রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি কমিয়ে ২ হাজার ২০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সমাবর্তনে অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। ২৩ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপ-উপাচার্যের কার্যলয়ে উপস্থিত হয়ে তারা এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়া সমাবর্তনে ভালো বক্তা ও নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধুমাত্র স্নাতকোত্তর ক্যাটাগরিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই একটি ক্যাটারিতে ৩ হাজার ৫৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ঢাবিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ছিল দুই হাজর টাকা করে, জাবিতে স্নাতকে এক হাজার ৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তরে এক হাজার ৫০০ টাকা, যৌথ ক্যাটাগরিতে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং চবিতে উভয় ক্যাটাগরিতে দুই হাজার টাকা নির্ধারিত ছিল। সেই হিসেবে রাবির এই ফি নিঃসন্দেহে অতিরিক্ত ও বাস্তবতা বিবর্জিত। যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনও কাঙ্খিত চাকরি পাননি এবং এখনও নিজের খরচ নির্বাহ করছেন কষ্ট করে। সেখানে এত টাকা খরচ করে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।
অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১১-২০১৪ সেশনে মাস্টার্স পাস করা ব্যাচকে হিসাবের আওতায় আনলে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে, যারা এখনও বেকার। কেউবা ঢাকায় টিউশনি করে চলছেন আর চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ বাড়ি থেকে খরচ এনে কোচিং করছেন, কেউ পার্ট টাইম চাকরি করে নিজের খরচটা কষ্ট করে চালিয়ে নিচ্ছেন, অনেকে আবার বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন এই অবস্থায় তাদের পক্ষে ৩ হাজার ৫৭০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন, তারপর রাজশাহীতে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাড় করে কাঙ্খিত সমাবর্তনে অংশ নেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য।
শিক্ষার্থীদের দবি, ঢাবি, জাবি ও চবির তুলনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যদি ২ হাজার টাকায় সমাবর্তন করতে পারে তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেন পারবে না?
গত ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩ নভেম্বর থেকে সমাবর্তনের নিবন্ধন শুরু হবে। চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর এবং এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারীগণ এ সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রত্যেকটি ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারীদের ৩ হাজার ৫৭০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক মশিহুর রহমান।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘উপাচার্য রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি আসলে সমাবর্তন কমিটির মিটিং-এ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
/এনএ/








