দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বৈশাখকে বরণ করে নিতে জোর প্রস্তুতি চলছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও লেগেছে উৎসবের আমেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেই দেখা যাবে বিভিন্ন বিভাগে চলছে বৈশাখী প্রস্তুতি। কেউ ছবি আঁকছেন, কেউ মুখোশ গড়ছেন, কেউ বা আবার হাঁড়ি-পাতিলের ওপর কারুকার্য করছেন। সেগুলোই কিছুক্ষণ পর টাঙানো হচ্ছে দেয়ালে। শিল্পকর্ম নির্মাণে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
সরেজমিনে মীর মশাররফ হোসেন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলছে গানের আসর। এখানে কাজ করছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাগর আলী। তিনি বলেন, ‘দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তৎপরতা। এখানে আমরা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। এই কাজগুলো কঠিন, কিন্তু আমরা অনেক আনন্দ নিয়ে করছি বলে কষ্ট মনে হচ্ছে না একদম। ক্লান্তিটা আড্ডা আর গানে ভুলে যাই।’ হাড়ি-কলসে রং তুলির পরশে রাঙিয়ে তুলতে ব্যস্ত আফরিন, বৃষ্টি, তন্বি, মেমী, তৌফিক, নাদিম, জলি। তারা জানালেন, বাঙালির সাংস্কৃতির সবচেয়ে বড় এই উৎসবের জন্য তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক রেবা মন্ডলের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা নির্দেশনা দিচ্ছেন ইবির বর্ষবরণ আবাহনের শিল্পকর্ম গড়ার। বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিয়াশা চাকমা বলেন, ‘এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। এবারে আমাদের সাজসজ্জার মূল বিষয় হলো বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ব্যবহার করে সৃষ্টিশীলতার বিকাশ।’
এ বছর পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন দিনব্যাপী বৈশাখী ও বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করেছে। এবারের বৈশাখের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘বিজ্ঞান হোক নবযাত্রায় পাথেয়।’ মেলায় বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি স্টল নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। মেলা ও বৈশাখী উৎসবের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘এবারের আয়োজন গত সকল বছরের আয়োজনকে ছাড়িয়ে গেছে। এবারে আমাদের ব্যতিক্রমধর্মী সংযোজন হলো বিজ্ঞান মেলা। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি সুষ্ঠুভাবে সবকিছু সম্পন্ন হবে।’








