X
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২
২২ আশ্বিন ১৪২৯

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৮

মুহম্মদ মুহসিন
২৮ আগস্ট ২০২০, ০৮:০০আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ০৮:০০

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৮ পূর্ব প্রকাশের পর

আমার বড় মেয়েও খুব আগ্রহ নিয়ে মসজিদটিতে নামাজ পড়লো। নামাজ পড়ে ৫০০০ ইন্দোনেশিয় রুপিয়া দরে চারটি টিকেট কেটে উঠলাম মসজিদের মিয়া মিনারে। মসজিদটির নামও মনে হয় ‘মিয়া মসজিদ’। ৫০০০ ইন্দোনেশিয় রুপিয়া যথেষ্ট কম টাকা। বাংলা ২৫ টাকার মতো। মিনার থেকে শহরের ভিউ এবং কাছের সাগর বেশ ভালোই দেখা যাচ্ছিলো। অবজারভেশন ডেকটা এয়ারকন্ডিশন্ডও ছিলো। মসজিদ থেকে বের হয়ে বললাম—‘এবার লোকাল খাবারের কোনো রেস্টুরেন্টে চল’। প্রথম যেটি টার্গেট করলো সেটিতে এত ভিড় যে সেখানে ঢোকা হলো না। পরে বেশ ঘুরে ফিরে একটায় নিয়ে গেল। ছোট গলি দিয়ে ভিতরে ঢুকতে হয়। শত শত মানুষ সব লোকাল, ট্যুরিস্ট নয়। বোঝা গেল ড্রাইভার ঠকায়নি। আইটেম সব লোকাল। সাজানো ডিশগুলো থেকে বুফে স্টাইলে কিউতে দাঁড়িয়ে যে যার খাবার তুলে নিচ্ছে। বিল অবশ্য বুফে স্টাইলে ফিক্সড নয়। যে-সকল আইটেম নেয়া হবে সেগুলো দেখে দেখে ওয়েটার কাস্টমারের টেবিলে গিয়ে বিল করে দিবে। আমি একাধিক ধরনের ফ্রাইড ফিশ নিলাম। বিল যা হলো তা আমাদের বাংলাদেশি নিম্নমধ্যবিত্তদের রেস্টুরেন্টের অনুরূপ। বিল পরিশোধের সময়ও মনে হলো ড্রাইভার ঠকায়নি।

লাঞ্চ শেষ করে আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো দূরের একটা নিরিবিলি কফি কর্নারে। কফি কর্নারটিতে একটি দোকান ছিল যেখানে টাকার বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে রাজ সিংহাসনে বসে ছবি তোলা যায়। আরও ট্রিক-আই থ্রিডি মিউজিয়াম নামে এক জায়গায়ও কিছু অপটিকাল ইল্যুশনের ছবি তোলার সুযোগ আছে। আমার ছেলেমেয়েরা কেউ আগ্রহী হলো না। পাশেই একটু গর্জিয়াস একটি দোকান, নাম ‘গোল্ডেন লেয়ার কেকস’। দোকানের সামনে ফ্রি টেস্ট করার জন্য কেকের ছোট ছোট পিস রাখা আছে। টেস্ট করে পছন্দ হলে তবে কেনা যাবে। অনেকে টেস্ট করেই পেট ভরিয়ে চলে যায়, কেনে না। জানি না, এই বড়লোকি অফার ঐ দোকান ওখানে কতদিন রাখতে পারবে। আমরাও সামান্য টেস্ট করলাম। তবে সাথে কিনে কফি খেলাম। বাচ্চারা কিনে আইসক্রিম খেলো। তারপর সেখান থেকে গেলাম একটি মসজিদ দেখতে। নাম ‘মাসজিদ মুহাম্মাদ চেঙ হো’। মসজিদটি একজন চায়নিজ মুসলমানের নিজের অর্থে তৈরি। সাধারণ মসজিদ স্থাপত্য থেকে একদম আলাদা ধরনের, যেন একটি চায়নিজ ঘর। পঞ্চদশ শতকীয় চায়নিজ মুসলিম এডিমরাল Admiral Muhammad Zheng He-এর নামানুসারে এই নামকরণ। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি নিবেদিত।

সেখান থেকে গেলাম একটি মিনি স্থাপত্য পার্কে। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন স্থাপত্যের রেপ্লিকা তৈরি করে রাখা হয়েছে। ঢুকতে কোনো পয়সা নিলো না। সেখান থেকে ড্রাইভার আবাং ইদ্রিস আমাদেরকে নিয়ে গেলো একটু দূরে একটা বিচ-কাম-পার্কে। নাম কোস্টারিনা (Coastarina)। ঢুকতে ভালো পরিমাণ পয়সা নিলো তবে সাথে পাঁচটি ফ্রি লাঞ্চ-কুপন দিলো। পার্কটির পাশ দিয়ে সুন্দর সাইক্লিং ও জগিং এর রাস্তা রয়েছে। পার্কে কিছু রাইড ছিল তুলনামূলকভাবে অর্থক্ষয়ী। আমার বাচ্চারা কেউ কোনো রাইডে আগ্রহী হলো না, হয়তো বাবার পকেটের কথা চিন্তা করে। বাতাম সেন্টারের সব জাহাজ এর সামনে দিয়ে যায়। বামদিকে উন্মুক্ত ও সোঁ সোঁ বাতাসের সাথে কিছুটা উন্মত্ত সাগর। সব মিলিয়ে স্থানটা অনেক ভালো লাগলো।

কোস্টারিনা সৈকতে যতটা সময় থাকতে পারতাম তার চেয়ে একটু কম সময় থেকে একটি ফুডশপে ঢোকলাম ফ্রি কুপনগুলোর একটা সদগতি করতে। কিন্তু ঢুকে দেখলাম ঐ কুপনগুলো আসলে একটা মুলা। ঐ মুলা নাকের সামনে ঝুলিয়ে মূলত আমাদেরকে ফুডশপে ঢুকতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে। ফুডশপে ঢুকে জানতে পারলাম কুপনগুলোতে ফ্রি লাঞ্চ পেতে হলে একটি অলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে। তা হলো ঐ লাঞ্চের সাথে নির্দিষ্ট কিছু আইটেম আছে তা কিনতে হবে। আমাদের দেশে আমরা এতদিন দেখেছি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘এই কিনলে এই ফ্রি পাওয়া যাবে’ মর্মে বিজ্ঞাপন দেয়। এই কুপনের বরাতে বাতামে দেখলাম এই বিজ্ঞাপন আরও এক ধাপ এগিয়েছে। তারা শুধু ‘ফ্রি নিলে আসেন’ বলে বিজ্ঞাপন দেয়, তারপর দোকানে ঢুকিয়ে ফ্রি নিতে হলে কী করতে হবে সেই মফেল দেয়। যাক, মার্কেটিং মানেই ধাপ্পাবাজি, এতে নতুন কিছু নেই। আমরা শেষ পর্যন্ত দোকানির মফেল অনুযায়ী কিছু কিনে লোকাল ডিশ দুটো চেখে বের হয়ে আসলাম। শেষ হলো একদিনের ইন্দোনেশিয়া সফর।

শুরু হলো আমাদের ফিরতি যাত্রা। ফিরতি যাত্রায় ইন্দোনেশিয়ার ইমিগ্রেশনে খুব দেরি হলো না। কিন্তু দেরি হলো এবার হারবার ফ্রন্টে। আমরা জানতাম না সিঙ্গাপুরে আবার ঢোকার সময় ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করতে হবে। তাহলে বিমানে বসে যেমন পূরণ করেছিলাম তেমন ফেরিতে বসেই পূরণ করে রাখতাম। হেল্পডেস্কের খয়রাতি কলম দিয়ে ঐ জিনিস চারখানা পূরণ করতে অনেক সময় লেগে গেল। এরপর গিয়ে দেখি বিশাল লাইন। ঘণ্টাখানেকের মতো সময় লেগে গেল। তারপরে আবার আমার ইমিগ্রেশন হয়ে গেছে, কিন্তু বাচ্চাদের হয়নি দেখে আমি ইমিগ্রেশন ডেস্ক পার করে ওপারে ওদের জন্য দাঁড়াতে গেলাম তা পুলিশ একটা এসে আমাকে সরিয়ে দিলো। বললাম ‘আমার বাচ্চাদের ইমিগ্রেশন শেষ হয়নি তাই ওদের জন্য দাঁড়িয়েছি’। বললো, ‘সে জন্য আপনার দাঁড়াতে হবে না’। আমি একটু সরে আবারো এক কর্নারে দাঁড়ালাম যাতে ওদেরকে দেখতে পারি। পুলিশটা আবার এসে ঐ একই কথা বলে আমাকে সরিয়ে দিলো। তখন আমার মেজাজটা অনেক খারাপ হলো। ইচ্ছে করলো ভানু মশাইয়ের সেই কৌতুকটা বলি। যেখানে গৃহস্থ থানায় এসে দারোগাকে তার বাড়ির চুরির বিবরণ দিতে গিয়ে বলছে—‘দারোগা সাহেব আমি দেখলাম, চোরটা ঘরে ঢুকলো। ভাবলাম দেখি না কী করে। তারপর দেখলাম আমার অনেক জিনিসপত্র নিয়ে একটা পোঁটলায় বাঁধলো। ভাবলাম দেখি না কী করে। তারপর জিনিসপত্রের পোঁটলাটা নিয়ে রওয়ানা দিলো। আমি ভাবলাম দেখি না শালা কোন দিক দিয়ে যায়।’ দারোগা সাহেব তখন গৃহস্থকে ধমক দিয়ে বললো—‘আপনার বাড়ি চোর ঢুকে, জিনসিপত্র পোঁটলায় ঢুকিয়ে কাঁধে নিয়ে চলে যাচ্ছে আর আপনি খালি বসে বসে ভাবছেন?’ গৃহস্থ চিৎকার দিয়ে বললো—‘কী বলেন মিয়া? আমার বাড়ি চোর এসেছে, চোর জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, সে নিয়ে তখন আমি ভাববো না, ভাববেন আপনি?’ আমারও তেমন চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, ‘আমার ছেলেমেয়েরা ইমিগ্রেশনে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের পাসপোর্টে এখনো সিল হয়নি, তাদের জিনিসপত্র আমার কাছে, তো তাদের জন্য আমি দাঁড়াবো না, দাঁড়াবেন আপনি?’ অবশ্য আমার এই চিৎকারের আগেই ওরা ইমিগ্রেশন ক্রস করে চলে আসলো।

বাইরে এসে দেখি বায়জিদ আমাদের জন্য এক ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বায়জিদের মতো যারা পারমানেন্ট ওয়ার্কপাসধারী তাদেরকে আমাদের মতো প্যাঁচড়া লাইনে দাঁড়াতে হয় না। তাদের ইমিগ্রেশন মানে খালি আসা আর যাওয়া, পুরো এক্সপ্রেস লাইন। বায়জিদ গ্র্যাবের গাড়ি ডাকবে ভাবছে। তখন আমি বললাম, ‘আমি তো ওদেরকে শুধু ট্যাক্সিতে চড়াই। তুমি যেহেতু সাথে আছো, চল, ট্রেনে যাই, বাচ্চাদের একটু এমআরটি’র অভিজ্ঞতা হোক’। জুরঙ ইস্টের টিকেট কেটে আমরা আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনে চড়ে বসলাম। যখন জুরঙ ইস্ট স্টেশন থেকে বের হতে গেলাম তখন টিকেট পাঞ্চ করতে গিয়ে দেখা গেল ইলেক্ট্রনিক গেট খুলছে না। টিকেট নিয়ে কাউন্টারে গেলাম। বললো, ‘হারবারফ্রন্ট থেকে জুরঙ ইস্ট আসার জন্য যে-সময় লাগবে ধরে টিকেটটি দেয়া হয়েছিল, আপনাদের আসতে তার চেয়ে বেশি সময় হয়ে গেছে বিধায় টিকেট পাঞ্চড হচ্ছে না। এখন আরো পয়সা টিকেটে চার্জ করতে হবে।’ মনে পড়লো মাঝখানে যেখানে ট্রেন চেঞ্জ করতে হয়েছিল সেখানে আমরা একটা ট্রেন মিস করেছিলাম। ফলে সমস্যাটা এমআরটি’র নয়, আমাদেরই। অগত্যা আবার টাকা চার্জ করে তারপর বের হলাম। এবার বাসায় যাবো বাসে করে। বাচ্চাদের বাসের অভিজ্ঞতাও হোক। অল্প একটু পথ। অনেক টাকা বাসভাড়া দিয়ে বাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসে বাসায় পৌঁছলাম। বাসের আর ট্রেনের অভিজ্ঞতা নিতে গিয়ে যে খরচ হলো তার তিন ভাগের দুইভাগে আরও অল্প সময়ে ট্যাক্সিতে বাসায় আসা যেতো। বাসায় আসতে সেদিন অভিজ্ঞতার দামও বেশি হয়ে গিয়েছিল আর রাতটাও বেশি হয়ে গিয়েছিল।

বাসায় এসে দেখি ইউনুস আমার সাথে গল্প করতে অনেকক্ষণ বসে থেকে শেষ পর্যন্ত চলে গেছে। ফোনে জানালো পরের দিন আমাদেরকে সকালে বন্ধু মোফাজ্জল হোসেন তার গাড়িতে ঘুরাতে নিয়ে যাবে উডল্যান্ড ওয়াটারফ্রন্ট। বন্ধু মোফাজ্জল আমাদের সাথে বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে ১৯৯০ সালে। ইউনুস, আমি, মোফাজ্জল, শামীম রেজা সব এক ব্যাচ। মোফাজ্জল পরে ম্যারিন ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। সিঙ্গাপুর ম্যারিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি থেকে Marine Engineer Officer Class 1 (Motorship) মর্মে সনদপ্রাপ্ত। বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক শিপ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এ.ডি.কে. ম্যারিটাইম প্রাইভেট লিমিটেডের সিনিয়র টেকনিক্যাল সুপারইনটেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত। পরিবারসহ অনেক বছর সিঙ্গাপুরে আছে। অবশ্য সিটিজেনশিপ নেয়নি। ২০০৮ সালে ওর বাসায় বেড়িয়েছিলাম। এবার এখনো সময় করতে পারিনি, তাই হয়তো ও কালকে নিজেই আসবে দেখা করতে। সৌভাগ্যের ব্যাপার।   

পরের দিন বেশ সকালেই বন্ধু মোফাজ্জল এসে উপস্থিত। ওর সাথে গল্প করতে করতেই নাস্তা শেষ হলো। এরপর রওয়ানা উডল্যান্ড ওয়াটারফ্রন্ট। উডল্যান্ড হলো মালয়েশিয়ার সাথে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর। জোহোর স্ট্রেইটের ওপরে সেতু করে এই সড়কপথ হয়েছে। মূলত জোহোর স্ট্রেইট বা জোহোর প্রণালী/খাল দ্বারা সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন। উডল্যান্ড ওয়াটারফ্রন্ট হলো উডল্যান্ড স্থলবন্দর থেকে একটু দূরে অবস্থিত একটি পার্ক ও সিঙ্গাপুরের সীমান্ত ঘেঁষে জোহোর স্ট্রেইটের ওপরে গড়ে তোলা মাঝনদী পর্যন্ত প্রসারিত একটি উন্মুক্ত ডক। ডক মানে সকালে ও বিকালে নদীর মাঝখানে এসে হাওয়া খাওয়ার ডক, জাহাজ মেরামতের ডক নয়। বড়শি পাতার আর বিকালের সাগরের হাওয়া খাওয়ার জন্য জোহোর স্ট্রেইটের ওপর তৈরি হয়েছে এই দীর্ঘ ডক। ডকের উপরে একটি সুন্দর রেস্তোরাঁ আছে আর পাড়ে আছে বাগানসমৃদ্ধ জগিংএর দীর্ঘ রাস্তা। সব মিলিয়ে সুন্দর সকাল আর সুন্দর বিকাল কাটানোর এক অনিন্দ্য সুন্দর জায়গা। ট্যুরিস্টরা এ জায়গা খুব চেনে না। এমনকি সিঙ্গাপুরের অধিবাসীরাও অনেকে এর খোঁজ রাখে না। মোফাজ্জলও নাকি এর আগে মাত্র একবার এসেছে বিধায় রাস্তাও খুব চেনা না। রাস্তা যে মোফাজ্জলের চেনা নয় তা কিছুক্ষণেই টের পাওয়া গেল। জিপিএস সেট করা থাকতেও সঠিক রাস্তা মিসড হয়ে গেল। জিপিএসই এ্যালার্ম দিলো যে, রাস্তা ভুল হয়ে গেছে। নতুন যে রাস্তা জিপিএস ক্যালকুলেট করে দিলো তা প্রায় ৫ কিলোমিটার নতুন পথ। উডল্যান্ড স্থলবন্দরের জন্য এদিকটায় রাস্তার ছড়াছড়ি। মোফাজ্জল এবার নড়েচড়ে বসলো। দ্বিতীয়বার আর ভুল করা যাবে না। ভুল আর হলো না।

উডল্যান্ড ওয়াটারফ্রন্টের সামনে লেখকের ছেলেমেয়েরা

ডকের রাস্তা ধরে চলে গেলাম নদীর একদম মধ্যভাগে। ছেলেমেয়েরা ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল। মালয়েশিয়ার জোহোর বারুর তানজুঙ পুতেরির এলাকাটি এখান থেকে বেশ কাছ থেকে দেখা যায়। ২০১৭ সালে আমার এই ছেলেমেয়েরা সবাই মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ঘুরেছে, তাই কাছ থেকে মালয়েশিয়া দেখতে পেরে তারা বেশ উত্তেজিত বোধ করছিল। আর আমাদের দুই বন্ধুর আলাপ বেশিরভাগই আমাদের পুরনো দিনের প্যাঁচাল। তবে এবার দেখলাম বার বার ধর্মের প্রসঙ্গটি চলে আসছিল। এর আগে মোফাজ্জলের সাথে আলোচনায় এমন ধর্মের প্রসঙ্গ আসতো না। দেখলাম ধর্ম নিয়ে ওর পড়াশোনা এখন আমার চেয়ে অনেক বেশি। বিএম কলেজের ১৯৯০-এর এইচএসসি ব্যাচের আমাদের আরেক বন্ধু রেজোয়ান খালেক মিতুও ম্যারিন ইঞ্জিনিয়ার। মিতু এখন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং অস্ট্রেলিয়ান ম্যারিটাইম সেফটি অথরিটির একজন পোর্ট ম্যারিন সার্ভেয়র হিসেবে কুইনসল্যান্ডে কর্মরত। ২০১৮ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার গ্লাডস্টোনে ওর বাসায় গিয়েছিলাম। ও আমাকে নিয়ে রাতে গ্লাডস্টোন থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে ফিজরয় (fitzroy) নদীতে গিয়েছিল বড়শি দিয়ে বারামুন্ডি মাছ (কোরাল মাছ?) ধরতে। আসতে যেতে পথে ধর্ম নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছিল। ধর্ম সম্পর্কে মিতুর ফিলসফি স্কেপটিকাল। আর বিপরীতে তার বন্ধু মোফাজ্জলের ধর্মীয় ভাবনা কঠিন বিশ্বাসের গ্রানাইটে প্রোথিত। উডল্যান্ড ওয়াটারফ্রন্টে নদীর ভিতরে দাঁড়িয়ে মোফাজ্জলের সাথে ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় মনে হচ্ছিলো ফিজরয় নদীতে যাওয়ার পথে রাতে মিতুর ধর্ম বিষয়ক স্কেপটিকাল আলোচনার সময় যদি মোফাজ্জল সাথে থাকতো তাহলে যে-সব প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারিনি তার অনেকগুলো উত্তর আমরা মোফাজ্জলের কাছ থেকে হয়তো পেয়ে যেতাম। চলবে

আরও পড়ুন : সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৭

 
//জেডএস//
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রঙিন ছাতার আড়ালে স্মৃতির ফটক (ফটো স্টোরি)
ঢামেকের ঐতিহাসিক আমতলা গেটরঙিন ছাতার আড়ালে স্মৃতির ফটক (ফটো স্টোরি)
যারা সরকারকে মানে না, সংলাপ তাদের সঙ্গে: মির্জা ফখরুল
যারা সরকারকে মানে না, সংলাপ তাদের সঙ্গে: মির্জা ফখরুল
শিশির ভেজা শাপলায় চলে নরম রোদের খেলা  
ত্রিশালের চেচুয়ার বিলশিশির ভেজা শাপলায় চলে নরম রোদের খেলা  
ছাত্র অধিকার পরিষদের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
ছাত্র অধিকার পরিষদের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ
বাংলাট্রিবিউনের সর্বাধিক পঠিত
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রস্তুত হন, চেরাগ জ্বালিয়ে চলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
আলিবাবার জ্যাক মা পারলে আমরা পারবো না কেন: শামীমা নাসরিন
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
গোলমাল বাধলে ঘর স্ত্রীর নামে যাবে, স্বামীর নামে না: প্রধানমন্ত্রী
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মেট্রোরেলে চাকরির সুযোগ, বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম
চোখের সামনে পড়েছিল কয়েকজনের লাশ, মৃত্যুর হাত থেকে ফিরলাম