কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) তীব্র পরিবহন সংকটের মধ্যেও চালকের অভাবে নিয়মিত চলছে না শিক্ষার্থীদের বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব দুটি বাস। সম্প্রতি আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বাস বৃদ্ধি করলেও চালকের অভাবে অন্য দুটি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন-পুলে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এদিকে নিজস্ব বাস ফেলে রেখে বিআরটিসির ভাড়াকৃত ফিটনেসবিহীন বাসে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন সংখ্যা মোট ১৭টি। কিন্তু চালক রয়েছেন মাত্র ১২ জন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বহনের জন্য রয়েছে মাত্র ৫টি বাস। তাতেও চালকের অভাবে দুটি বাস নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে করে বাস সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বিআরটিসির ভাড়াকৃত বাস সংখ্যা ১০টি। যার অধিকাংশই ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এদিকে গত মাসে ফিটনেসবিহীন বাস অপসারণ এবং পরিবহন বৃদ্ধির দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবীর চৌধুরী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এবং বিআরটিসির একটি বাস বৃদ্ধি ও চালক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন উপাচার্য। তারই ধারাবাহিকতায় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পরিবহন সংকট সমাধানে একটি বিআরটিসি বাস বৃদ্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনে যুক্ত হয় আরও একটি হিনো বাস। তবে দুটি বাস বাড়ানো হলেও চালক নিয়োগের অভাবে প্রকৃত সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘আমাদের রীতিমতো যুদ্ধ করে বাসে যাতায়াত করতে হয়। দুটি বাসে দ্রুত চালক নিয়োগ দেওয়া হলে কিছুটা হলেও ভোগান্তি কমবে।’
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা ইবনাত আনান বলেন, ‘দুটি বাস বেড়েছে কিন্তু অপরদিকে চালকের অভাবে দুটি বাস বন্ধ। অস্থায়ী হলেও দ্রুত চালক নিয়োগ দিয়ে এ বাস দুটি নিয়মিত চালু করা হোক।’
ইংরেজি ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফ বলেন, ‘আমরা পরিবহন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করেছিলাম। ভিসি স্যার দুটি বাস বাড়িয়েছেন। কিন্তু চালক সংকটে শিক্ষার্থীদের দুটি বাস না চলায় বাস বাড়িয়েও আমরা কোন ফলাফল পাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা স্বপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘ড্রাইভার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে একটু সময় লাগবে। তবে অস্থায়ী ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করবো।’








