বাংলাদেশে এলো গবাদি পশুর সুরক্ষায় বীমা

Send
হৃদয় সম্রাট
প্রকাশিত : ২০:৪৭, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৯, নভেম্বর ১২, ২০১৯

বাংলাদেশে দুধ ও মাংসশিল্পের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো গবাদি পশুর জন্য বীমা পদ্ধতি চালু করেছে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

বর্তমান বছরে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে গবাদি পশুকে বীমার আওতায় আনতে ‘ক্যাটেল ইনস্যুরেন্স পলিসি’ নামে এই প্রকল্প শুরু হয়। এই পলিসির মাধ্যমে ৫ থেকে ৬ বছরের জন্য গবাদি পশুকে বীমার আওতায় আনা হচ্ছে। এই বীমার আওতায় আসা গবাদিপশু চুরি হলে, হারিয়ে গেলে অথবা কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া দেবে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স। এই ক্যাটেল ইনস্যুরেন্স পলিসির আইটি সাপোর্ট দিচ্ছে আইটি প্রতিষ্ঠান সূর্যমুখী।

গবাদি পশুর বীমার সম্পকে জানতে চাইলে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জামিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের খামারিদের পশু পালনের ঝুঁকি কমানোর জন্য আমরা এই ইনস্যুরেন্স পলিসি চালু করেছি। এর ফলে খামারিদের কোনও ঝুঁকি থাকছে না।

ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সে নির্বাহী পরিচালক মো. রফিকুল রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে গবাদি পশু পালনের জন্য একটি উজ্জল ভবিষ্যত রয়েছে। যদি আমরা এই খামারিদের সহায়তা করতে পারি তাহলে আমাদের মাংস ও দুধের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবো।

 ক্যাটেল ইনস্যুরেন্স পলিসি অন্যতম উদ্যোক্তা ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের ডিজিএম নাহিদ সুলতানা বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে ক্যাটেল ইনস্যুরেন্স রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে নেই, তাই এই বিষয়টা নিয়ে আমরা ভাবা শুরু করি। ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স ও আইটি ফার্ম সূর্যমুখীর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজটি শুরু করা হয়।

পাবনার রহমান ডেইরি ফার্মের  খামারি আব্দুর রহমান জানান, আমার খামারে প্রায় ১৭ টি গরু আছে, এখানে ৯ টি গরুকে আমি এই ইন্সুরেন্সের আওতায় এনেছি। পাঁচ-ছয় মাস যাবত আমি এই প্রতিষ্ঠানের বীমা সুবিধা গ্রহণ করেছি। এখন পর্যন্ত কোনও রকমের সমস্যার সম্মুখীন হইনি। 

ফিনিক্স যে যে ধরনের সহায়তা ও কাজ করবে খামারিদের জন্য:

১. বাংলাদেশের অধিকাংশ খামারি নিজ খরচে গবাদিপশু পালন করে। যেকোনও রকমের দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে গবাদি পশু মারা যাওয়ার ঝুঁকির জন্য অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খামারিদের ঋণ দিতে চায় না। ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এখন গবাদি পশুকে ইনস্যুরেন্সের আওতায় নিয়ে আসায় খামারিদের জন্য ঋণ পাওয়া সহজ হবে।

২. রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (আরএফ) আইডেনটিফিকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে বীমার আওতায় আসা গবাদিপশুর সঠিক স্বাস্থ্য, রোগ-বালাইয়ের তথ্য ও অবস্থান নির্ণয় করার সুবিধা থাকছে।

৩. রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল সফটওয়্যারের মাধ্যমে গরুকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। ফলে অসুস্থ প্রাণীর দ্রুত সুচিকিৎসাও নিশ্চিত করা সম্ভব।

 ৪. প্রতিটি গবাদি পশুর বীমা অঙ্ক ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খামারের প্রত্যেকটি পশুকে আলাদাভাবে বীমা করতে হয়। প্রতিটি পশুর মৃত্যুজনিত বার্ষিক প্রিমিয়াম বীমা করা টাকার হার সাড়ে চার শতাংশ, চুরি হলে কিংবা হারিয়ে গেলে বার্ষিক প্রিমিয়াম আড়াই শতাংশ। কোনও পশু অসুস্থ হলে কিংবা আহত হয়ে পঙ্গু হলে তার পুরো চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে বীমা কোম্পানি। এছাড়াও প্রিমিয়ামে পাশাপাশি প্রতিটি গরুর পাকস্থলীতে বসানো বায়োসেন্সরের জন্য এককালীন ১ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা দিতে হয়।

৫. বীমা করা পশুর তথ্য জানতে প্রতিটি গরুর পাকস্থলীতে একটি বায়োসেন্সর প্রবেশ করানো হয়। এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ করে। এই বায়োসেন্সর গবাদি প্রাণীর পাকস্থলীতে অন্তত পাঁচ বছর কার্যকর থাকে। তবে এটি গবাদি পশুর কোন ক্ষতি করবে না বলে জানিয়েছেন ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি। তাদের ক্যাটেল ইনস্যুরেন্স পলিসির এই বায়োসেন্স সরবরাহ করছে আইটি প্রতিষ্ঠান সূর্যমুখী প্রাণীসেবা।

/এফএএন/

লাইভ

টপ