টাইম জোনের ইতিবৃত্ত

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২৪, ১৯:৪৪আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩৭

টাইম জোন বাংলাদেশের ঘড়ির ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিখ্যাত নাম। যদি কেউ বাংলাদেশে বসে নামকরা কোন ব্র্যান্ডের ঘড়ি কিনতে চায়, তাদের মনে প্রথম যে নামটি আসে তা হলো টাইম জোন। বর্তমানে সারা দেশে টাইম জোনের ৭৮টি আউটলেট রয়েছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টাইম জোনের যাত্রার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে যখন কল্লোল গ্রুপ প্রথম টাইটান ও টাইমেক্স নামে দুটি ব্র্যান্ড আমদানির মাধ্যমে এই ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের উদ্যোগ শুরু করেছিল। তারা প্রথমে গতানুগতিক ধারার ঘড়ি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে খুচরা বিক্রয় শুরু করে। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে তাদের ব্যবসার উন্নতি অনেকটা বাধাগ্রস্ত হয়। কিছু খুচরা বিক্রেতা ‘এক দাম’ রাখার বিষয়টি মেনে চলছিলেন না। 

তারা বাকিতে বিক্রয় সুবিধা নিচ্ছিলেন, যার ফলে কোম্পানিকে বিপুল পরিমাণে খেলাপি ঋণের সম্মুখীন হতে হয়। বিক্রেতারা তাদের প্রচারণার জন্য দেওয়া উপহারও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলেন না। এছাড়া নকল ব্র্যান্ডের ঘড়ি বিক্রিও এই ব্যবসার জন্য একটি বড় সমস্যা ছিল। সেই সময়ে আমদানি করা ঘড়ির ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক ধার্য করা হতো (যা পরে অনেক আলোচনার পরে হ্রাস করা হয়েছিল)। এছাড়াও ব্র্যান্ডের ঘড়ির বাজার তখন খুব সীমিত ছিল এবং ভোক্তারা বেশির ভাগই জাপানিজ বা সুইস ঘড়ি পছন্দ করতো। অন্য দেশের ঘড়ির প্রতি তাদের আস্থার অভাব ছিল।

এসব সমস্যা কমানোর জন্য কোম্পানি তখন সিদ্ধান্ত নিলো গতানুগতিক ধারা থেকে সরে এসে নির্দিষ্ট আউটলেটের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করার। তারা টাইম জোন নামে ব্র্যান্ডের ঘড়ির চেইন শপ খোলার সিদ্ধান্ত নিলো। তারা চেয়েছিল গ্রাহকদের তাদের ঘড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যা তারা প্রদান করে থাকে, যেমন- আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা-সুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল যারা তাদের নিয়মিত ক্রেতা তাদের সঙ্গে একটি মজবুত সম্পর্ক তৈরি করা এবং এর মাধ্যমে তাদের নতুন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ানো। তারা এমন একটি জায়গা তৈরি করতে চেয়েছিল, যা হবে অভিজাত এবং যা তাদের ব্র্যান্ডের স্বাক্ষর বহন করবে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে, ২০০০ সালে ঢাকার নিউ মার্কেটে টাইম জোনের প্রথম আউটলেট প্রতিষ্ঠিত হয়।

২৫ বছরে পা দিয়ে বর্তমানে টাইম জোন এই দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত ঘড়ি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের নাম। এই মুহূর্তে তারা ৩১টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ঘড়ির ব্র্যান্ড এবং ৫টি রাইটিং ইন্সট্রুমেন্ট ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের ৫৮টি স্থানে তাদের ৭৮টি আউটলেট রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে কল্লোল গ্রুপ অব কোম্পানির ওয়াচ অপারেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মুহাম্মদ বলেন, টাইম জোন ২৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে উন্নত মানের ঘড়ি বিক্রয় করে আসছে। দেশের ব্র্যান্ডের ঘড়ি ইন্ডাস্ট্রির জন্য তারা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

প্রকৃতপক্ষে টাইম জোন বাংলাদেশের ঘড়ির মার্কেটে একটি বেঞ্চমার্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে অন্যান্য কোম্পানিও এটি অনুসরণ করতে শুরু করেছে।

/এমকেএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম