ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ‘সংকটজনক সীমার বাইরে’ চলে গেছে। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক ন্যাটো এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইউরোপে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে একটানা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ‘একেবারেই’ নেই। এমনকি একটিমাত্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও এখন ‘অত্যন্ত সীমিত’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর জুন মাসে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলেও গ্রীষ্মজুড়ে লড়াই অব্যাহত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও, ইরান পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিশানা করে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে পূর্ব এশিয়া থেকেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সেনা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ইউক্রেন সংঘাতের কারণে মধ্যম পাল্লার অ্যাটাকমস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও মার্কিন বাহিনীর প্রায় তলানিতে ঠেকেছে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ভূ-পৃষ্ঠে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার অস্ত্র এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল-এর মজুত প্রায় পুরোপুরি নিঃশেষ করে ফেলেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অন্যান্য রণক্ষেত্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র এনে তাদের মজুত পূরণ করছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিতে পড়েছিল। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করা হয়েছে, তবে মিডল ইস্ট আইসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে ইরান চীন ও রাশিয়া থেকে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩০ কোটি ডলার মূল্যের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এটি যুদ্ধপূর্ব সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ। প্রতিটির দাম ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের এসব ডেকন ড্রোন মূলত উচ্চ আকাশে নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কাজে ব্যবহৃত হতো।








