মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ সিকৃবি শিক্ষার্থীরা

সিকৃবি প্রতিনিধি
০২ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২৫আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৩৫

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ সিকৃবি শিক্ষার্থীরা সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের এমন কোনও জায়গা পাওয়া যায় না, যেখানে মশার উপদ্রব নেই। এমনকি দিনের বেলাও মশার অত্যাচারে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় মশার কামড়ে বসতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাস ও হলের আশপাশে থাকা ড্রেন, ঝোঁপঝাড়, জঙ্গলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। মশা নিধনেরও কোন কার্যক্রমের দেখা মিলছে না এখানে। যার ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এদিকে মশার উপদ্রবে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ মাইক্রোসেফালি, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত, জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসকরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কোয়ার্টার ও আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর আশপাশে ঝোঁপ-জঙ্গল ও ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব বেড়েছে। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু মশার উৎপাত। মশার কামড়ে শহীদ মিনার, ফুচকা চত্বর, বঙ্গবন্ধু চত্বর, লাইব্রেরিসহ পুরো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু তা-ই নয়, বিকেলে ক্লাস ও আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের রাতযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দীপ তালুকদার জানান, এখানে বিশেষ করে বিকেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। মশা থেকে বাঁচতে বিকল্প কয়েল, মশারির ব্যবহারও ব্যর্থ হচ্ছে বলেও জানান এই শিক্ষার্থী। এছাড়া তিনি দ্রুত মশা নিধনের ব্যাপারে প্রশাসনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহাসিনী দাশ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শম্পা সূত্রধরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পড়ালেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। মশার হাত থেকে বাঁচতে মশারির ভিতরে পড়াশোনা করতে হয়। এতে পড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দ্রুত মশা নিধনে ওষুধ প্রয়োগের দাবি জানান তিনি।

 প্রিভেন্টিভ শাখায় দায়িত্বরত মো. বাসির উদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মশা নিধনের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আগেও কোনও সময় নেওয়া হয়নি।  স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. অসীম রঞ্জন রায় বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব বেড়েছে। ফলে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। প্রত্যেকে ব্যক্তিগত জায়গা থেকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ক্যাম্পাস সিলেট সিটি করপোরেশনের বাইরে হওয়ায় এখানে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। তবে আমরা দ্রুত সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা করবো।

/এফএএন/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম