ইরানের নারীবাদী লেখক শাহরনুশ পারসিপুর ৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার মারা গেছেন। নারীবাদী সাহিত্য ও রাজনৈতিক সাহসিকতার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন।
পারসিপুর ইরানের নারীবাদী সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘উইমেন উইদাউট মেন’ ও ‘তুবা অ্যান্ড দ্য মিনিং অব নাইট’। এসব লেখায় তিনি ইরানের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং নারীর ওপর নিপীড়নের বিষয় তুলে ধরেছেন।
১৯৪৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন শাহরনুশ পারসিপুর। তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পড়েন। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ডগ অ্যান্ড দ্য লং উইন্টার’। এই উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি ইরানের দ্বিতীয় নারী ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি পান। এর আগে ১৯৬৯ সালে সিমিন দানেশভার তার ‘সুভাশুন’ উপন্যাসের মাধ্যমে ইরানের প্রথম নারী ঔপন্যাসিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
পারসিপুরের জীবনে বারবার কারাবরণের ঘটনা ঘটেছে। শাহ আমলের গোপন পুলিশ সাভাকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রথমবার তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সময় ১৯৮০-এর দশকে প্রায় চার বছর সাত মাস বিনা অভিযোগে কারাগারে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লেখেন ‘প্রিজন মেমোয়ার’।
১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয় তার ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘তুবা অ্যান্ড দ্য মিনিং অব নাইট’। এতে বিশ শতকের পরিবর্তনশীল ইরানের পটভূমিতে তুবা নামের এক নারীর জীবন তুলে ধরা হয়েছে।
একই বছর প্রকাশিত হয় তার সবচেয়ে আলোচিত উপন্যাস ‘উইমেন উইদাউট মেন’। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘মেন উইদাউট উইমেন’ বইয়ের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা হয় এর নাম। ১৯৫৩ সালের ইরানের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের সময় তেহরানের পাঁচ নারীর গল্প নিয়ে লেখা এই উপন্যাসে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে নারীর লড়াই তুলে ধরা হয়েছে।
বইটি ইরানে গোপনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এক কর্মকর্তার স্ত্রী বইটি পড়ার পর পারসিপুর আবারও গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ ছিল, তিনি নারীর যৌনতা নিয়ে খোলামেলা লিখেছেন।
১৯৯৪ সাল থেকে পারসিপুর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নির্বাসনে জীবন কাটান। ২০২৬ সালে তার ‘উইমেন উইদাউট মেন’ প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয় এবং ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় স্থান পায়।








