ভয়, সংশয় কিংবা অনিশ্চয়তা জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এসব অনুভূতির মুখোমুখি হন সবাই। তবে ভয়কে জীবনের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে না দিয়ে সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই দেয় নির্ভয়ে বাঁচার দিন। নিজের আরও সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী সত্তাকে আবিষ্কার করার আজকের এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, ভয় থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন করে শুরু করা, সত্য কথা বলা কিংবা নতুন কিছু চেষ্টা করা লক্ষ্য একটাই, ভয়কে জীবনের নিয়ন্ত্রক হতে না দেওয়া। সাহস মানে কখনো ভয় না পাওয়া নয়, বরং ভয় থাকা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে যাওয়াই সাহস। চিন্তাভাবনার এই পরিবর্তন জীবনে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
ভয়ের কারণে অনেক মানুষ জীবনের নানা সম্ভাবনা ও বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ভয় তাদের এক জায়গায় আটকে রাখে। নির্ভয়ে বাঁচার দিন সেই অবস্থান বদলে নতুনভাবে পথ চলার অনুপ্রেরণা দেয়।
নিজের একটি ভয়কেও যদি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়, তা আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারে। একটি ছোট সাহসী পদক্ষেপ থেকেই জন্ম নিতে পারে আরও অনেক আত্মবিশ্বাস।
প্রতিবার নিজের ভেতরের সেই নীরব কণ্ঠস্বরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে সেটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই দিনে অংশ নিতে পাহাড়ে উঠতে হবে কিংবা সবার সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
কখনও কখনও সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপটিই হয় সবচেয়ে ছোট। নির্ভয়ে বাঁচার দিন সেই সাহসী মুহূর্তগুলোকে উদ্যাপন করে, যখন কেউ এমন কোনো কিছুকে ‘হ্যাঁ’ বলেন, যা একসময় তার কাছে অসম্ভব মনে হয়েছিল। আর সেই ছোট্ট পদক্ষেপ থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় এগিয়ে যাওয়ার গতি ও আত্মবিশ্বাস।
নির্ভয়ে বাঁচার দিনটি ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের তরুণী ল্যান্ড্রি চ্যামপ্লিন দিবসটির সূচনা করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ভয় ও সংশয় কীভাবে মানুষকে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে বাধা দেয়। সেই উপলব্ধি থেকেই মানুষের মধ্যে সাহস জাগানো এবং ভয়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে দিবসটির প্রচলন করেন।
ল্যান্ড্রি নিজেও জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাগুলোকে নিজের পরিচয়ের নির্ধারক হতে না দিয়ে তিনি সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই তাঁর মনে ভাবনা আসে আরও বেশি মানুষকে যদি জীবনে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা যায়, তাহলে কেমন হয়?
তিনি চেয়েছিলেন, মানুষ জানুক ভয় তাদের থামিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী নয়। জীবনের কোনও না কোনও সময়ে সবারই উদ্বেগ, ভয় কিংবা অনিশ্চয়তা কাজ করে। এটি স্বাভাবিক। তবে এসব অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। নির্ভয়ে বাঁচার দিনের মূল বার্তাও সেটিই।
সবসময় নিখুঁত বা সম্পূর্ণ নির্ভীক হয়ে থাকা নয়, বরং ভয় থাকলেও সাহস করে চেষ্টা করে যাওয়াই এই দিনের মূল শিক্ষা।
দিবসটি চালু হওয়ার পর থেকে এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে নিজের জীবনে কী কী বিষয় তাকে পিছিয়ে রাখছে, সেদিকে ফিরে তাকাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নিজেকে করা যেতে পারে একটি সহজ প্রশ্ন “ভয় যদি আমাকে থামিয়ে না দিত, তাহলে আমি কী করতাম?”
এই একটি প্রশ্নই কোনও চ্যালেঞ্জকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। ল্যান্ড্রির বার্তার মূল কথাও তাই সাহস করে প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়া। সেই পদক্ষেপ বড় হোক কিংবা ছোট, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর সেই সিদ্ধান্তই কখনও কখনও জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
কীভাবে উদ্যাপন করবেন
এমন একটি বিষয় বেছে নিন, যেটি করতে আপনি দীর্ঘদিন ধরে এড়িয়ে চলছেন। হতে পারে সবার সামনে কথা বলা কিংবা কোনও নতুন ক্লাসে ভর্তি হওয়া। সেটির দিকে এগিয়ে যেতে ছোট্ট একটি পদক্ষেপ নিন। সামান্য একটি উদ্যোগও চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
এমন একটি সময়ের কথা ভাবুন, যখন ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কোনো বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। চাইলে অনলাইনেও লিখে প্রকাশ করতে পারেন। আপনার গল্প হয়তো অন্য কাউকেও জীবনে সাহসী একটি পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করবে।
অপরিচিত কোনও শখের চর্চা শুরু করুন, নতুন কোনও খাবারের স্বাদ নিন কিংবা হাঁটার সময় পরিচিত পথের বদলে ভিন্ন কোনও পথ বেছে নিন। নতুন অভিজ্ঞতা দৈনন্দিন একঘেয়েমি কাটানোর পাশাপাশি চিন্তার পরিধিও বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যতের নিজের উদ্দেশে একটি ছোট চিঠি লিখুন। কঠিন সময় এলেও যেন থেমে না যান, সেজন্য নিজেকেই উৎসাহ দিন। পরে সেই চিঠি পড়লে নিজের শক্তি ও সাহসের কথা নতুন করে মনে পড়বে।
কিছুটা সময় নিয়ে ভাবুন, আপনার কাছে নির্ভয়ে বাঁচার অর্থ কী। সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এরপর লক্ষ্য পূরণের পথে প্রথম পদক্ষেপটি নিন। ছোট্ট একটি উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।









