ত্বকের যত্নে সব সময় দামি প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। রান্নাঘর ও ঘরের পরিচিত কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় সহজ ঘরোয়া স্কিন কেয়ার জেল। বিশেষ করে যাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় কিংবা মুখ ধোয়ার পর ত্বকে টানটান ভাব অনুভূত হয়, তাদের জন্য চাল ধোয়া পানি ও অ্যালোভেরার মিশ্রণটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
চাল ধোয়া পানি সৌন্দর্যচর্চায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে ত্বককে আর্দ্র ও ঠান্ডা রাখতে অ্যালোভেরার ব্যবহারও বেশ পরিচিত। তাই দু’টি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় হালকা, জেলজাতীয় একটি ঘরোয়া স্কিন কেয়ার মিশ্রণ।
কী কী লাগবে?
এই জেল তৈরির জন্য মূলত প্রয়োজন হবে চালের জল ও অ্যালোভেরা জেল। চাইলে বাড়তি উপকরণ হিসেবে সামান্য গোলাপজল বা মধু ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বক সংবেদনশীল হলে অপ্রয়োজনীয় উপকরণ না মেশানোই ভালো।
কীভাবে তৈরি করবেন?
প্রথমে দুই থেকে তিনবার চাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার পানিতে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। চাল ভেজানো পানি ছেঁকে আলাদা করে নিন।
এবার সেই পানির সঙ্গে পরিষ্কার অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। চাইলে চালের পানি সামান্য ঘন করে নিয়েও অ্যালোভেরার সঙ্গে মেশাতে পারেন। মিশ্রণটি জেলির মতো ঘন হয়ে এলে পরিষ্কার পাত্রে রাখুন।
রাতে ব্যবহার করবেন যেভাবে
রাতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর জেলটি পাতলা করে মুখে লাগাতে পারেন। চোখ ও ঠোঁটের চারপাশ এড়িয়ে চলুন। ত্বকে অস্বস্তি না হলে রেখে সকালে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
চাল ধোয়া পানি ও অ্যালোভেরা ত্বকে সাময়িকভাবে আর্দ্রতা ও সতেজতার অনুভূতি দিতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকে এটি আরামদায়ক লাগতে পারে।
ব্যবহারের আগে যে বিষয়টি মনে রাখবেন
ঘরোয়া উপকরণ মানেই সবার ত্বকে নিরাপদ এমনটা নয়। প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতের ভেতরের অংশে বা ত্বকের ছোট জায়গায় অল্প পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা অন্য কোনও অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
আর ঘরে তৈরি হওয়ায় এই জেল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা ঠিক নয়। পরিষ্কার পাত্রে অল্প পরিমাণ তৈরি করে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ব্রণ, অ্যালার্জি, ত্বকের দাগ বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে এই জেলকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।









