প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৩ বছর। আমার নানা ঘটনায় প্যানিক অ্যাটাক আসে। ছোটখাট বিষয়েও আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। যেমন অফিসের মিটিং, অনেক মানুষের সাথে কথা বলতে হবে। আমার দুইদিন আগে থেকেই অস্থির লাগতে থাকে। কোনও নতুন কাজ করতেও ভয় লাগে। মনে হয় যদি ঠিক মতো না পারি? কীভাবে এই ভয় দূর করবো?
উত্তর: প্যানিক অ্যাটাক সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন:
১) নিশ্বাসের ব্যায়াম: মনে মনে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনতে গুনতে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং মনে মনে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনতে গুনতে শ্বাস ধরে রাখুন। এরপর মনে মনে ১ থেকে ৬ পর্যন্ত গুনতে গুনতে নাক দিয়েই ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময় পেট ভেতরের দিকে টেনে ধরুন যেন আপনার ফুসফুস থেকে বেশি পরিমাণে বাতাস বের হতে পারে। এভাবে ৪-৬ বার করুন।
২) মেডিটেশন এবং যোগব্যায়াম: এগুলো আপনার মনকে শান্ত রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
৩) মাইন্ডফুলনেস টেকনিক: বর্তমান মুহূর্তে থাকুন এবং আপনার চারপাশের বস্তুর প্রতি মনোযোগী থাকুন।
৪) সামাজিক সমর্থন: বন্ধু-বান্ধব, পরিবার অথবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আপনার চিন্তা-ভাবনা শেয়ার করুন।
৫) স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: যথাযথ ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম আপনার প্যানিক অ্যাটাকের তীব্রতা কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৬ বছর। বিয়ে করেছিলাম ১১ বছর আগে, পরিবারের পছন্দে। বাচ্চা নিতে চাইছিলাম বিয়ের এক বছর পর, তখন আমার স্বামীর চায়নি। তার কথা ছিল বাচ্চা নেওয়ার জন্য আরেকটু আর্থিকভাবে গুছিয়ে উঠতে হবে। বছর তিনেক আগে আমার জরায়ুতে মারাত্মক ইনফেকশন হয়, যার কারণে আমি মা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। এরপর থেকেই স্বামীর আচরণ বদলে যায়। আমাকে সহ্য করতে পারতো না। সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। অথচ মেজর অপারেশনের কারণে আমি অসম্ভব দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম, প্রিয় মানুষের সাপোর্ট আমার প্রয়োজন ছিল। মা হতে না পারার কষ্ট আমাকে কুড়ে কুড়ে খেতো। অথচ আমার স্বামী আমাকে কোনোদিন সাহস দেয়নি। আমি বাচ্চা দত্তক নিতে চেয়েছিলাম। সেটাও দেয়নি। গত মাসে স্বামী আমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। বলছে একসাথে থাকতে পারলে থাকো, না পারলে ডিভোর্স দিব। ডিভোর্স দিলে আমার অন্য কোথাও থাকার পরিস্থিতি নেই। আবার চাকরি বা অন্য কিছু করার মতো শারীরিক সঙ্গতি নেই। কী করবো আমি?
উত্তর: আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন:
১) মানসিক সমর্থন: এই মূহুর্তে আপনার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সমর্থন। আপনার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলুন, তাদের পরামর্শ নিন। পারিবারিক মীমাংসার মাধ্যমে ব্যাপারটা সমাধানের চেষ্টা করুন। তাদের সাপোর্ট আপনার মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমাতে পারে।
২) আইনি পরামর্শ: আপনার আইনি অধিকার সম্পর্কে জানার জন্য নির্ভরযোগ্য এবং অভিজ্ঞ কোনও আইনি পরামর্শদাতার সাথে আলোচনা করুন, যেন আপনি আপনার প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন।
৩) কমিউনিটি এবং ভার্চুয়াল সাপোর্ট: জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের মহিলা সহায়তা কেন্দ্র বা এ ধরনের অনলাইন সাপোর্ট গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত হন যারা আপনাকে মানসিক, পেশাগত, আইনি বা সালিশি সহযোগিতা প্রদান করতে পারে।
৪) স্বনির্ভরতা: নিজের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির জন্য কোনো প্রশিক্ষণ, ব্যসায়িক উদ্যোগ বা কাজের দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন, যা আপনার শারীরিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৫) স্বাস্থ্য পরিচর্যা: আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। নিয়মিত ব্রিদিং এক্সারসাইজ, শরীরচর্চা ও মেডিটেশন করুন।








