জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন ইউনিটের মেধাতালিকার প্রথম দিকেই ছিলেন চার শিক্ষার্থী। নিয়ম অনুযায়ী রবিবার (১২ নভেম্বর) সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন তারা। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাদের স্থান হয়েছে থানা হাজতে।
আটক চার শিক্ষার্থী হলেন— ইমাম হোসেন, আশিকুল হাসান রবিন, মাহবুব হোসেন ও অমিত হাসান। তাদের মধ্যে রবিন ছাড়া বাকি সবাই জালিয়াতির কথা স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন।
প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ সহায়তা নিয়ে মেধাতালিকার শুরুর দিকেই স্থান পান চার ভর্তিচ্ছু। তবে সাক্ষাৎকারে এসে তারা ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারেননি। তাদের হাতের লেখাও ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মেলেনি। এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকদের কাছে স্বীকার করতে বাধ্য হন, টাকার বিনিময়ে তাদের পরীক্ষা অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছিল।
জানা গেছে, আইন অনুষদের (এফ ইউনিট) মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান লাভ করেছিলেন ময়মনসিংহের সদর থানার ইমাম হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে রাহাত নামের এক শিক্ষার্থী তার হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। একই অনুষদে ১৬তম অবস্থানে থাকা কুষ্টিয়ার সদর থানার আশিকুল হাসান রবিনকেও একই অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
এদিকে, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের (ই ইউনিট) মেধা তালিকায় তৃতীয় হয়েছিলেন বগুড়ার আদমদিঘির মাহবুব হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সনদ নামের এক শিক্ষার্থী সাড়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে তার হয়ে বদলি পরীক্ষা দেয়।
‘প্রক্সি’ সহায়তা নিয়ে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) এইচ ইউনিটের মেধা তালিকায় ১১তম স্থান লাভ করেছিলেন কেরানীগঞ্জের অমিত হাসান। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে সনেট নামের এক শিক্ষার্থী ‘প্রক্সি’ পরীক্ষায় বসে।
আইআইটির পরিচালক কে এম আককাছ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অমিতকে ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র থেকে দুই দফায় বিভিন্ন প্রশ্ন করলে সে একটিরও উত্তর দিতে পারেনি। উত্তরপত্রের হাতের লেখার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের হাতের লেখারও আংশিক গড়মিল পাওয়া যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রক্সি সহায়তা নেওয়ার কথা স্বীকার করে। আমরা তাকে ভর্তির অযোগ্য ঘোষণা করে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎকারের হাতের লেখা মেলেনি। তাছাড়া মেধা তালিকায় তাদের অবস্থান অনুযায়ী অনেক প্রশ্নের উত্তরও তারা দিতে পারেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু সৈয়দ বলেন, ‘আটক চার শিক্ষার্থীকে আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় আশুলিয়া পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।’
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আটক শিক্ষার্থীদের থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








