পোশাক, চুলের স্টাইল বা নিজের সাজ-পোশাকের ধরন বদলালে ভালো লাগতেই পারে। তবে এর প্রভাব শুধু বাহ্যিক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজের জন্য একটু সময় বের করা, নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া এসবের মাধ্যমে নিজের প্রতি যত্ন ও গুরুত্ব দেওয়ার অনুভূতিও তৈরি হয়। আর এই আত্মযত্নের অনুভূতি ধীরে ধীরে ভালো লাগা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষ করে কাজের চাপ, একঘেয়েমি বা মানসিক ক্লান্তির সময় নিজের জন্য করা এমন ছোট ছোট যত্ন দৈনন্দিন জীবনে এনে দিতে পারে ক্লান্তি কাটানোর একটি সুন্দর বিরতি।
কাজের চাপে যখন নিজেকে বিক্ষিপ্ত, ক্লান্ত বা ভারী লাগে, তখন একটু থামুন। নিজের জন্য সময় বের করুন। পছন্দের পোশাক পরুন, চুলটা একটু গুছিয়ে নিন, ত্বকের যত্ন নিন, আয়নায় নিজেকে নতুন করে দেখুন। নিজের যত্নকে বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন হিসেবে দেখুন।
নিজের যত্নে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
নিজের যত্ন মানে শুধু সুন্দর দেখানো নয়- মন, শরীর, আবেগ ও সম্পর্ক সবকিছুর যত্ন নেওয়া।
মানসিক সুস্থতাকে অবহেলা করবেন না
কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক ক্লান্তিকে জমতে দেবেন না। চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিজের প্রয়োজন বুঝুন এবং দরকার হলে বিরতি নিন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
শুধু শারীরিক বিশ্রামই নয়, আমাদের প্রয়োজন মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিশ্রামও। সবসময় ব্যস্ত থাকা বা সবার সঙ্গে যোগাযোগে থাকা মানেই ভালো থাকা নয়। কখন নিজের জন্য একটু নিরিবিলি সময় প্রয়োজন, সেটিও বুঝতে হবে।
সুস্থ সামাজিক যোগাযোগ রাখুন
সম্পর্কে যোগাযোগ থাকা জরুরি, তবে সেই সম্পর্ক যেন আপনার মানসিক সুস্থতার জন্য ক্ষতিকর না হয়। সময় করে এমন একজন বন্ধুর সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন, যিনি আপনাকে বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করেন।
খাবারের ব্যাপারে শরীরের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন
শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিন। শুধু কম খেয়ে বা দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিন। খাবারের ক্ষেত্রে নিজের শরীরের প্রয়োজন ও পুষ্টির ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
নিজের শরীর ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম মানেই কঠিন কসরত নয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, সময় ও পরিবেশের সঙ্গে মানানসই এমন শারীরিক কার্যক্রম বেছে নিন, যা নিয়মিত করা সম্ভব এবং করতে ভালো লাগে।
ত্বক ও চুলের যত্ন নিন
নিজের ত্বক ও চুলের ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহজ, নিয়মিত যত্নের রুটিন তৈরি করুন। এটি শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়, নিজের প্রতি যত্ন ও আত্মমূল্যবোধের অনুভূতিও বাড়াতে পারে।
সবশেষে মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া স্বার্থপরতা নয়, এটি নিজের সুস্থতার প্রতি দায়িত্ব। নিজেকে একটু সময় দিন, নিজের প্রয়োজনগুলো শুনুন। ভালো থাকা শুরু হয় নিজের যত্ন থেকেই।
তাই স্টাইল পরিবর্তন মানেই মনের পরিবর্তন নয়। তবে নিজের যত্নের মাধ্যমে ভালো লাগা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সতেজতাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার একটি সুন্দর সুযোগ হতে পারে।








