয়া সাতকরা উৎপাদনের জন্য উৎকৃষ্ট। সিলেট ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে সাতকরার তেমন কোনও চাহিদা নেই।  

তিনি আরও বলেন, সিলেটের সাতকরা খাওয়ার উৎকৃষ্ট সময় হলো সেপ্টম্বর ও ডিসেম্বর মাস। এই সময়ের সাতকরার আকার বড় হয় এবং স্বাদে-গন্ধেও থাকে অতুলনীয়। বর্তমান বাজারে যেসব সাতকরা পাওয়া যায় এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ সাতকরা করিমগঞ্জসহ ভারতের মেঘালয় থেকে আসে।

জাফলংয়ের সাতকরা বিক্রেতা আলী হোসেন জানান, এবার সাতকরা হালি বিক্রি করতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। সাতকরাগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন সিলেটের জাফলং থেকে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বিক্রি তেমন নেই বলে জানান।

ঈদ আসলেও জমেনি সিলেটের সাতকরার বাজার

সিলেট নগরের উপশহরের বাসিন্দা গৃহিণী ডা. নাজমিন আক্তার বলেন, ‘সাতকরা ছাড়া কোরবানির মাংস রান্নায় স্বাদ পাওয়া যায় না। মাংসের সাথে সাতকরার একটি বিশেষ মিল রয়েছে।’
সাতকরার খোসা সবজি হিসেবে মাংস বা মাছের সাথে রান্না করা যায়। সাতকরার খোসা শুকিয়ে ৬-৭ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। মাঝেমধ্যে রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিলে নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। সাতকরা দিয়ে উৎকৃষ্টমানের আচার তৈরি করা যায়।

 বন্দরবাজারের সাতকরা ব্যবসায়ী সালেক আহমদ জানান, ‘করোনার কারণে সাতকরা তেমন বিক্রি হচ্ছে না। আগে এই সময়ে প্রতিদিন যেখানে ৪০-৫০ হালি সাতকরা বিক্রি করতাম, এখন বিক্রি করছি ১০-১৫ হালি। প্রতি হালি বড় সাতকরার দাম ১৫০-২৫০ টাকা আর ছোট সাতকরার দাম ৮০-১০০ টাকা।’
রানু আহমদ নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, সিলেটের সাতকরার চাহিদা দেশজুড়ে। তবে আগের তুলনায় এখন সিলেটে সাতকরা চাষ হয় কম। এজন্য ভারতের করিমগঞ্জ ও মেঘালয় থেকে সাতকরা সংগ্রহ করা হয়। তবে স্বাদে সিলেটের সাতকরা অতুলনীয়।  

/এনএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক