হরিপুর বাজারের সীমানা অতিক্রম করার পর দীর্ঘ মাটির রাস্তা ধরে আর কোনো জনবসতি নেই। দু’পাশে যত্নবিহীনভাবে বেড়ে ওঠা অবাধ্য আগাছাগুলো আলিঙ্গন করে রেখেছে অর্ধশত বৎসরের পুরোনো আম, কাঁঠাল ও মেহগনি গাছগুলোকে। সে দিকে কিলোমিটার খানিক পথ এগিয়ে গেলে একটা পরিত্যক্ত ডাকঘর, যার রংচটা দেয়াল থেকে যেন ফিসফিস করছে নিস্তব্ধতা। জঙ্গলে ঘেরা দীর্ঘ পথের পাশে এক টুকরো প্রাচীন কংক্রিট স্বভাবতই পথচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নেয়। মাগরিবের আজানের পর এই দীর্ঘ পথটি জনশূন্য হয়ে পড়ে।তাছাড়া সবমিলিয়ে মাইল দুয়েক পথে যানবাহনের দেখা নেই বিশেষ। বাজারের ব্যবসায়ীরা বাইসাইকেল হাঁকিয়ে বাড়ির দিকে যায়। হোসেনও প্রতিদিন সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে সাইকেলে হাওয়া করে রওনা হয়। কিন্তু আজই তার সাইকেলর চাকাটা পাংচার হয়ে গেল। যেমন অমাবস্যার রাত, তার উপর সাইকেল ঠিক করার পাঁয়তারায় আরও কিছু সময় গড়িয়েছে বাজারেই। কিন্তু সাইকেলটা আর ঠিক হয়নি। অগত্যা এই থমথমে পথে আল্লাহ্র নামে হাঁটা শুরু করে সে। খালের উপর ছোট ব্রিজটি পার করলেই আশেপাশে কোনো কৃত্রিম আলোর ছিটেফোঁটা দেখা যায় না। উপরে খোলা আকাশ আর নিচে রোদে পোড়া এঁটেল মাটি রাতের আকাশের তারকারাজির আলোতে কেমন জ্বলজ্বল করতে থাকে। ঝিঁঝি পোকার ডাক আর দূর থেকে ভেসে আসছে শেয়াল কুকুরের বিতণ্ডা। কিছুদূর হাঁটার পর হোসেন পায়ের চটি-স্যান্ডেলটা খুলে বাজারের ব্যাগে রেখে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়। আশেপাশে বিশেষ তাকানোর সাহস হয় না তার। ডাক অফিস পার করে শ্বাসরুদ্ধ ভয় ওকে আরও যেন তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরে। কারণ আর কিছু সামনে বট-পাকুড় গাছের ডালপালা কাটা নিঃসঙ্গ কাণ্ড ঠায় দাঁড়িয়ে আছে উঁচু ঢিবিরটার উপর। তুলনামূলক উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত গাছের মোটা কাণ্ডটা রাতের অস্পষ্ট আলোয় কেমন জড়সড় দৈত্যের মতো দেখায়, যেন এখনই হাত উঁচিয়ে হোসেনের পথ অবরুদ্ধ করবে। প্রাণপণে সে আয়াতুল কুরসি পড়তে শুরু করে। উত্তেজনা ও আতঙ্কে হোসেন কয়েকবার ভুল করে আবার শুরু থেকে সুরা পাঠ আরম্ভ করে। কিন্তু ভয় তো দমে না। সে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে বলতে থাকে—“আমারে কিছু কইব না, আমি তো চাই নাই গাছটা কাটা পড়ুক।’’ চেষ্টা সফল হয় বলে মনে হয় না। ভয় তো কমেই না এমনকি এবার হোসেনের নিশ্বাস ভারি হয়ে আসে, শরীর বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়তে থাকে অঝোরে। “হায় আল্লা রক্খে করো গো!’’ ওর আকুতির কদর আল্লাহ্ করেন শেষ পর্যন্ত; বট-পাকুড় গাছের সীমানা পার করার আগেই এক মানব সন্তানের অস্তিত্ব টের পায় হোসেন। ভলুকসির দিকেই যেহেতু হাঁটছে তাহলে পরিচিতই কেউ হবে, হালে পানি পায় সে। বাজারের পর দীর্ঘ নির্জন পথ শেষ হলেই ভলুকসি গ্রাম। একটু এগিয়ে পথচারীর কাছাকাছি আসলে হোসেন চিনতে পারে হিন্দু পাড়ার দর্জি বিষ্ণুকে। ডান পায়ের তুলনায় বাম পা খানিক ছোট হওয়ার ফলে বিষ্ণু অনেকটা খুঁড়িয়ে হাঁটে। তাই সামনে থেকে চেহারা স্পষ্ট না দেখলেও অন্ধকারে হোসেনের তাকে চিনতে অসুবিধা হয় না তেমন। এমনিতে হরিপুর বাজারেই হোসেনের দোকান ঘেঁষে ওর গজ কাপড়ের দোকান। কয়েকমাস আগে দোকানের সীমানা নিয়ে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা আর হাতাহাতি হয় হোসেন আর বিষ্ণুর মধ্যে। আকস্মিক এই বিপদে দুশমন মানব সন্তান বিষ্ণুই তার একমাত্র আশ্রয়, রক্ষাকর্তা। সহসা পায়ের আওয়াজ পেয়ে বিষ্ণু হাঁটার গতি বাড়িয়ে পেছন ফিরে তাকায়। তারপর পরস্পরের চোখে চোখ পড়তেই হোসেনের সাধ জাগে বিষ্ণুকে একবার জড়িয়ে ধরার। কিন্তু তখন পর্যন্ত ওরা কেউ কাউকে বলে না কিছু। অবশ্য তাৎক্ষণিক বিষ্ণুর অস্ফুট স্বর শুনে বুঝতে বাকি থাকে না যে ভয়ে সেও তার রামের নামে ফেনা তুলছিল। এবার তাদের হাঁটার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি চুপচাপ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে হেঁটে যায় তারা ভলুকসির দিকে।
ভলুকসি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ চাষের কাজ করে। বাকিরা ব্যবসা করে, হরিপুর বাজারে দোকান চালায় অনেকে। তাদের গ্রামের সাথেই বাজার। মাঝে শুধু জঙ্গল ঘেরা পথটুকু। আর বাজার ছাড়িয়ে সামনে এগোলে নদী, নদীর ওপারে মহাসড়ক। এই গাঁয়ের লোকেদের বড় পরিসরে তাদের গ্রাম্যজীবন ছাড়িয়ে নিজেদের অন্বেষণ করার স্পৃহা তৈরি হয়নি। গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে একমাত্র মক্তব। অবশ্য পার্শ্ববর্তী গ্রাম কানাইনগরে চেয়ারম্যানের প্রতিষ্ঠিত প্রাইমারি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করানোর সামর্থ্য আছে হোসেনের মতো কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর। কালু চেয়ারম্যান ভলুকসির অধিকাংশ কৃষি জমির মালিক। তার জমিতেই বেগার খাটে গ্রামের কৃষকরা। এই কৃষি জমিগুলোর দেখভাল করে মনসুর মেম্বার। গ্রামের সকলে তাকে মান্য করে চলে। করবেই বা না কেন, কেউ হাল চাষের কাজ চাইলে তার কথা মনসুর মেম্বারই তো চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে পাড়ে। গায়ের কারো সাধ্য নেই নিরাপত্তাধীন মহৎ ব্যক্তিত্ব কালু চেয়ারম্যানের সাথে সরাসরি দেখা করে। তাই মেম্বারই একমাত্র ভরসা, দ্বিতীয় কোনো বিকল্প উপায়ও অবশ্য ছিল না কারো কাছে।
পথের ধারে যে গাছের মৃত কাণ্ড রাতবিরেতে সবাইকে ভয়ে মূর্ছিত করে, সেই গাছ ঘিরে বিষ্ণু, হোসেন সর্বোপরি ভলুকসি গ্রামের মানুষের স্মৃতির শেষ নেই। গত কয়েক দশক ধরেই জোড়াগাছটি ছিল তাদের আশ্রয়স্থল, সুখে দুঃখে এক নীরব ছায়া। গ্রামে কারো অসুখবিসুখ হলে গাছের ডালে লাল ফিতা বেঁধে মানত করা; তাছাড়া ব্যবসায় ভাটা পড়লে কিংবা খরার মৌসুমে বৃষ্টির দেখা পেতে গ্রামবাসীর আকুতি-মিনতি কোনো কিছুই বিফলে যেত না। তখন রাতবিরেতে এই পথে যেতে কেউ ভয় পেত না। তাই বাজারে দোকানপাট সন্ধ্যায় বন্ধ করে সূর্যাস্তের আগে বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল না দোকানিদের। এখন সব অতীত, অনুশোচনা আর খেদ সব এসবেই রূপান্তরিত হয়েছে। গ্রামের মাতব্বর মনসুর মেম্বার পশ্চিম পাড়া মসজিদে নতুন খতিব যে এনেছিল, সে কঠোরভাবে শিরকের পরিণামরে ভয়াবহতা জানিয়ে দেয়। আর গাছের কাছে মানত করা তো অতিশয় শিরক। দফায় দফায় বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে খতিব সাহেব বট-পাকুড় গাছকে কেদ্র করে প্রতিষ্ঠিত আচারকে পরিত্যাগের নির্দেশ দেয়। নতুন খতিবের কথামতো গ্রামের লোকেরা এই চরম পাপ থেকে অব্যাহতি নিলেও শেষপর্যন্ত যেন মন সায় দেয় না তাদের। লাগোয়া বট-পাকুড় গাছদুটো হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে টিকে ছিল এতকাল। হোসেন নিজেও ছেলে সন্তানের আশায় মানত করেছিল সেখানে। গাঁয়ের লোকেরা বিশ্বাস করে এই গাছে এক সাদা জ্বিন থাকে, যে কিনা গাঁয়ের সকলের মনস্কামনা পূরণ করতেই এসেছে। বংশ পরম্পরায় এভাবেই তাদের বিশ্বাস ও চর্চা অব্যাহত ছিল যুগ যুগ ধরে।
গাছ-জোড়া যেদিন কেটে ফেলা হলো, সেদিন কেউ তাতে বাধা দিতে আসেনি। গ্রামের হর্তাকর্তা মনসুর মেম্বারের সিদ্ধান্তের উপর কথা বলার কথা ভাবতেও পারে না কেউ। তবে আর বাকি দিনগুলোর মতো সেদিন কয়েক বাড়ির উনুনে আগুন জ্বলেনি, হরিপুর বাজারে চায়ের দোকানে জমেনি বয়োজ্যেষ্ঠদের আড্ডা, কোনো এক বাড়ির গৃহিণী সন্ধ্যা পেরোলেও ভুলে গিয়েছিল মেলে দেওয়া শুকনো কাপড় তুলতে। শেষ পর্যন্ত গাছ দুটো কেটে গাছের ডাল বোঝাই করে ভ্যানগুলো কানাইনগর গ্রামের কালু চেয়ারম্যানের ইটভাটার পথে রওনা দেয়। গাঁয়ের লোকেরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল এসব দৃশ্য। নিজেদের মধ্যে টুকটাক কানাঘুষা করেছে যা, তা যেন হাওয়ায় মিলে গেছে। বিষ্ণু সেদিন সকালে বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেও উৎসুক জনতার সাথে দাঁড়িয়ে সেও গাছজোড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্মৃতিগুলো ভাগাভাগি করছিল, “গত মাসেই আইসা মাইয়ার জ্বর সারনের জন্য মানত করলাম।’’ গাছটা কেটে ফেলায় কার কতটুকু লাভ বা স্বার্থ, বা আদৌ কোনো লাভ আছে কিনা তা নিয়ে বিষ্ণুর কিংবা গ্রামবাসীদের কারো কোনো মাথা ব্যথা ছিল না।
পাশাপাশি হেঁটে যেতে যেতে বিষ্ণুর মনে কৌতূহল জাগে হোসেনের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা নিয়ে, ওর সাইকেলের কী হলো, চুরি গেল নাকি। রোজ সকালে হোসেন সাইকেলটা বিষ্ণুর দোকানের খুঁটি ঘেঁষে হেলান দিয়ে রাখত। ফলে বিষ্ণুর দোকানের প্রবেশপথ কিছুটা জুড়ে থাকত তা, সেই নিয়ে কত ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এসব ইতিহাস ভাবনাচিন্তার মধ্যে ইতোমধ্যে উত্তরপাড়ার কাছাকাছি চলে আসে তারা। এক পা ছোট বিষ্ণুর শরীর দুলিয়ে হাঁটার ভঙ্গি দেখে হোসেনের মনে মায়া ও অপরাধবোধ হয়। একবার সে ঘাড় ঘুরিয়ে বিষ্ণুর দিকে তাকায়, আর ভাবতে থাকে ও বাড়ি ঢুকে গেলে বিষ্ণু বাকিটা পথ একা একা হেঁটে যাবে। কখন যে হিসেবের কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আরও আগেই কাজ শেষ করতে না পারার জন্য বিষ্ণু মনে মনে নিজেকে ভর্ৎসনা করতে থাকে। আবার সামনেই মনসুর মেম্বারের বাড়ি, দীর্ঘদিন জ্বরে ভুগে গতকালই মরেছে লোকটা। গ্রামের ময়মুরুব্বিগণ বলাবলি করেছে এ নাকি তার কর্মেরই ফল। সাদা জ্বিনের আবাসস্থল ঐ গাছজোড়া উচ্ছেদ করে দেওয়ার কারণেই নাকি মেম্বারের ঘাড়ে দুষ্ট জ্বিন আছর করে তাকে মেরে ফেলেছে।
গাছ দুটো কেটে ফেলার কিছুদিন পর থেকে সূর্যাস্তের পর ঐ পথে কেউ একা হেঁটে গেলে প্রায়সই গোঙানির মতো কান্নার আওয়াজ পেত। কখনো বা কাঁচা মাছের তীব্র গন্ধ। একবার নাকি এক হরিপুরের ব্যবসায়ী অস্বাভাবিক এক অবয়বও দেখেছিল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতেই হোসেন, বিষ্ণুরা দফায় দফায় মেম্বারের শরণাপন্ন হয়েছে। তখন মেম্বার সুস্থ-সবল ছিল। তারপর কালু চেয়ারম্যানের পরামর্শে মেম্বার গ্রামের সব লোক ডেকে ঘোষণা করেছিল যে গাছ দুইটার কাণ্ড উপড়ে ফেলে ওখানে নতুন এক বিশাল পাকা মসজিদ করা হবে। মসজিদের জন্য চাঁদা তোলা হবে গ্রামবাসীর কাছ থেকে, এই মহৎ কাজের অংশীদারিত্ব থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়। মসজিদে নতুন খতিব আনা হবে, সর্বক্ষণ হবে আল্লাহর ইবাদত। তাহলে আর কারো ঐ রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় হবে না। নিয়তির কী কঠিন পরিহাস, মৃত্যু তাকে সেই মহৎ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করল।
অপঘাতে মরেছে, সেই বাড়ির পাশ দিয়ে বিষ্ণু একা হেঁটে যাবে এই ভেবে পায়ের গতি কমে যায় ওর। বাজারের দোকানে তার চরম অস্বস্তি আর বিরক্তির উদ্রেককারী যে হোসেন, তার সম্ভাব্য অনুপস্থিতি বিষ্ণুর মধ্যে ভীষণ নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। তবে এই ভেবেও বিষ্ণু নিজেকে ধরা দিতে চায় না। এদিক ওদিক তাকিয়ে মনে মনে নিজেকে সাহস দেয়ার চেষ্টা করে সে বিড়বিড় করে বলতে থাকে, “সাদা জ্বিন তো আজ পরযনতু কোনো ভালা মানুষের ক্ষেতি করে নাই। হ্যায় য়া তো গাছ কাইট্টা ভাটার মইধ্যে দিয়া দিছে, তাই তারে মারছে। আমারে মারব না।’’
ইতোমধ্যে সেই চূড়ান্ত ক্ষণে পৌঁছে গিয়েছে তারা। হোসেন তার গন্তব্যে পৌঁছেছে। ওরা দু’জন এবার ইতস্তত করে এক ঝলক পরস্পরের দিকে তাকায়, কেউ কিছু বলে না। হোসেনের বাড়ির আঙিনা পার করে কয়েক পা সামনে এগিয়ে আসে বিষ্ণু। আরও কিছুদূর এগিয়ে এসে সে উপলব্ধি করে পেছনে হোসেন দাঁড়িয়ে আছে, বাড়ির দরজায় এখনও পা বাড়ায়নি সে। ‘‘পিছন ঘুইরা একবার দেহুম নাকি?” বিড়বিড় করে বলতে বলতে হাঁক শোনে “বিষ্ণু, অ বিষ্ণু।’’ বিষ্ণু হকচকিয়ে ওঠে, হোসেন তাকে ডাকছে! এবার সে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়ে তাকায় তার প্রতিবেশী দোকানি দুশমনের দিকে। “একটু দাঁড়া ভাই, আমার পোলাডারে ডাইকা আনি, কিছুদূর আগায় দেই তোমারে।’’ এই বলে দ্রুতপায়ে হোসেন তার বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। বিষ্ণু ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, এখন কিছুক্ষণ যে সে একা দাঁড়িয়ে আছে তাতে তার বিন্দুমাত্র ভয় করে না। কয়েক হাত দূরত্বে মনসুর মেম্বারের কবর, অথচ বিষ্ণুর মনে এতেও আর কোনো ভয় নেই। ভয়কে ছাপিয়ে এক অভূতপূর্ব অমোঘ আন্তরিকতার ভারে তার চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে। বিষ্ণু ঝাপসা চোখে দেখতে পায় হোসেন আর তার ছেলে বাড়ির দরজা দিয়ে লণ্ঠন হাতে এগিয়ে আসছে তার দিকে।








