শুধু শরীর নয়, মনও ভালো রাখতে পারে ফলের রস

জীবনযাপন ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭

টাটকা ফলের রস বা স্মুদি কি সত্যিই মন ভালো রাখতে পারে? হ্যাঁ, নতুন এক গবেষণায় মিলেছে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত।

শরীর সুস্থ রাখতে ফল ও শাকসবজির গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। এবার যুক্তরাজ্যের নিউ ক্যাসল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায়, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক গ্লাস ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি যোগ করার সঙ্গে অবসাদের লক্ষণ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালের মে মাসে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনে। এটি ছিল চার সপ্তাহের একটি র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল্ড ট্রায়াল। গবেষণায় অংশ নেন ৪২ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক, যারা শুরুতে দিনে দুই বা তার কম পরিমাণ ফল ও শাকসবজি খেতেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস বাড়িয়ে দিনে পাঁচ পরিমাণ ফল ও শাকসবজি খাওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া হয়। একদলকে শুধু গোটা ফল ও শাকসবজি খেতে বলা হয়। অন্যদল গোটা ফল ও শাকসবজির পাশাপাশি প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস বা স্মুদি খান।

চার সপ্তাহ পর দেখা যায়, দুই দলই ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ফলের রস বা স্মুদি খাওয়া দলের ক্ষেত্রে অবসাদের সূচকে তুলনামূলক বেশি উন্নতি দেখা গেছে। ২৭ পয়েন্টের একটি স্কেলে তাদের অবসাদের স্কোর নিয়ন্ত্রণ দলের তুলনায় গড়ে ২ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কম ছিল। গবেষকেরা এটিকে পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, তবে তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রার পার্থক্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দিনে কত বার

এখানেই গবেষণাটি নিয়ে একটি ভুল ধারণা এড়ানো জরুরি। গবেষণায় দিনে পাঁচবার ফলের রস খাওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং অংশগ্রহণকারীরা পাঁচ-পরিমাণ ফল ও শাকসব্জির লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস বা স্মুদি গ্রহণ করেছেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া দুই দলের খাদ্যতালিকাতেই ফাইবারের পরিমাণ প্রতিদিন আনুমানিক ৮ থেকে ১০ গ্রাম বেড়েছিল। চার সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে ফলের রস বা স্মুদি গ্রহণকারী দলের বিপাকীয় স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সূচকেও নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে এত অল্প সময়ের গবেষণা থেকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বা উপকারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

গবেষণার অন্যতম জ্যেষ্ঠ গবেষক নিউ ক্যাসল ইউনিভার্সিটির পুষ্টি ও বার্ধক্যবিষয়ক প্রভাষক অলিভার শ্যাননের মতে, ফলের রস গ্রহণের সঙ্গে অবসাদের স্কোর কমার এই ফল আশাব্যঞ্জক। তবে বিশেষ করে যাদের মানসিক সুস্থতা খারাপ, তাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভালোভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে গবেষণা প্রয়োজন।

তবে এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অংশগ্রহণকারী ছিলেন মাত্র ৪২ জন এবং গবেষণাটি চলেছে চার সপ্তাহ। ফলে ফলের রস বা স্মুদি বিষণ্ণতার চিকিৎসা করে এমন দাবি করার মতো প্রমাণ এই গবেষণা দেয় না। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ফল ও শাকসবজি বাড়ানোর সম্ভাব্য মানসিক উপকারের দিকে গবেষণাটি ইঙ্গিত করছে।

আর একটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি অর্থায়ন করেছে ফ্রুট জুস সাইন্স, যা ফল উৎপাদক, জুস প্রস্তুতকারী ও প্যাকেজিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত একটি বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যসংস্থা। গবেষকেরা জানিয়েছেন, গবেষণার নকশা, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের সিদ্ধান্তে একাডেমিক গবেষকরাই দায়িত্বে ছিলেন।

অর্থাৎ, মন খারাপ হলেই শুধু ফলের রস খেয়ে সমস্যার সমাধান হবে, এমনটা নয়। তবে সুষম খাদ্যতালিকায় নিয়মিত ফল ও শাকসবজি রাখার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে, আর নতুন এই গবেষণা সেই সম্ভাবনারই আরও একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয় পেতে বাংলাদেশের দরকার ৫৭ রান
অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয় পেতে বাংলাদেশের দরকার ৫৭ রান
মানুষের ক্ষত মুছে সবুজে ফিরেছে যে বন, ঘুরে আসুন সোদেরওসেনে
মানুষের ক্ষত মুছে সবুজে ফিরেছে যে বন, ঘুরে আসুন সোদেরওসেনে
কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী
কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী
১৩৫০ টাকার সার ১৭০০ টাকায় কিনছেন কৃষকরা, সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা
১৩৫০ টাকার সার ১৭০০ টাকায় কিনছেন কৃষকরা, সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা
সর্বাধিক পঠিত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য কে এই ফরহাদ হালিম ডোনার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য কে এই ফরহাদ হালিম ডোনার
আবার খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স
আবার খোলা হলো শাহজালাল মাজারের দানবাক্স
প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
আমার ওপর হামলা হয়েছে, আমি সরকারদলীয় এমপি হয়েও নিরাপদ নই
আমার ওপর হামলা হয়েছে, আমি সরকারদলীয় এমপি হয়েও নিরাপদ নই
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি: শিক্ষামন্ত্রী