প্রতিদিনই অন্যের জন্য ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে। তবে মানুষের প্রতি সদয় আচরণ, সহমর্মিতা ও মানবিকতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার একটি দিন হলো ভালো কিছু করার দিবস। এই দিনের মূল বার্তা হলো কোনও প্রত্যাশা ছাড়াই অন্যের জন্য ভালো কিছু করা এবং ছোট্ট একটি কাজের মাধ্যমে কারও মুখে হাসি ফোটানো।
ভালো কাজ মানেই বড় কোনও আয়োজন নয়। প্রিয় মানুষটির জন্য চমকপ্রদ কিছু করা, বন্ধুর খোঁজ নেওয়া, পরিবারের কারও প্রশংসা করা কিংবা কোনও সেবাকর্মীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানানোর মতো ছোট কাজও হতে পারে এই দিনের সুন্দর উদযাপন।
ব্যস্ত জীবনে অনেক ভালো কথা আমরা মনে মনে ভাবলেও মুখে বলা হয়ে ওঠে না। তাই এই দিনটি হতে পারে সেই না-বলা কথাগুলো প্রকাশ করার উপলক্ষ। প্রতিবেশীর বাগানের সুন্দর ফুলের প্রশংসা করা কিংবা কারও নতুন চুলের ছাঁট দেখে ভালো লাগার কথা বলাও তার দিনটিকে আনন্দময় করে তুলতে পারে।
ভালো কাজের সুফলও আছে
অন্যের জন্য ভালো কিছু করলে শুধু সেই মানুষটিই আনন্দ পান না, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে নিজের ওপরও। গবেষণায় দেখা গেছে, সদয় আচরণ শরীরে অক্সিটোসিনের মতো হরমোনের নিঃসরণে ভূমিকা রাখতে পারে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়ক।
অন্যের জন্য কিছু করা মানুষের মধ্যে তৃপ্তি, আত্মতৃপ্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি বাড়াতে পারে। নিয়মিত পরোপকারী আচরণের সঙ্গে ভালো মেজাজ এবং বিষণ্নতার কম ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার সঙ্গে কম ব্যথা-বেদনা এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমার সম্পর্কের কথাও কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।
দাতব্য কাজেও পাশে দাঁড়ানো যায়
ভালো কিছু করার আরেকটি উপায় হলো সামর্থ্য অনুযায়ী কোনও জনকল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করা। অনুদানের পরিমাণ বড় হওয়া জরুরি নয়। শিশুদের কল্যাণ, চিকিৎসাসেবা, বিপন্ন প্রাণীর সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তা কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণের মতো কাজে সামান্য সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ছাড়া মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়। একই মানসিকতার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করলে ভালো কিছু করার আগ্রহ ও উৎসাহ আরও বাড়তে পারে।
মানবিকতার ইতিহাসও দীর্ঘ
অন্যের জন্য ভালো কিছু করার ধারণা মানবসভ্যতার মতোই পুরোনো। যুদ্ধ, সংঘাত ও দুর্ভোগের পাশাপাশি ইতিহাসে মানুষের সহমর্মিতা ও সাহসিকতার অনেক ঘটনাও রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেক মানুষ নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে নির্যাতিত মানুষদের রক্ষা করেছিলেন। নেদারল্যান্ডসের কোরি টেন বুম নিজের বাড়িতে ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। অস্কার শিন্ডলারও নাৎসি দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অন্তত ১ হাজার ২০০ ইহুদিকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখেন।
তবে ভালো কিছু করার জন্য এমন বড় ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারও প্রতি সহানুভূতি দেখানো, প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা কাউকে উৎসাহ দেওয়ার মতো ছোট কাজও অনেক বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
তাই শুধু ভালো কিছু করার বিশেষ দিনেই নয়, প্রতিদিনই একটি ছোট ভালো কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। আপনার কাছে যা সামান্য, সেটিই হয়তো অন্য কারও দিনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।