করোনায় আমরা ভীত নই। বরং মোকাবেলা করছি গৃহে অন্তরীণ থেকে। এতে হয়ত কিছুটা বাড়তেও পারে মানসিক চাপ। তাই আসুন, খুলে দেই মনঘরের জানালা। নিজেকে চালিত করি সৃজনশীলতায়। আপনি নিয়মিত লিখছেন, বা এটাই হতে পারে আপনার প্রথম গল্প। লিখুন ফেসবুকে। চটজলদি ৫০০ শব্দের গল্প, বাংলা ট্রিবিউনের জন্য। একইসঙ্গে নমিনেট করুন আপনার পছন্দের আরও ১০ জন লেখককে। সেরা ১০ জন লেখক পাচ্ছেন কাগজ প্রকাশনের বই। আর অবশ্যই হ্যাশট্যাগ দিন #বাংলাট্রিবিউনসাহিত্য
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চা-নাশতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ সেরে লেখক হতে চাওয়া একজন কাগজ-কলম নিয়ে বসল টেবিলে। আজ যেভাবেই হোক একটি গল্প তাকে লিখতেই হবে। লিখতে চাওয়ার এই পৌনঃপুনিক চেষ্টাটি সে বহুদিন ধরেই করে আসছে।
সাদা কাগজে কলমের প্রথম দাগ দেবার আগে ভাবল একটি রসাল প্রেমের গল্প লেখা যাক। নায়ক-নায়িকার সুন্দর দুটি নাম ঠিক করল সে—রুসলান ও নূরাই। তাদের দুষ্টু-মিষ্টি প্রেমের আখ্যান কল্পনা করতে করতে লেখকের মনে হলো, লোকে বলবে এ বড় সস্তা বাজারি গল্প। অবশ্য গল্পের শেষটা বিয়োগান্তক হলে তা পাঠকমনে দাগ কাটলেও কাটতে পারে। কিন্তু গল্পের এই পরিণতির দায় কার ঘাড়ে চাপাবে সদ্যজাত লেখক? রুসলান, নূরাই নাকি নিয়তির? কার পক্ষ নেবে সে?
জানালার বাইরে চিকচিক রোদ আর নীলাকাশ লেখককে অনুপ্রেরণা দেয় একটি সফলতার গল্প লেখার। রজব আলী কী করে জিরো থেকে হিরো হলেন তা সবাইকে জানানো যাক। ছোটবেলা থেকে অনেক সংগ্রাম করে, বহু ঝড়-ঝাপটা সয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। তার এই গল্প অনুপ্রাণিত করবে আরও অনেককে। কিন্তু তিনি যে রাস্তায় হেঁটেছেন সে রাস্তার পথিক তো তিনি একা ছিলেন না। অন্যদের সবাই রজব আলীর মতো সাফল্যের শিখর ছুঁতে পারেনি। এজন্য তাদের গল্পগুলো কি কেউ জানবে না কখনো?
চোখ ঝলসানো দুপুরের কড়া রোদে আনাড়ি লেখক ভাবে দেশের অসহায়-নিরন্ন-হতভাগ্য মানুষদের নিয়ে কিছু লিখবে। ধরা যাক গল্পটি অহিদ মিয়ার। গাড়ি চাপায় মরে যায় বাপ, মা চলে যায় অন্য লোকের ঘরে, শৈশব-কৈশোর কাটে ক্ষুধার জ্বালায় দ্বারে-দ্বারে ঘুরে। চেয়ে না-পেয়ে সে একদিন ছিনিয়ে নিতে শেখে। শেষমেশ ঠাঁই হয় হাজতে, সেখানে অন্তত তিনবেলা খাবারের নিশ্চয়তা পায় সে। অহিদ মিয়ার এই বঞ্চিত জীবন, নষ্ট হওয়া শৈশব-কৈশোরকে কি গল্পে বাঁধা যায়?
সকাল-দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল লেখকের ইচ্ছে করে ছোট্ট সুখী কোনো পরিবারের গল্প লিখতে। মা-বাবা-ভাই-বোন নিয়ে মিতুদের সুখী পরিবার। সকাল-সন্ধ্যা হৈ-হুল্লোড়, সুখ সুখ আবহ চারপাশে। এর চেয়ে বেশি আর ভাবতে পারল না লেখক কারণ সুখী পরিবারের সুখটা আসলে কেমন তা তার জানা নেই। সুখ নিরবচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু মিতুদের পরিবারে সুখের সঙ্গে দুঃখের মিশেলটা নিজের হাতে কী করে দেবে লেখক!
সারা দিনমান ধরে পৃথিবীকে আলোকিত করে রেখে সন্ধ্যায় নিভে যাওয়া আলোর মতো নিভু নিভু দুটি প্রাণের গল্প লেখা হোক। নীরদ সাহা ও প্রমীলা দেবি। জীবনসায়াহ্নে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখের সাগরে ভাসবেন নাকি একাকী হয়ে দুঃখের সাগরে তলিয়ে যাবেন এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন লেখক। একজন ভালো লেখক দুটোর মধ্যে কোনটিকে বেছে নিতেন কে জানে!
এতগুলো প্রাণ, তাদের জীবনকে নিজের মতো করে আকার দিয়ে লেখক হওয়া সবার দ্বারা হয়ে ওঠে না। তাই দিনশেষে একটি শব্দও না লিখতে পেরে লেখক হতে চাওয়া সেই ব্যক্তিটি প্রচণ্ড আত্মগ্লানিতে ভোগে। চরিত্রাঙ্কন বিষয়ক তার অক্ষম অপারগতার গল্প শেষ হয় আত্মহননের মাধ্যমে। তার মৃত্যুর পর কোনো এক গল্পকার একটি গল্প লেখেন, গল্পের নাম :‘চরিত্রাঙ্কন বিষয়ক গোল’।








