মেনুর ছবিতে খাবার এত সুন্দর, প্লেটে এলেই কেন বদলে যায়?

জীবনযাপন ডেস্ক
০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯

রেস্তোরাঁর মেনু, খাবারের বিজ্ঞাপন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও খাবারের ছবি দেখেই অনেকের জিভে জল চলে আসে। ছবিতে খাবারটি যতটা আকর্ষণীয়, সামনে পরিবেশন করার পর বাস্তবে সেটি দেখে অনেক সময় হতাশ হতে হয়। বার্গারের পুর যেন ছবির মতো উঁচু নয়, পিৎজার চিজ ততটা টানটান নয়, আবার কেক বা আইসক্রিমের সাজও ছবির মতো নিখুঁত নয়। প্রশ্ন উঠতেই পারে, একই খাবার হলে ছবির সঙ্গে বাস্তবের এত তফাত কেন?

এর পেছনে রয়েছে খাবারের ছবি তোলার বিশেষ কৌশল। বিজ্ঞাপনের জন্য খাবার সাজানোর সময় মূল লক্ষ্য থাকে সেটিকে যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করে তোলা। বাস্তবে খাওয়ার উপযোগী খাবার তৈরির চেয়ে ছবিতে সুন্দর দেখানোর বিষয়টি সেখানে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ছবির খাবার কেন এত নিখুঁত দেখায়?

খাবারের ছবি তোলার সময় আলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। নির্দিষ্ট দিক থেকে আলো ফেলে খাবারের রং, আকৃতি ও গঠনকে আরও উজ্জ্বল করে তোলা যায়। সঠিক ছায়া তৈরি হলে খাবারটি দেখতে আরও তাজা ও রসালো মনে হয়।

অনেক সময় খাবারের উপকরণও এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে ছবিতে প্রতিটি অংশ স্পষ্ট দেখা যায়। বার্গারের সবজি, মাংস ও পনির সামান্য উঁচু করে সাজানো হতে পারে। পিৎজার ক্ষেত্রে চিজকে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে তা গলানো ও টানটান দেখায়।

সব সময় কি ছবির খাবার খাওয়ার উপযোগী থাকে?

বিজ্ঞাপনের ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সব সময় খাবারটি সম্পূর্ণ রান্না করে পরিবেশন করার প্রয়োজন হয় না। কারণ বেশি রান্না করলে অনেক খাবারের রং ও আকৃতি বদলে যেতে পারে। ফলে ছবির জন্য কখনও কখনও খাবারকে এমন পর্যায়ে রাখা হয়, যাতে তা দেখতে সুন্দর থাকে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বিজ্ঞাপনের ছবিই নকল বা সাজানো। অনেক ক্ষেত্রেই আসল খাবারই ব্যবহার করা হয়, কিন্তু আলো, ক্যামেরার কোণ, সাজসজ্জা ও ছবির সম্পাদনার কারণে সেটি বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় দেখাতে পারে।

ক্যামেরার কারসাজিতেও বদলে যায় খাবারের চেহারা

ছবিতে খাবার কতটা বড় বা ছোট দেখাবে, সেটিও নির্ভর করে ক্যামেরার অবস্থানের ওপর। কাছ থেকে তোলা ছবি খাবারের আকারকে বড় ও বেশি ভরাট দেখাতে পারে। আবার নির্দিষ্ট কোণ থেকে ছবি তুললে খাবারের স্তরগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এর সঙ্গে যোগ হয় ছবির রং ও উজ্জ্বলতা সামান্য ঠিক করার বিষয়টি। ফলে ছবিতে যে খাবারটি দেখা যায়, বাস্তবে তার রং কিছুটা আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক।

তাহলে খাবারের ছবি দেখে কতটা প্রত্যাশা করা উচিত?

খাবারের ছবি মূলত ক্রেতার আগ্রহ তৈরি করার জন্য তৈরি করা হয়। তাই ছবিতে খাবারটি অত্যন্ত নিখুঁত দেখালেও বাস্তবে পরিবেশনের সময় তার আকৃতি, পরিমাণ, রং বা সাজসজ্জায় কিছুটা পার্থক্য থাকতেই পারে।

তাই কোনও খাবার অর্ডার করার আগে শুধু ছবির ওপর নির্ভর না করে খাবারটির বিবরণ, পরিমাণ এবং অন্য ক্রেতাদের অভিজ্ঞতাও দেখে নেওয়া ভালো। কারণ ক্যামেরায় যতটা নিখুঁত দেখায়, খাবারের আসল সৌন্দর্য শেষ পর্যন্ত বোঝা যায় তার স্বাদ ও গুণমানে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার স্বাদের সেই পুরোনো দিন, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী খাবার
নামেই লুকিয়ে খাবারের ইতিহাস, প্রিয় পদগুলোর নাম কীভাবে এলো?
গুদামে গ্যাস, বাজারে সংকট-গ্রাহকের পকেট কাটছে সিন্ডিকেট
সর্বশেষ খবর
ডাববোঝাই নছিমনকে অতিক্রম করতে গিয়ে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩
ডাববোঝাই নছিমনকে অতিক্রম করতে গিয়ে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ৩
‘বিশ্বের নায়ক’ সেই ভারতীয় পাইলটকে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে ডাকলেন নেতানিয়াহু
‘বিশ্বের নায়ক’ সেই ভারতীয় পাইলটকে ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে ডাকলেন নেতানিয়াহু
ঢেউয়ের আঘাতে প্রকৃতির কাছে হার মানলো ৫৫০ বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক বিস্ময়
ঢেউয়ের আঘাতে প্রকৃতির কাছে হার মানলো ৫৫০ বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক বিস্ময়
আখতারুজ্জামান পুরো বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের নেতা হয়ে গেছেন: জামায়াত আমির 
আখতারুজ্জামান পুরো বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের নেতা হয়ে গেছেন: জামায়াত আমির 
সর্বাধিক পঠিত
মিজু, মৌসুমী-ডিপজল নেননি কোনও পারিশ্রমিক, জানালেন নির্মাতা
মিজু, মৌসুমী-ডিপজল নেননি কোনও পারিশ্রমিক, জানালেন নির্মাতা
সাড়ে ৬ লাখ পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার, পাবে যেসব জেলা
সাড়ে ৬ লাখ পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার, পাবে যেসব জেলা
রূপপুরের বিদ্যুৎ এলে কতটা কমবে লোডশেডিং?
রূপপুরের বিদ্যুৎ এলে কতটা কমবে লোডশেডিং?
আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, সহযোগী সদস্য: এটিএম আজহার
আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, সহযোগী সদস্য: এটিএম আজহার
‘চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আর কেউ নির্বাচনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন না’
‘চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আর কেউ নির্বাচনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন না’