মায়েদের জীবনে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। সকাল থেকে রাত সন্তানের যত্ন, রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া, স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের নানা দায়িত্ব সামলাতেই কেটে যায় দিনের বড় একটি অংশ। নিজের জন্য একটু সময় বের করাও হয়ে ওঠে কঠিন। মায়েদের সেই নিরন্তর ব্যস্ততার মাঝে একদিন একটু থেমে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই পালিত হয় লেজি মম’স ডে।
প্রতি বছর ৪ সেপ্টেম্বর অনানুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় দিবসটি। নামের মধ্যে ‘অলস’ শব্দটি থাকলেও এর মূল উদ্দেশ্য অলসতাকে উৎসাহ দেওয়া নয়, বরং মায়েদের প্রতিদিনের দায়িত্ব ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্তত একদিনের জন্য তাদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
মায়েরও দরকার একদিনের ছুটি
মা দিবসেও বিশ্বের অসংখ্য মা রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবারের নানা কাজ সামলাতে ব্যস্ত থাকেন। লেজি মম’স ডে তাই মায়েদের উদ্দেশে যেন বলে আজ কিছু না করলেও চলবে। কাজ থাকুক আগামী দিনের জন্য।
এই দিনে মায়েদের উৎসাহ দেওয়া হয় ঘরের কাজ থেকে বিরতি নিয়ে নিজের মতো করে সময় কাটাতে। দীর্ঘ ঘুম, পছন্দের বই পড়া, টেলিভিশনে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা কিংবা নিরিবিলিতে বসে থাকা যে যেভাবে স্বস্তি পান, সেভাবেই কাটাতে পারেন দিনটি।
কীভাবে কাটাবেন দিনটি
লেজি মম’স ডে-তে সকালের নাশতা তৈরির দায়িত্ব সন্তানদের ওপর দেওয়া যেতে পারে। বিছানায় বসে নাশতা খাওয়ার অভিজ্ঞতাও হতে পারে দিনের বিশেষ আনন্দ। সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব কিছুটা সঙ্গীর ওপর ছেড়ে দিয়ে মা নিজের জন্য সময় বের করতে পারেন।
ঘর পরিষ্কার, বাসন ধোয়া কিংবা রান্নার মতো কাজও একদিনের জন্য বাদ দেওয়া যায়। রান্না করতে ইচ্ছা না হলে পছন্দের খাবার অর্ডার করাই হতে পারে সহজ সমাধান। তবে কারও কাছে রান্নাবান্নাই যদি আনন্দের হয়, তাহলে নিজের পছন্দের রান্না করেও দিনটি কাটানো যেতে পারে।
অনেকে আবার স্পা বা বিউটি সেলুনে গিয়ে নিজের যত্ন নিতে পছন্দ করেন। ম্যাসাজ, ফেসিয়াল কিংবা শুধু কিছুটা নিরিবিলি সময়—সবই হতে পারে নিজের যত্ন নেওয়ার অংশ। কেউ চাইলে দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করতে পারেন, কেউ আবার ঘুমিয়ে পূরণ করতে পারেন জমে থাকা ঘুম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিরতি
শুধু ঘরের কাজ নয়, লেজি মম’স ডে-তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিরতি নেওয়া যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দূরে থাকা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দিলেও অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
তাই এই দিনে ফোনটি কিছু সময়ের জন্য দূরে রেখে বই পড়া, গান শোনা, ঘুম কিংবা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া যেতে পারে। উদ্দেশ্য একটাই দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে মানসিকভাবে সতেজ হওয়া।
অলসতা নয়, নিজের যত্ন
অনেকেই অলসতাকে মানুষের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেন। কিন্তু বিশ্রাম নেওয়া আর অলসতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নিয়মিত বিশ্রাম ও নিজের জন্য সময় রাখা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে থাকলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। বিপরীতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ঘুমের মান উন্নত করতে, উদ্বেগ কমাতে এবং কর্মশক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। তাই নিজের জন্য কিছুটা ‘মি টাইম’ রাখা কোনও বিলাসিতা নয়, বরং আত্মযত্নেরই অংশ।
মাকে দিন একটু বাড়তি আদর
আপনি যদি নিজে মা না হন, তাহলেও লেজি মম’স ডে উদযাপনের সুযোগ রয়েছে। নিজের মা, বোন, স্ত্রী কিংবা পরিচিত কোনো মাকে অন্তত একদিনের জন্য কাজ থেকে বিরতি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
মায়ের জন্য নিজের হাতে রান্না করে খাবার পরিবেশন করা হতে পারে চমৎকার একটি উপহার। বিশেষ কোনো রান্না না জানলেও সমস্যা নেই। মায়ের জন্য কিছু করার আন্তরিক চেষ্টাটিই গুরুত্বপূর্ণ। চাইলে দুজন মিলে বিকেলের চা-আড্ডা দিতে পারেন, কিংবা মাকে স্পা-তে নিয়ে গিয়ে একটু আদর-যত্নের সুযোগ করে দিতে পারেন।
দামি উপহারেরও প্রয়োজন নেই। পরিবারের সদস্যদের সামান্য সহযোগিতা, কিছুটা নিরিবিলি সময় এবং আন্তরিক প্রশংসাই হতে পারে মায়ের জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপহার।
মায়েদের নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি
লেজি মম’স ডে মূলত মায়েদের প্রতিদিনের একঘেয়ে ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ থেকে অন্তত একদিনের জন্য ছুটি নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। ঘর-সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক মা নিজের প্রয়োজন ও বিশ্রামের কথা ভুলে যান।
তাই এই দিনটি শুধু ‘অলস’ হয়ে থাকার উপলক্ষ নয়। এটি মায়েদের শ্রম, ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোরও একটি সুযোগ।
একটি ছোট্ট বার্তা পাঠিয়ে মাকে জানানো যেতে পারে ‘তুমি যা করো, তার সবকিছুর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ কারণ অন্যদের যত্ন নিতে নিতে কখনো কখনো মায়েরাও শুনতে চান, তাদের যত্ন ও পরিশ্রমের মূল্য আছে।
লেজি মম’স ডে তাই মায়েদের জন্য একটি সহজ বার্তা বহন করে প্রতিদিন সবার যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি নিজের যত্ন নেওয়ার অধিকারও আপনার আছে। আজ একটু বিশ্রাম নিন, কাজ থাকুক কালকের জন্য।









