চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জু মিয়া। চলতি শিক্ষাবর্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছেন তিনি। ভর্তি হয়েছেন ঠিকই কিন্তু এই পড়াশোনা আদৌ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন কিনা সে নিয়ে সন্দিহান পিতৃহীন মঞ্জু মিয়া।
জামালপুরের বক্সিগঞ্জ উপজেলার কুশল নগরের মৃত কৃষিশ্রমিক মঞ্জুর আলীর ছেলে মঞ্জু মিয়া । মঞ্জুর আলী ২০১১ সালের ১৯ এপ্রিল মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর দিন থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মঞ্জু মিয়া । বিধবা মা,দুইভাই, এক বোন আর নিজে মোট পাঁচ সদস্যের সংসারের বোঝা টানার সঙ্গে সঙ্গে নিজের পড়ালেখা অব্যাহত রাখার সংগ্রাম চালিয়ে যায় মঞ্জু। সপ্তাহে চারদিন স্কুল আর তিন দিন অন্যের জমিতে কাজ- এভাবে চলতে চলতে অবশেষে ২০১৫ সালে ঝগড়ার চর হাই স্কুল থেকে ৩ দশমিক সাত দুই পেয়ে এসএসসি পাস করেন তিনি।
এসএসসি পাসের পড়ালেখা থামিয়ে দেননি তিনি। ভর্তি হন শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার সরকারী কলেজে। আগের মতোই পড়ালেখা ও কৃষিকাজ একসঙ্গে চালিয়ে যান। তিন দশমিক নয় দুই পেয়ে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি।
জীবনের দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে রাজি নন তিনি। তাই কোনও প্রকার কোচিং ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে নেমে পড়েন। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি সাফল্য এনে দেয় তাকে। তিনি এখনচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু পাঁচ বছরের শিক্ষা জীবন শেষ করতে প্রয়োজন বিরাট অংকের অর্থ। মঞ্জু মিয়া এ ব্যাপারে কারও দয়া দাক্ষিণ্য চান না। তিনি ক্যাম্পাসের ভেতরেই একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ চান, যা দিয়ে নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি ভাইবোন- মাকে বরাবরের মতো সহায়তা করা যায়। তিনি বলেন, একটি চাকরি হলে তিনি মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারবেন। পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদেরও না খেয়ে থাকতে হবে না।








