মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দোলন রায়ের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চেতনাধারী শিক্ষক ও ছাত্রসমাজের ব্যানারে মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা। এসময় তারা এ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্চিত করারও দাবি রাখেন।
মানববন্ধনে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জবি সংসদের সভাপতি নাঈমুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড.এস এম আনোয়ারা বেগম আমাদের গর্ব। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানকারী এমন শিক্ষককে জগন্নাথ থেকে অবাঞ্চিত করা উচিত। অনতিবিলম্বে এমন শিক্ষক নামের কলঙ্কদের শাস্তির আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলন রায় তার ফেসবুক টাইমলাইনে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘‘মাইনরিটি নিয়ে যে সব তথা কথিত মুক্তিযোদ্ধারা (!) নানা কুরুচিমুলক কথা বলেছেন তাদের বলছি সাবধান হয়ে যান। সময় আছে এখনো। মুক্তিযুদ্ধে হাতে কি ছিল বাঁশ না লাঠি? কি নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন?? ওই নাম বিক্রি করে অযোগ্য হয়েও সব সুবিধা নিয়েছেন!! আর কত!!’’
এবিষয়ে জবির ছাত্রীহলের প্রোভস্ট বীরমুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একজন জুনিয়র শিক্ষক আমাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমি মুক্তিযোদ্ধা কি না। আমি নাকি মুক্তিযুদ্ধ না করে শুধু শুধু বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে থাকি। তিনি হয়তো আমাকে চেনেন না। তিনি শুধু আমাকে না তথা গোটা মুক্তিযোদ্ধার সম্মানকে হেয় করেছেন।
আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, ‘‘আমার মাকে পাকিস্তানিরা বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিল। আমি আর আমার বোন পাঁচ দিন না খেয়ে বনে বনে রাত কাটিয়ে পরবর্তিতে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। আমার বয়সের অনেকেই আজ নেই। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি হয়তো আজও বেঁচে আছি।’’
তবে মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আনোয়ারাকে সরাসরি অপমান করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শিক্ষক দোলন রায়। তিনি বলেন, ‘‘আমি কাউকে সরাসরি কিছু বলিনি। আমি বলেছি তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। তিনি মাইনোরিটিদের নিয়ে কথা বলেছেন তাই আমি বলেছি তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে।’’
মাইনরিটি নিয়ে কথা বলায় আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চান দোলন রায়। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু শিক্ষকদের নিয়ে আনোয়ারা বেগম ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কাজী সাইফুদ্দিন যে উশৃঙ্খল বক্তব্য দিয়েছেন এর জন্য আমি তাদের শাস্তি চাই।








