দরজা আছে তো ছিটকিনি নেই, বদনা আছে তো ট্যাপে পানি নেই! দুর্গন্ধের কারণে ভেতরে প্রবেশ দায়। এমনই বেহাল অবস্থা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুষদ ভবনসমূহের শৌচাগারগুলোর। দিনের পর দিন পরিষ্কার না করা ও তদারকির অভাবে নোংরা হয়ে থাকে অনুষদসমূহের প্রায় প্রত্যেকটি শৌচাগার।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ ভবনের প্রতি তলায় চারটি করে শৌচাগার ও সাথে বেসিন থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। বেসিনে ট্যাপ আছে কিন্তু পানি আসে না, আবার কোনওটিতে ট্যাপই নেই। বেশিরভাগ বেসিনের উপরেই আয়না উধাও হয়ে গেছে, আবার পুরোটা থাকলেও তার উপর রঙ আর চুন পড়ে চেহারা দেখা যায় না। অনেকগুলো শৌচাগারে বদনা পাওয়া যায়নি, তাছাড়া বেশিরভাগ শৌচাগারের দরজায় কোনও ছিটকিনি নেই। ছাত্রীদের শৌচাগারগুলোর দিকেও নেই কোনও আলাদা নজর। অনেক সময় ছাত্রী প্রবেশ করলে অন্য ছাত্রীকে পাহারারত থাকতে হয়। কয়েকটি শৌচাগারের কাছে ময়লার দুর্গন্ধে যাওয়াই সম্ভব হ য়না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পরিচ্ছন্নকর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন না করায় পরিবেশ এমন নোংরা হয়ে আছে।
এই অনুষদের নীচতলায় শৌচাগারের পাশেই রয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একমাত্র ক্লাসরুম। অনেক সময় শৌচাগার থেকে আসা দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে বসে থাকতেই কষ্ট হয়।
এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কলা ও মানবিক অনুষদের সেকশন অফিসার তাহানিয়া হক বলেন, ‘কলা ও মানবিক অনুষদে দুই পাশে বিশটি শৌচাগার রয়েছে। এগুলো পরিছন্ন রাখার জন্য মাত্র দুইজন সুইপার কাজ করে। তার মধ্যে একজন অনিয়মিত। বাকি একজনের পক্ষে পুরো অনুষদ ভবনের কাজ করা কঠিন। লোকবল সংকটের কারণে ঠিকভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না।'
ঠিক একই রকম দৃশ্য দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ ভবনেও। তাছাড়া একই ভবনের প্রকৌশল অনুষদের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান পলাশ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য কোনও শৌচাগারের অবস্থাই ভালো নয়। অস্বাস্থ্যকর এসব শৌচাগার ব্যবহার এবং ব্যবহারের অনিচ্ছার ফলে বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে হয়।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর পরিষ্কার পরিছন্ন রাখার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার। তারপরেও প্রশাসনিক ভবনের অনেক শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী
এসকল বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (এস্টেস শাখা) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘লোকবল সংকটের কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। মাত্র ৩ জন সুইপার নিয়েই চলছে এই শাখা। তারমধ্যে একজন উপাচার্যের বাসভবনের জন্য নির্দিষ্ট। আমাদের অধীনে শুধু প্রশাসনিক ভবনেই সবমিলিয়ে ৫২টি শৌচাগার। এছাড়াও প্রশাসনিক ভবনের প্রায় সবগুলো রুম ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করতে হয় এ শাখার সুইপারদের। আরও ৫ জন নতুন সুইপার নিয়োগ দেওয়া হলে সুন্দরভাবে আমাদের কাজগুলো করতে পারবো।'








