দৃষ্টিহীনদের নিয়েই স্পা খুলেছিলেন শ্রিয়া সরন, নেপথ্যের কারণ জানালেন অভিনেত্রী

জীবনযাপন ডেস্ক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩০আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩০

স্পা মানেই সাধারণত প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের হাতে শরীরের ক্লান্তি দূর করা, কিছুটা আরাম আর নিজের যত্ন নেওয়ার সময়। কিন্তু অভিনেত্রী শ্রিয়া সরনের স্পা ছিল একেবারেই আলাদা। সেখানে থেরাপিস্ট ও ম্যাসাজকর্মীদের একটি বড় অংশই ছিলেন দৃষ্টিহীন। কারও দৃষ্টিশক্তি ছিল না বললেই চলে, আবার কেউ সীমিতভাবে দেখতে পেতেন। তবু দক্ষতার জায়গায় কোনও ছাড় ছিল না।

অভিনয়ের পাশাপাশি একসময় ব্যবসাতেও পা রেখেছিলেন শ্রিয়া। ২০১১ সালে মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালায় তিনি চালু করেন ‘শ্রী স্পা’। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির একটি বিশেষ নীতি ছিল দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সেখানে কর্মীদের শুধু নিয়োগই দেওয়া হয়নি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হতো।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির পর স্পাটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এত বছর পরও সেই উদ্যোগের পেছনের ভাবনাটি নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

শ্রিয়ার এই সিদ্ধান্তের সূত্র তার স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতায়। নয়াদিল্লির দিল্লি পাবলিক স্কুল, মথুরায় পড়াশোনার সময় স্কুলের বিপরীতে দৃষ্টিহীনদের একটি বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। প্রতিদিন যাতায়াতের পথে সেখানকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখতেন তিনি।

বিশেষ করে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট খেলতে দেখে ছোটবেলায় বিস্মিত হতেন শ্রিয়া। সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, দৈনন্দিন জীবনে নানা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

বিষয়টি নিয়ে নিজের মা নীরজার সঙ্গেও আলোচনা করতেন শ্রিয়া। সেখান থেকেই দৃষ্টিহীনদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা আসে। পরে সেই ভাবনাই রূপ নেয় স্পা ব্যবসায়।

শ্রিয়ার ধারণা ছিল, দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা কোনো ব্যক্তির দক্ষতার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। বরং স্পা থেরাপির ক্ষেত্রে স্পর্শের অনুভূতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় দৃষ্টিহীন থেরাপিস্টদের এই দক্ষতাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

তাই ‘শ্রী স্পা’-তে শুধু দৃষ্টিহীন কর্মীদের নিয়োগ দেওয়াই হয়নি, তাদের পেশাগতভাবে দক্ষ করে তুলতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কর্মীদের যোগ্যতা ও কাজের দক্ষতাকেই নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হতো।

শ্রিয়ার এই উদ্যোগ সৌন্দর্য ও সুস্থতার জগতের প্রচলিত ধারণার বাইরেও একটি সামাজিক বার্তা তুলে ধরে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে একজন মানুষ নিজের দক্ষতা দিয়ে পেশাগতভাবে সফল হতে পারেন।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের পর যেভাবে পোশাক কারখানায় আগুনের সূত্রপাত
আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের পর যেভাবে পোশাক কারখানায় আগুনের সূত্রপাত
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা অডিটে শাহজালালের চেয়ে এগিয়ে ওসমানী
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা অডিটে শাহজালালের চেয়ে এগিয়ে ওসমানী
সরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্ত্রী বা স্বামী, তবে....
সরকারি চাকরিজীবীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্ত্রী বা স্বামী, তবে....
জাপানে প্রমোদতরিতে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা
জাপানে প্রমোদতরিতে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা
সর্বাধিক পঠিত
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা
আটকের আগে অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছিল আনাস
আটকের আগে অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছিল আনাস
অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ
অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর থানার ওসিকে প্রত্যাহার
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর থানার ওসিকে প্রত্যাহার
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার