বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অগ্রগতি আমাদের অজানা নয়। দেশে অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এ খাতে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে নারীকর্মী। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে রফতানি আয়ের চাকা পর্যন্ত ঘোরাচ্ছে নারীরা। রফতানি আয়ের খাত তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মকর্তাদের ৮০ শতাংশেরও বেশি নারী। কিন্তু এই পোশাকশিল্পের কর্মীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। ফলে প্রয়োজনের সময় পানির জন্য চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। এই সংকট সমাধানে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাকশিল্পসহ দেশের সকল মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। সোমবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মোজাফ্ফর আহমেদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘দেশের তৈরি পোশাক শিল্প কর্মচারীদের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য, পানি এবং ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।
ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও কনভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির সমন্বিত উদ্যোগে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে গাজীপুর জেলার ভাদাম এলাকার পোশাক কারখানায় কর্মরত ৩০জন কর্মীর জীবনযাপন নিয়ে নিবিড়ভাবে গবেষণা করা হয়। এই গবেষণার ফলাফল মূল প্রবন্ধ আকারে কর্মশালায় তুলে ধরেন বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদিকা হক।
এছাড়াও কর্মশালায় একটি ডকুমেন্টরির মাধ্যমে নারীদের প্রতি তাদের স্বামী, বাড়ির মালিক, ফ্যাক্টরির স্টাফের বৈষম্যমূলক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি পোশাক শিল্পের কর্মীদের বাসস্থানে পানির সংকট নিঁখুতভাবে তুলে ধরা হয় ওই ডকুমেন্টারিতে।
এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সুপারনিউমেরারি অধ্যাপক ড. এ.আই. মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাকৃবির কৃষি অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম.এ. সাত্তার মণ্ডল, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিরেক্টর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান, কনভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. দ্বীপা জোসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সারিকা হালিম উপস্থিত ছিলেন।








