জীবনানন্দের মৃত্যু: আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা?

এম আবদুল আলীম
২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫০ আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২৯

আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)। তাকে ত্রিশোত্তর বাংলা কাব্যের প্রধান কবি বললে এতটুকু অত্যুক্তি হয় না। বস্তুত, রবীন্দ্রকাব্যধারার বিপরীতে বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র ধারা নির্মাণ করে জীবনানন্দ দাশ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তার কবিতা ভাবনা অত্যন্ত পরিশীলিত এবং সুগভীর জীবন উপলব্ধিতে প্রদীপ্ত। জীবনকে দেখার এবং উপলব্ধি করার অভিনব ক্ষমতার গুণেই তার কবিতা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য-পুরাণ, প্রেম-নারী-প্রকৃতি, যুগযন্ত্রণা-বিচ্ছিন্নতাবোধ-মৃত্যুচেতনা এবং মানব প্রবৃত্তির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় তার কবিতা ভাবনার মূলীভূত উপাদান।

ইউরোপীয় সাহিত্য, দর্শন ও চিত্রকলার সঙ্গে নিবিড় পরিচয় ছিল এই কবির। ফলে বাংলা কবিতার শরীরে নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রবণতা তার মধ্যে পরিদৃষ্ট হয়। যতই দিন গড়াচ্ছে গবেষকদের অনুসন্ধিৎসু চোখে প্রকাশিত হচ্ছে জীবনানন্দ দাশের কবিসত্তার বিচিত্র দিগন্ত। নানাভাবে-অনুভবে বিশ্লেষিত হচ্ছে এই কবির ব্যক্তিজীবন, জীবন-দর্শন, তার দেশ-কালের সঙ্গে কবিতা ভাবনার সম্পর্ক এবং তার কবিতার নিরীক্ষামূলক প্রবণতাসমূহ। অন্যান্য বিষয়ের মতো কবির মৃত্যু সম্পর্কেও চলছে অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। তিনি ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন এবং হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, সে বিষয়ের আলোকপাত-মানসেই এ প্রবন্ধের অবতারণা।

জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন বরিশালের এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে। মা কুসুমকুমারী দাশের কবিতাচর্চার কথা সকলেই জানে। বাল্যকাল থেকে জীবনানন্দ দাশ বেড়ে উঠেছিলেন এক পরিশীলিত ও সুরুচিসম্পন্ন পারিবারিক আবহে। তার ব্যক্তিজীবন ও কবিমানসে এর প্রভাব উপেক্ষণীয় নয়। ছিলেন সংযমী এবং মৃদুভাষী। ধীর, স্থির, শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি নীরবে-নিভৃতে কেবল কাব্যলক্ষ্মীর আরাধনা করে গেছেন। চাতুর্য ও কৌশল খাটিয়ে বৈষয়িক সমৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টা কখনোই করেননি। তার সংসার-জীবন যে সুখের ছিল না, তার মূলে এই নির্মোহ জীবন-যাপনকে অনেকে দায়ী করেছেন। যুগজীবনের সংঘাত, দ্বন্দ্ব-কলহ, অর্থনৈতিক অবস্থা, যুদ্ধোত্তর সঙ্কট জীবনানন্দ দাশকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। তার কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে মানবজীবনের ক্ষত-বিক্ষত অভিব্যক্তির শিল্পিত রূপ, বারবার এসেছে মৃত্যুর বিষয় এবং ব্যক্তিজীবনের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা। যুগজীবনের জটিলতায় মুষড়ে পড়েছিলেন। মানবজন্ম তার কাছে অসাড় মনে হয়েছিল। তাই প্রকৃতির বুকে আশ্রয় নিয়ে জীবনের জ্বালা মেটানোর জন্য লিখেছিলেন:

“ঘাসের ভিতর ঘাস হয়ে জন্মাই কোনো এক নিবিড় ঘাস-মাতার
শরীরের সুস্বাদ অন্ধকার থেকে নেমে”
(‘ঘাস’, বনলতা সেন)

কিংবা:

“একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব
আবার কি ফিরে আসব না আমি পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটি হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে
কোন এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে।”
(‘কমলালেবু’, বনলতা সেন)

জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির মধ্যে আশ্রয় খুঁজেই ক্ষান্ত হননি, তিনি অনেক কবিতায় প্রত্যক্ষভাবে মৃত্যুকামনা করেছেন। কেননা যন্ত্রণাজর্জর জীবন অপেক্ষা মৃত্যু অনেক ভালো। সেজন্য তিনি লিখেছিলেন:

“মৃত্যুরে বন্ধুর মত ডেকেছি তো, —প্রিয়ার মতন!—
চকিত শিশুর মত তার কোলে লুকিয়েছি মুখ;
রোগীর জ্বরের মতো পৃথিবীর পথের জীবন;
অসুস্থ চোখের পরে অনিদ্রার মতন অসুখ;”
(‘জীবন’, ধূসর পাণ্ডুলিপি)

এভাবে ‘ধুসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’ এবং ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের বিভিন্ন কবিতায় কবি প্রত্যক্ষভাবে মৃত্যুচিন্তা করেছেন। এ পর্বের কবিতাগুলোতে দেখা যায় মানুষের প্রতি তার চরম অবিশ্বাস ও ঘৃণা। হতাশা, ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন তার কবিমন। অন্তর্জ্বালায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে লিখেছিলেন: “ছিঁড়ে গেছি, ফেঁড়ে গেছি; পৃথিবীর পথে হেঁটে, হেঁটে।” আরও লিখেছেন: “আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন।” কখনো বিচ্ছিন্নতা বা একাকিত্বের যন্ত্রণায় উচ্চারণ করেছেন:

“সব কাজ তুচ্ছ হয়, পণ্ড মনে হয়,
সব চিন্তা প্রার্থনার সকল সময় শূন্য মনে হয়
শূন্য মনে হয়।”
(‘বোধ’, ধূসর পাণ্ডুলিপি’)

কবির এই হতাশা, ক্লান্তি, বিচ্ছিন্নতাবোধ এবং মৃত্যুচেতনার মূলে অনেকে দাম্পত্য অশান্তি, অর্থকষ্ট এবং উদাসীন জীবনযাপনকে দায়ী করেছেন। স্ত্রী লাবণ্য দাশের সঙ্গে জীবনানন্দের মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। কবির ভ্রাতুষ্পুত্র অমিতাভ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন:

“জীবনানন্দ দাশের বিয়ে সম্বন্ধ করে হয়েছিল, তার সম্মতিতেই। ... কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওদের দু’জনের মধ্যে ভালো মনের মিল হয় নি।”

সঞ্জয় ভট্টাচার্য লিখেছেন:

“জীবনানন্দের পারিবারিক অনেক ঘটনাই জানি; যা খুব একটা সুখের ছিল না। ওর বউয়ের সাথে প্রতিদিন একটা দ্বন্দ্ব—আমাকে বলতো।”

অর্থনৈতিকভাবেও কবি সচ্ছল ছিলেন না—অভাব-অনটন ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। তার সমকালও ছিল অস্থির-ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। দুটি মহাযুদ্ধু, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, হিন্দু-মুসলিম সংঘাত এবং যুদ্ধোত্তর নানা বিপর্যয়ে তার কবিচিত্ত বিগলিত হয়েছিল। সেজন্য তার কবিতায় এসেছে মানবসমাজের ক্লেদাক্ত জীবনের কথা। কেননা, যুগযন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত এই কবির ব্যক্তিজীবন ছিল পর্যুদস্ত। তার মৃত্যুও স্বাভাবিক হয় নি। কবিতায় মৃত্যুচিন্তার ব্যাপক প্রকাশ এবং কবিজীবনের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয় পর্যালোচনা করে অনেকে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে অভিহিত করেছেন। কেউ বলেছেন:

“আমার মনে হয় জীবনানন্দ ঠিক ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান নি। যদিও এই কথাটিই সর্বত্র বলা হয়ে থাকে, এবং আমরা দেখেছি, তথাপি আমার ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন।”

কেউ লিখেছেন:

“জীবিতকালে তিনি নৈরাশ্য ও তিক্ততায় ভুগেছেন এবং তিনি স্বেচ্ছায় চলন্ত ট্রামের তলায় গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।”

কিন্তু জীবনানন্দ দাশের শেষজীবনের কবিতা এবং মৃত্যুপূর্ব মুহূর্তের শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে তিনি যে আত্মহত্যা করেছিলেন তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বরং তার মৃত্যু যে নিছক দুর্ঘটনা ছিল একথা সহজেই প্রমাণ করা যায়। ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘মহাপৃথিবী’ এবং ‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যে জীবনের প্রতি কবির যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তী দুটি গ্রন্থ ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ ও ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’য় তা থেকে উত্তরণ ঘটেছে। এ গ্রন্থ দুটিতে তিনি জীবনের ইতিবাচক দিকের কথা বলেছেন—জীবন সম্পর্কে হয়েছেন আশাবাদী। 'ধূসর পাণ্ডুলিপি'তে তিনি নারীকে ‘ঘাই হরিণী’র সঙ্গে তুলনা করলেও 'বেলা অবেলা কালবেলা'তে নারীর মহিমাকে উচ্চে তুলে লিখেছেন:

“মানবকে নয়, নারী, শুধু তোমাকে ভালোবেসে
বুঝেছি নিখিল বিষ কি রকম মধুর হতে পারে।”

যুগযন্ত্রণায় মুষড়ে পড়ে 'ধূসর পাণ্ডুলিপি'তে উচ্চারণ করেছেন:

“কাশের রোগীর মতো পৃথিবীর শ্বাস
যক্ষার রোগীর মতো ধুঁকে মরে মানুষের মন!
জীবনের চেয়ে সুস্থ মানুষের নির্ভৃত মরণ।
কিন্তু শ্রেষ্ঠ কবিতায় বলেছেন অন্য কথা:
ভালো লাগে পৃথিবীর রূঢ় নষ্ট সভ্যতার দিনের ব্যত্যয়;
অন্ধকার সনাতনে মিশে যাওয়া—কিন্তু মরণের ঘুম নয়।”
(‘আছে’, শ্রেষ্ঠ কবিতা)

তিনি প্রেম দিয়ে পৃথিবী ভরে দিতে চান। এ জন্য সময়ের প্রবহমানতাকে মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে ধাবিত হতে দেখেন। তার প্রত্যয়দীপ্ত উচ্চারণ:

“আমরা অন্তিম মূল্য চাই—প্রেমে;
পৃথিবীর ভরাট বাজার ভরা লোকসান
লাভ পচা উদ্ভিদ কুষ্ঠ মৃত গলিত আমিষ ঠেলে।
সময়ের সমুদ্রকে বারবার মৃত্যু থেকে জীবনের দিকে যেতে ব’লে।”
(‘পৃথিবীতে এই’, শ্রেষ্ঠ কবিতা)

‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থে জীবনানন্দ দাশ নৈরাশ্য-হতাশা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এখানে মানুষের প্রতি তার চরম আস্থা। এখন আর তিনি ভাবতে পারেন না— “সূর্যের রৌদ্রে আক্রান্ত এই পৃথিবী যেন কোটি কোটি শুয়োরের আর্তনাদে/উৎসব শুরু করেছে।” তিনি ভাবেন, উপলব্ধি করেন: “মানুষের মৃত্যু হলে তবুও মানব থেকে যায়।” তাই হতাশা বা ক্লান্তি নয়; কারণ:

“হয়তোবা মানবের সমাজের শেষ পরিণতি গ্লানি নয়;
হয়তোবা মৃত্যু নেই, প্রেম আছে, শান্তি আছে মানুষের অগ্রসর আছে...”
(‘মহাত্মা গান্ধী’, বেলা অবেলা কালবেলা)

আমরা লক্ষ করছি যে, জীবনানন্দ দাশ মৃত্যুচিন্তা থেকে সরে এসেছেন। তিনি প্রেমের মধ্যে মানবকল্যাণের সন্ধান পেয়েছেন। উপলব্ধি করেছেন প্রেম দিয়েই সম্ভব সকল শান্তি ও স্থিরতাকে জয় করা। 'বেলা অবেলা কালবেলা' কাব্যে তার ব্যঞ্জনামধুর উচ্চারণ:

“শান্তি এই আজ;
এইখানে স্মৃতি;
এখানে বিস্মৃতি তবু; প্রেম
ক্রমাগত আঁধারকে আলোকিত করার প্রমিতি।”
(‘অনেক নদীর জল’, বেলা অবেলা কালবেলা)

মৃত্যুকে সত্য জেনেও কবি তার কাছে সমর্পিত হতে রাজি নন, বরং যতদিন বাঁচবেন ততদিন ‘সূর্যে সূর্যে’ চলতে চান। আশাবাদী হয়ে বলেন:

“মৃত্যুই অনন্ত শান্তি হয়ে
অন্তহীন অন্ধকার আছে
নীলসব অরণ্যের কাছে
...আমি তবু বলি;
এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি।”

এবং একইসঙ্গে তিনি মানব-ইতিহাসের দুঃখরাশির মাঝে কল্লোলিত ঝরনার ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন; উচ্চারণ করেছেন:

“ইতিহাস খুঁড়লেই রাশি রাশি দুঃখের খনি
ভেদ করে শোনা যায় শুশ্রূষার মতো শত শত
শত জলঝর্ণার ধ্বনি”
(‘হে হৃদয়’, বেলা অবেলা কালবেলা)

এ রকম একজন জীবনবাদী কবি কি করে আত্মহত্যা করতে পারেন? আর্থিক দৈন্য, দাম্পত্যকলহ, কবি হিসেবে উপযুক্ত স্বীকৃতি না পাওয়া—এ সবই সত্য ছিল জীবনানন্দ দাশের জীবনে। তাছাড়া তার বাসভবনে বসবাসকারী বিধবার অসামাজিক কার্যকলাপেও বিব্রত ছিলেন তিনি। এসব ঘটনা তাকে অসম্ভব যন্ত্রণা দিয়েছে সন্দেহ নেই। তাই বলে আত্মহত্যা! না, জীবনানন্দ দাশের মতো পরিশীলিত মন-মননের অধিকারী রূপসী বাংলার কবি আত্মহত্যা করেছিলেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। আর আত্মহত্যাই যদি করবেন, তো এত পরিণত বয়সে কেন? অনেক আগেই তা করতে পারতেন। আত্মহত্যার মতো পরিস্থিতি; যেমন—বেকারত্বের গ্লানি, চাকরি চলে যাওয়া তার জীবনে অনেক পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে সেসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, জীবনযন্ত্রণায় মর্মাহত হয়েছেন এবং কবিতার মধ্যে তার রক্তাক্ত অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আর তিনি আত্মহত্যাই যদি করবেন তবে তা জনসম্মুখে কেন? আত্মহত্যা করার মতো নিরিবিলি স্থান কি তার গৃহে ছিল না? (দুর্ঘটনার দিন তাঁর স্ত্রীও তো বাসায় ছিলেন না।) যেমনটি করেছিলেন কবি সিলভিয়া প্লাথ। গ্যাস সিলিন্ডার খুলে জীবনের জ্বালা মিটিয়েছিলেন। প্রাতঃভ্রমণ ছিল জীবনানন্দ দাশের নিত্যদিনের অভ্যাস। সেদিন সঙ্গী (সুবোধ রায়) ছিলেন না বলেই দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিলেন। তাছাড়া দুর্ঘটনার পূর্বে তিনি দারুণ অসুস্থ ছিলেন। ৯. ৩. ৫৪ (খ্রি.) তারিখের এক চিঠিতে লিখেছিলেন: ‘আমার শরীর আজকাল অসুস্থ।’ এই অসুস্থ কবি অন্যমনস্ক হয়ে ট্রামলাইনের ঘাসের উপর দিয়ে হাঁটছিলেন। এও হতে পারে যে, তিনি ট্রামের ঘন্টা শুনে তালগোল হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই সরতে পারেননি। এমন তো নয় যে, তিনি সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ট্রামের তলে। প্রত্যক্ষদর্শীরাই জানিয়েছেন: ‘শুধু অন্যমনস্ক নয়, কী এক গভীর চিন্তায় নিমগ্ন ছিলেন কবি।’ তাই কোনো আওয়াজই তাঁর কানে পৌঁছেনি। কাজেই জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুকে আমরা আত্মহত্যা না বলে নিছক দুর্ঘটনা বলেই অভিহিত করতে পারি।

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বলিউডের তিন তারকাকে খুনের ছক, ৩ মাস ধরে চলেছে পরিকল্পনা
বলিউডের তিন তারকাকে খুনের ছক, ৩ মাস ধরে চলেছে পরিকল্পনা
১০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার মোটরসাইকেল
১০ লাখ টাকার প্রাইজমানি, সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার মোটরসাইকেল
সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে নিরাপদে ফিরেছেন পর্যটকরা
সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে নিরাপদে ফিরেছেন পর্যটকরা
সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
সাত দিন পর কারামুক্ত হলেন ককরোচ নেতা সৌরভ-রাঙ্কা
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
ডিভি লটারি ২০২৭: আবেদন শুরু হচ্ছে কবে?
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
অর্ধেক টাকা খরচের পর সাড়ে ৬ হাজার কোটির প্রকল্প বাতিল, এবার হবে মহাসড়ক
যুবদল নেতার লাশের গোসলের সময় বের হলো রহস্য, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট
যুবদল নেতার লাশের গোসলের সময় বের হলো রহস্য, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট