শামসুর রাহমান প্রসঙ্গে কাজী না‌সির মামুন

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : বীরেন মুখার্জী
প্রকাশিত : ১১:৫৮, আগস্ট ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০২, আগস্ট ১৭, ২০২০

বাংলাদেশ ও ত্রিশোত্তর আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শামসুর রাহমান। পঞ্চাশ দশক থেকে বাঙালি জাতির নানা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, সামাজিক জীবনের অসঙ্গতি, ব্রিটিশ ও পশ্চিমাদের শোষণের বিরুদ্ধে তার সোচ্চার কণ্ঠ কবিতায় নির্মাণ করে এক অনন্য বাক-প্রতিমা। এ জন্য তাকে স্বাধীনতার কবি হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জনমানুষের প্রতি অপরিসীম দরদ তার চেতনায় প্রবাহিত ছিল। শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হলেও গণমানুষের সঙ্গে আধুনিক বাংলা কবিতার যেটুকু আত্মীয়তা, যেটুকু যোগাযোগ, তা তারই অবদান। তার কবিতার মূল সুরটিই হলো দেশপ্রেম। এছাড়া তার কবিতায় মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা, প্রেম, দ্রোহ, বিশ্বজনীনতাও উঠে এসেছে এক সুনির্মল শিল্পবয়ানে। দুই বাংলায় তার শ্রেষ্ঠত্ব ও জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত। আজ ১৭ আগস্ট বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান এই কবির প্রয়াণবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমান সময়ে এসে শামসুর রাহমানের কবিতার পঠন-পাঠন এবং তার কবিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের পক্ষ থেকে কবি কাজী নাসির মামুন-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন কবি বীরেন মুখার্জী।বাংলা ট্রিবিউন : শামসুর রাহমানকে আপনি কীভাবে পাঠ করেন?

কাজী নাসির মামুন : তিরিশ পরবর্তী কবিতার ধারাবাহিকতায় শামসুর রাহমানকে অনিবার্য বিবেচনা করি। সেভাবেই পাঠ করি তাকে। তার প্রথম দিকের কবিতায় প্রকরণ চেতনা আমাকে তাড়িত করে। অনেকটা স্যুররিয়ারিস্টিক অভিযোজনের মতো লাগে। কিছুটা জীবনানন্দ প্রভাবিত হলেও ‘রূপালি স্নান’ কবিতার এই লাইনটা এখনো মনে জাগে: ‘জোনাকি মেয়েরা বিন্দু-বিন্দু আলোর নূপুরে ভরে দেয় মাঠ/ গাঢ় রাত্তিরে বিষণ্ন সুরে: তোমার রাজ্যে একা-একা হাঁটি, আমি সম্রাট!’

তার ‘আত্মহত্যার আগে’ কবিতায় চমৎকার উপমা আছে: ‘অলক্ষ্যে গড়িয়ে পড়ে মাছের ঝোলের মতো জ্যোৎস্না’, আবার ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’ কাব্যগ্রন্থের একটা কবিতার লাইন মনে পড়ছে। যদিও কবিতার নামটা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। লাইনটা হলো: ‘ঘোড়ার নালের মতো চাঁদ/ ঝুলে আছে আকাশের বিশাল কপাটে।’ তো এসব কবিতা থেকে আমি মূলত তার প্রকরণ চেতনাটা কেমন তা বুঝতে চেয়েছি। তবে আত্মখনন, আত্মজিজ্ঞাসা এবং আত্মহননের রোমান্টিক প্রত্যয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের কবিতায় নাগরিক বোধির প্রাথমিক পাঠ নিতে শামসুর রাহমানকে পড়তে হয়। অন্তত আমার শামসুর রাহমান পাঠ এভাবেই।

 

বাংলা ট্রিবিউন : শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়। এতে তার কবিত্বকে একপেশে করে দেখা হয় কিনা—যদি বিস্তারিত বলতেন।

কাজী নাসির মামুন : ‘পল্লীকবি’, ‘ইসলামী রেনেসাঁর কবি’, ‘নাগরিক কবি’ ইত্যাদি অভিধার বিপক্ষে আমি। কোনো কবিকেই এভাবে একপাক্ষিক বিবেচনায় বেঁধে ফেলা ঠিক নয়। আর শামসুর রাহমানের বিকাশ ও পরিণতির সময়টাতে ঢাকা তো সেই অর্থে নগর হয়ে ওঠেনি। কসমোপলিটান শহর না হলে তাকে ঠিক সেই অর্থে নগর বলা যায় কি-না, তাতে আমার সন্দেহ আছে। ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার কথা এই সেদিন জানলাম। মদের বার এখানে অবারিত নয়। পার্সোনাল সম্পর্কের ব্যাপারে এখনো এখানে ‘গা রি রি করা’ ভাব আছে। এসব নগরের অনিবার্য উপাদান হিসেবেই আমরা জানি। এসব উপাদান সংশ্লিষ্ট করে ঢাকাকে নগর হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে, তা আমি বলি না। গ্রাম প্রধান বাংলাদেশ। সেই আবহ থাকবেই। আল মাহমুদ একবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন : ঢাকা একটা বর্ধিষ্ণু গ্রাম। আমি অতটা বাড়াবাড়ি রকমের কিছু বলতে চাই না। তবে শামসুর রাহমানের কবিতার নাগরিক চেতনা বাহ্যিক। তার কবিতা যতটা নাগরিক তা আসলে যাপনের প্রাত্যহিকতায় মুখর। আর তিনি যতটা নাগরিক নন, তা আসলে ঢাকার নগর না-হয়ে ওঠার পরিণতি। এজন্যেই প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, ‘নাগরিক বোধির প্রাথমিক পাঠ।’ কাজেই কসমোপলিটান শহরের নাগরিক বোধের যে-অন্তর্গহন, বেদনার বিরূপ সঞ্চার এবং পঙ্কিলে বেড়ে ওঠা মনোরোগ, এরকম কিছু শামসুর রাহমানের কবিতায় প্রখর নয়।

তবে তার ভাষা প্রায়োগিক। দ্রোহী চেতনায় ঊর্বর। কবিজীবনের মাঝামাঝি পর্যায়ে তিনি এই ভাষা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু আয়ত্ত করে সামষ্টিক হয়ে উঠেছেন বলে আমি মনে করি। যা চরমভাবে ঢাকা তথা বাংলাদেশকেই রিপ্রেজেন্ট করে। তাই তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। শুধু ‘নাগরিক কবি’ বললে তিনি আমাদের সত্যিকারের রিপ্রেজেন্টেশন করেন বলে মনে হয় না। এভাবে তিনিও প্রকৃত মূল্যায়ন পান বলে মনে করি না।

 

বাংলা ট্রিবিউন : জীবিত আর মৃত শামসুর রাহমান—কোনজন বেশি শক্তিশালী? কেন?

কাজী নাসির মামুন : জীবদ্দশায় শামসুর রাহমান প্রতিটি নাগরিক আন্দোলনে নিজের উপস্থিতি জানান দিতেন। সেটা মৌলবাদ বিরোধী হোক, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হোক কিংবা ধরুন পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন, সবকিছুতেই তার সরব উপস্থিতি আমাদের প্রাণিত করে। এসব প্রত্যক্ষণের ওপর তার কবিতাও আছে। সরাসরি উপস্থিতি মানুষের নৈকট্য দেয়। ফলে একটা গাঢ় ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিসম্পর্ক থেকে কবিতার দিকে তার মূল্যায়ন বা জনপ্রিয়তা তাড়িত হয়েছে। সবটাই কাব্যিক মূল্যায়ন বলা যাবে না। কাজেই জীবদ্দশায় তার ব্যক্তিত্বের শক্তি কবিতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। এটা তার দোষ এবং গুণ দুটোই। দোষ, কেননা এতে কবিতার ক্ষতি হয়েছে। পরিপার্শ্বের সবকিছুই তিনি কবিতার বিষয় করে তুলেছিলেন। তাই প্রচুর লিখেছেন তিনি। ফলে অনেক ট্র্যাশ আছে তার। সব বড় কবিরই থাকে হয়তো। তাই নব্বই দশকের এক কবি আমাকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন : শামসুর রাহমান কবিতার সব বিষয় শেষ করে দিয়েছেন। আমরা কী লিখবো? তাই এক্টিভিস্টের মতো সবকিছুতে কবির সরাসরি অংশগ্রহণ জরুরি নয় বলে মনে করি। কবিতায় ভাবনার গাঢ়ত্ব এতে কমে যেতে পারে।

আবার কবি তো মানুষ। প্রয়োজনে জীবন সংলগ্ন হয়ে মানুষের পাশে থাকা তার জন্য জরুরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার এই উপস্থিতি কবিতায় প্রভাব ফেললে কবিতার তাৎক্ষণিক প্রায়োগিক মূল্য বাড়ে। শামসুর রাহমানের ক্ষেত্রে এটা ঘটেছিলো বলে আমি মনে করি। তবে ‘মৃত শামসুর রাহমান’ টার্মটা আমার ভালো লাগেনি। এত তাড়াতাড়ি মরে যাবার মতো তুচ্ছ কবিতা তিনি লিখেছেন বলে আমি মনে করি না।

 

বাংলা ট্রিবিউন : অগ্রজের সাহিত্যকর্ম তরুণদের মধ্যে চর্চিত হলে, সেই কবি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন—এমন একটি কথা বেশ উচ্চারিত। তো, শামসুর রাহমানকে তরুণরা কীভাবে গ্রহণ করেছেন বলে আপনার পর্যবেক্ষণ।

কাজী নাসির মামুন : চর্চার বিষয়টি আমার বুঝে আসে না। চলনে বলনে যাপনে তার কবিতাকে সর্বময় প্রায়োগিক করে তোলা? এটা তরুণ কবিদের কাজ বলে আমি মনে করি না। তরুণ যদি কেবল পাঠক হয়, সেক্ষেত্রে এটার একটা অর্থ দাঁড়ায়। তরুণ যদি কবি হন, তবে ‘চর্চা’ টার্মটা আমার জরুরি মনে হয় না। তার প্রয়োজন অভিনিবেশ সহকারে পাঠ। প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ, গ্রহণ এবং বর্জন। এক্ষেত্রে শামসুর রাহমান এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ভাগ্য প্রায় একই রকম মনে হচ্ছে। মৃত্যুর পর আল মাহমুদ বরং তরুণদের মধ্যে বেশি উজ্জীবিত মনে হচ্ছে। এটা ঠিক শামসুর রাহমানের কবিতা অনেক এলায়িত, প্রগলভ এবং ন্যারেটিভ। আল মাহমুদ জমাট এবং অধিকতর গীতল। কিন্তু চর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তরুণ কবিদের মধ্যে এখনো Art for art's sake এবং পূর্ববঙ্গীয় কবিতার ভাষা-রাজনীতির প্রভাব আছে বলে আমি মনে করি। ভেজা বাংলার লোকজ ভাষার অন্তর্গত প্রবাহ আল মাহমুদে বেশি সক্রিয় বলে তিনি এই রাজনীতিতে বেশি টেকসই। শিল্পের সমস্ত মানদণ্ডের বাইরে এই রাজনৈতিক গ্রহণ কিন্তু কম ভূমিকা রাখে না। কলকাতার ভাষার বাইরে এদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষার জুঁতসই ব্যবহারে তিনি অনেক তরুণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পান। ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বোধে এতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলাদা হওয়া যায়। এবং সেক্ষেত্রে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গেও আল মাহমুদের এত যে মহীরুহ ভাব, এর পেছনেও ভাষাগত রাজনীতি আছে বলে আমি সন্দেহ করি। লোকজ আবহের ‘গ্রামীণ কোটা’য় তাকে আলাদা রাখা যায়। এতে পশ্চিমবঙ্গের এলিট নাগরিক বোধ আহত হয় না। এই কোটায় ওখানে এখনও জসীমউদদীন পঠিত হয় বলে আমার ধারণা। সিকদার আমিনুল হক কি ওখানে পৌঁছেছেন? আবুল হাসান বা আশির জায়ান্ট পোয়েট যারা আছেন আমাদের, তারা? শামীম রেজার ‘যখন রাত্তির নাইমা আসে সুবর্ণ নগরে’ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যলয়ে পাঠ্য হয়েছে, এটা সুখের খবর। কিন্তু এটাও ‘গ্রামীণ কোটা’য় কি-না, সেই প্রশ্ন তাদের কাছে রয়ে গেলো আমার।

আল মাহমুদ নিঃসন্দেহে বড় কবি। কিন্তু গ্রহণ বর্জনের ক্ষেত্রে বড়ত্বের সঙ্গে রাজনীতি থাকে। জাতীয় সাহিত্যের চারিত্র্য নির্মাণে চর্চার প্রসঙ্গই যদি আসে, তবে শামসুর রাহমানে অবশ্যই ফিরতে হবে। কেননা বহু ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে তিনি তার কবিতায় মিথের পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। জাতির উত্থানে এসব কবিতার ভূমিকা ছিলো। ‘আসাদের শার্ট’, ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’, ‘সফেদ পাঞ্জাবি’, ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?’, ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’—এরকম অসংখ্য কবিতা ঐতিহাসিক স্মৃতিকে প্রোজ্জ্বল করে তোলে। বিষয়টা হালকা নয়। প্রায়োগিক মূল্যের। সমালোচনার ঔপনিবেশিক চাপ গ্রাহ্য করলে এসব কবিতার ক্রিটিক করা যায়। নিজের পন্থায় এগোলে এসব আমাদের স্মৃতিজাগানিয়া কবিতা। জাতীয়তাবোধের আকর। সেই অর্থে প্রাসঙ্গিক। তরুণরা যদি সেটা বোঝে, ভালো। না বুঝলে কবির নিজস্ব কোনও দায় নেই। তার কবিতায় আছে বাংলাদেশের জাতীয় জীবন। সেটা মুছে দেয়া যায়?

 

বাংলা ট্রিবিউন : জীবনানন্দ দাশ পরবর্তী বিনয় মজুমদার তরুণদের বেশি প্রিয়। সেখানে শামসুর রাহমানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

কাজী নাসির মামুন : বিনয় মজুমদার আমারও প্রিয় কবি। বিশেষত তার ‘ফিরে এসো চাকা’ এবং ‘অঘ্রাণের অনুভূতিমালা’ বাংলা কবিতায় নতুন সংযোজন বলে মনে হয় আমার। ‘অঘ্রাণের অনুভূতিমালা’ আয়েস করে পড়লে গাণিতিক এবং জ্যামিতিক ব্যাখ্যার কব্যিক দ্যোতনা বড় মজাদার লাগে। মনে হয় গল্প বা উপন্যাসের স্বাদ পাচ্ছি। তবে বিনয়ের ব্যক্তিগত প্রেমের মিথ, সারল্য ও যাপনের ভিন্নতাও কিংবদন্তির মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসবের প্রতি তরুণ কবিদের আগ্রহের উন্মাদনা থাকে। একারণেও তিনি প্রিয় হতে পারেন। তবে কালের পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি তার। তার কবিতায় অবজারভেশনের নতুনত্ব তরুণ কবিদের কতদিন মোহগ্রস্ত রাখে, সেটা দেখবার বিষয়।

আমার প্রিয় কবির তালিকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কবিই নাই। কিন্তু তাদের গুরুত্বকে তো আমি স্বীকার করি। শামসুর রাহমান অনেক তরুণের কাছে প্রিয় না হলেও তিনি যে অনেক গুরত্বপূর্ণ এ কথা অস্বীকার করে কেউ?

সাম্প্রতিককালে কিছু ল্যাটিন আমেরিকার কবিতা পড়লাম। সেই কবিতা সমসাময়িক সমাজের দিকে ক্রিটিক্যাল। শামসুর রাহমানের কাছ থেকে এই ক্রিটিক্যাল হওয়ার প্রেরণা নেওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ‘দুঃসময়ের মুখোমুখি’, লিখেছেন, ‘অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। যেকোনো সময়ের জন্য এই ক্রিটিক্যাল দৃষ্টিকোণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। ‘স্যামসন’ কবিতায় একটা লাইন আছে এরকম : ‘ক্ষমতামাতাল জঙ্গী হে প্রভুরা ভেবেছো তোমরা..।’ এখানে ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গ এনে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে ক্রিটিক্যালি দেখেছেন তিনি। আরেকটা কবিতার লাইন এরকম মনে পড়ছে: ‘তোমার ভোটাধিকার আছে ব’লে ক’জন নিঝুম প্রজাপতি/ ক্যানভাসারের মতো উড়ে যায় গহন দুপুরে’। সমসাময়িকতাকে কাব্যময় করে তুলবার ক্রিটিক্যাল দৃষ্টিকোণ শামসুর রাহমানের ছিলো। সচকিত তরুণরা এক সময় তার এই দিকটায় দৃষ্টি দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।

 

বাংলা ট্রিবিউন : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কাজী নাসির মামুন : আপনার জন্যও শুভকামনা।

//জেডএস//

লাইভ

টপ