গ্রীষ্মের গরমে পরীক্ষা

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা যেভাবে নিতে হবে

মো. মোসাব্বির রাহমান
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৪আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৪

গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম, ক্লান্তি আর অস্বস্তি। এর মধ্যেই যখন পরীক্ষার চাপ এসে যুক্ত হয়— তখন শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে ওঠে আরও কঠিন। শুধু শারীরিক নয় বরং মানসিক দিক থেকেও এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

গরমে বাড়ে মানসিক চাপ (ছবি সংগৃহীত)

গরম ও মানসিক চাপ: একটি অদৃশ্য সম্পর্ক
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

প্রয়োজন পরিমিত ঘুম (ছবি সংগৃহীত)

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব
গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে— যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ সময় দরকার সুষম খাবার (ছবি সংগৃহীত)

হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য
শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা
গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

মানসিক চাপ কমানোর কৌশল
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা বা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

অভিভাবকদের ভূমিকা
এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন
যদি কোনও শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে, তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

লেখক: মেন্টাল হেলথ অ্যাডভোকেট, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী, ইয়াসফা মেডিটেক

 

 

 

 

 

 

/এপিএইচ/এমএএল/
সম্পর্কিত
২০২৭ সালের এসএসসির রুটিন প্রকাশ
২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ
শতভাগ জিপিএ-৫ নিয়ে বিতর্ক, নরসিংদীর সেই স্কুলকে শোকজ
সর্বশেষ খবর
এক টিকিটেই বাড়তি দেশ ঘোরা! বাংলাদেশি যাত্রীরা ট্রানজিটে পাবেন যে সুবিধাগুলো
এক টিকিটেই বাড়তি দেশ ঘোরা! বাংলাদেশি যাত্রীরা ট্রানজিটে পাবেন যে সুবিধাগুলো
‘বিমান খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সংশোধন হচ্ছে বিধিমালা’
‘বিমান খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সংশোধন হচ্ছে বিধিমালা’
আগস্টে রেমিট্যান্স এলো ২৯৭ কোটি ডলার
আগস্টে রেমিট্যান্স এলো ২৯৭ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ইঞ্জিনে প্রথমবার ট্রেনযাত্রা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, বললেন ‘চমৎকার ভ্রমণ ছিল’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ইঞ্জিনে প্রথমবার ট্রেনযাত্রা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের, বললেন ‘চমৎকার ভ্রমণ ছিল’
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন
এক জেলার ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
এক জেলার ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন
নির্বাচনের ৭ বছর পর রাশেদ খাঁনকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা
নির্বাচনের ৭ বছর পর রাশেদ খাঁনকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা