করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালীন সময়েও থেমে নেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। সুষ্ঠুভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। অনলাইনে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের ক্লাস। সীমিত পরিসরে অফিস কার্যক্রমের পাশাপাশিও চলছে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা। এছাড়া নিজস্ব গতিতে চলছে প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হল নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারির শুরু দিকে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদেরকে আমরা সহায়তা প্রদান করেছি। এজন্য মোবাইল ব্যাংকিং এর সাহায্যে প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া বন্যায় আক্রান্ত জেলাসমূহের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা সম্পর্কে উপচার্য বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগে সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে ক্লাস চলছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ভালো। এছাড়া অনলাইন ক্লাসে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ২ হাজার ২১৬ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১৫ জিবি ডাটা প্রদান করা হয়েছে। আগামীতেও এ সুবিধা চলমান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। এছাড়া অনলাইনে সকলের উপস্থিতি নিশ্চতকরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইউজিসিতে শিক্ষা উপকরণ (মোবাইল) প্রদানের জন্য অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীদেরকে এ ডিভাইস দেওয়া হবে।
কোভিড-১৯ নমুনা টেস্ট ল্যাব স্থাপন নিয়ে উপাচার্য বলেন, করোনায় মহামারিতে দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সিলেটবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিতে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক ‘কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাব’ স্থাপন করা হয়েছে। যা সিলেট এমএজি উসমানি মেডিক্যালের পাশাপাশি কাজ করছে। এখানে প্রতিদিন সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৬০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে ৪ আসনের করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামীতে এ আইসোলেশন কেন্দ্র প্রশস্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
‘করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করতে শিক্ষকদের কল্যাণেও প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে’ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তরুণ শিক্ষকদের ল্যাপটক ক্রয়ের জন্য বিনা সুদে ৫০ হাজার টাকা করে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষকরা যাতে অনলাইনে সুষ্ঠুভাবে ক্লাস নিতে পারেন সেজন্য তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন ক্লাসের লজিস্টিক সামগ্রী সংগ্রহের জন্য সকল শিক্ষককে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালীন অবস্থাতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নও থেমে নেই’ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, করোনায় ভয়কে জয় করে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবন, শিক্ষাভবন-ডি বর্ধিতকরণ, সৈয়দ মুজতবা আলী হল বর্ধিতকরণসহ ৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ঢাকায় ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি আধুনিক মানের একটি গেস্ট হাউজ ক্রয় করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে এই করোনাকালীন সময়ে।
এছাড়া করোনাকালীন সময়ে বিশেষ উদ্যোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবকে আধুনিক ক্লাবে রূপান্তর, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গোলচত্বরকে দৃষ্টি নন্দন করে সাজানো, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে অ্যাম্বুলেন্সসহ ৫টি নতুন গাড়ি সংযোজন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্পোরেট চুক্তি, ক্যম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধন ও সবুজায়নের লক্ষ্যে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১৪ হাজার চারারোপণ করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন উপাচার্য।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের কল্যাণে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে গত ৮ জানুয়ারি ‘বেস্ট ডিজিটাল ক্যাম্পাস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।








