পাঁচ দশক পেরিয়ে সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করলো তিন পার্বত্য জেলার প্রথম নারীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ উপলক্ষে সমবেত হয়েছিলেন বিদ্যালয়টির নানা বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিন পর স্কুল বন্ধুদের কাছে পাওয়ার আনন্দে অত্মহারা সাবেক শিক্ষার্থীরা যেন ফিরে পেয়েছিলেন স্বর্ণালি কৈশোর। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে অংশ নেন এই বর্ণিল উৎসবে। র্যালি, স্মৃতিচারণ, আর সাংস্কৃতিক আয়োজনে ভিন্নমাত্রা পায় এই উৎসব।
দুইদিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তি উৎসবে সম্মান জানানো হয় স্কুলের সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে। শিক্ষকদের মাঝে সম্মাননা পেলেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়াত তিন প্রধান শিক্ষক মজিবুল হক, প্রতিমা চৌধুরী এবং কাশ্মিরী বেগম, সাবেক প্রধান শিক্ষক আঞ্জুলিকা খীসা এবং সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরূপা দেওয়ান, অনিতা চাকমা, মো. সলিমুল্লাহ প্রমুখ। স্কুলটির পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্যেও স্বাক্ষর রাখেন, এমনকি ব্যক্তিজীবনের নানা ক্ষেত্রে সফল কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতীয় ফুটবল দলের আলোচিত কোচ ও রেফারি জয়া চাকমা, মডেল অভিনেত্রী অপর্ণা, নিলুফার আক্তার জাহান, কণক চাঁপা চাকমা, কাবেরি গায়েন, ফারহানা বিনতে আজিজ, বন্দনা দে, লাকী দে, তানজীনা নওশীন আক্তার, চৈতালী সামাদ্দার, আঁখি দে, হৃদিতা মাহমুদ, ফিফা চাকমা, জয়া চাকমা, ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হ্যান্ডবল দলের সদস্য রীনা দেওয়ান, মাইকোচি মগ, বীণা প্রভা চাকমা, শিমলা চাকমা, উৎপলা চাকমা, তহ্না চাকমা, মিনাক্ষী দে, প্রমীরা চাকমা, মিতা চাকমা, স্বপ্না মারমা, মিনু প্রু মারমা, শর্মিষ্ঠা চাকমা ও মা শৈ চিং রোয়াজা এবং ১৯৯৪ সালে চ্যাম্পিয়ন ও ১০৯৫ সালে হ্যান্ডবলে রানার্সআপ হওয়া দলটির স্বর্ণা দেওয়ান, গীতা চাকমা, ইয়েন দে, শিল্পী দে, রুনু দাশ, শাম্মি আক্তার, নাজনীন আনোয়ার, ফাহমিতা মহসিন, শ্রদ্ধা চাকমা, রলি চাকমা, শ্যামলী মারমা, কোরি খীসা ও ময়না রায়কে (মরনোত্তর) সম্মান জানানো হয়। প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মান পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন আপ্লুত তেমনি শিক্ষরাও।
এতবছর পর সবার দেখা পেলাম, সেই দুরন্ত কৈশোর, স্মৃতির দিনগুলো ফিরে এসের কেমন করে হারিয়ে গেল। কর্মব্যস্ততায় যাদের সঙ্গে দেখা হয় না, কথা হয় নাÑএমনকি যে মুখগুলি জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাচ্ছিল, সেই বন্ধুদেরও দেখা পেয়ে সত্যি হারিয়ে গিয়েছিলাম। কী করে যে দুইদিন পেরিয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি। কথাগুলো বলছিলেন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাসলিমুন নাহার লিমা।
দুই দিনের এই আয়োজনে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রায় প্রতি বর্ষের শিক্ষার্থীরাই অংশ নেন এই আয়োজনে।
/এফএএন/








