‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রটি উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ সত্যজিৎ রায়ের নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি তারই ছোটগল্প ‘অতিথি’ থেকে নির্মাণ করা হয়েছে। সব ধর্ম, সংস্কৃতি, জাতি, সভ্যতাকে ভালোবেসে বিশ্বমানবে পরিণত হয়েছেন আগন্তুক গল্পের প্রধান চরিত্র মনমোহন মিত্র। মনমোহন মিত্র যেমন আগন্তুক পরিচয়ে প্রশ্নবোধকের ভূমিকা পালন করেন, যেভাবে ভ্রম আর সত্যকে পৃথক করেন, একইরকম বোধ নিয়ে যাত্রা শুরু করলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের নিয়মিত চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘আগন্তুক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্রের বোধ, বিশ্লেষণ ও চলচ্চিত্র ভাবনাই আগন্তুকের মূল উপজীব্য। গত জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ প্রকাশিতব্য পত্রিকার জন্য ঢাবি শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র সমালোচনা, সাক্ষাৎকার, প্রবন্ধসহ চলচ্চিত্র বিষয়ক মৌলিক লেখা পাঠানোর আহ্বান জানায়। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক লেখাগুলো জমা দেয়। ‘আগন্তুক’ এর প্রথম সংখ্যায় মোট ১০টি লেখা ছাপা হয়েছে। এর মাঝে ৮টি প্রবন্ধ ঢাবি শিক্ষার্থীদের পাঠানো বাংলা ও বিদেশী নানা ধ্রুপদী ও সমকালীন চলচ্চিত্র নিয়ে সমালোচনা, বিশ্লেষণ এবং রিভিউ। আগন্তুকে যেমন প্রকাশ পেয়েছে সমকালীন চলচ্চিত্র কমলা রকেট, লাইভ ফ্রম ঢাকার সমালোচনা, বিশ্লেষণ তেমনি প্রকাশ পেয়েছে রানওয়ে, আবহমান, সূর্যদীঘল বাড়ির মতো ধ্রপদী চলচ্চিত্রের বিস্তারিত। রয়েছে হোটেল রুয়ান্ডা, দ্য সাইলেন্স ট্রলজির মতো চলচ্চিত্রের নির্মাণের ঐতিহাসিক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট। ‘চলচ্চিত্রের গতি দুর্গতি’ শিরোনামে বাংলা চলচ্চিত্রের আর্বিভাব ও চলমান গতি প্রকৃতি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক ও শিক্ষক মঈনুদ্দীন খালেদের একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংসদ কর্মী মসিহউদ্দিন শাকেরকে চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরু একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন তার সম্পাদিত পত্রিকা ‘চলচ্চিত্রপত্র’ এ। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চিঠিটি পুনঃমুদ্রিত হয়েছে ‘আগন্তুক’ এর প্রথম সংখ্যায়।
আগন্তুক সম্পর্কে পত্রিকাটির সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের প্রকাশনা সম্পাদক আল শাহারিয়ার জিদনী বলেন, ‘চলচ্চিত্র আমাদের মনের দৈন্যদশা দূর করে দিতে পারে। আর আগন্তুকের ভূমিকা পালন করবে আগন্তুক নিজেই। সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা যারা চলচ্চিত্র নিয়ে তাদের ভাবনা পাঠিয়েছেন, যারা এটিকে সম্ভব করে তুলেছেন।’
উল্লেখ্য, ‘সুস্থ চলচ্চিত্র ও সুস্থ দর্শক’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ কাজ করে যাচ্ছে নিয়মিত। আয়োজন করছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা, চলচ্চিত্র সাময়িকী, পাঠচক্র এবং কর্মশালা। পত্রিকাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ কক্ষ (২য় তলা, টিএসসি) ও আজিজ সুপার মার্কেটে মাত্র ১০ টাকা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।








