অফলাইনে রিভিউ ক্লাস নেওয়া, আবাসিক হল খুলে দেওয়া, ৭০ শতাংশ যাবতীয় ফি মওকুফসহ ৫ দফা দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোড পেইন্টিং করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের (সম্যক) শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই রোড পেইন্টিং করেন তারা। এসময় তারা সম্যক ব্যাচের লোগো পেইন্টিংসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, পরীক্ষার সময় আবাসিক হলগুলো খুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কোন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আসে তাহলে আমরা রাষ্ট্র বিরোধী কোনও কর্মকাণ্ড করবো না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শীঘ্রই আবাসন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে হবে।
‘একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিভাগীয় প্রধানদের শিক্ষার্থীদের আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতার করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তারা দায়িত্ব নিচ্ছেন না’ উল্রেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা দেখছি আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন এবং বিভাগীয় প্রধানদের মাঝে কাদা ছোড়াছুঁড়ি চলছে। তারা পরস্পরের জায়গা থেকে দায় এড়াচ্ছেন। যদিও একাডেমিক কাউন্সিলে আবাসনের বিষয়টি বিভাগীয় প্রধানদের দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘আমাদের ৫টি দাবি মানার জন্য ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কোনও সমাধান না পেয়ে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, মশাল মিছিল করেছি। তারপরও কোনও সমাধান এখনও পাইনি। আজ এ রোড পেইন্টিং চলছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এ আন্দোলন থেকে সরবো না’- বলেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ৫ দফা দাবি সম্পূর্ণ মেনে না নিলে এ আন্দোলন চরম আকার ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর একাডেমিক কাউন্সিল ১৬৩ তম সভায় আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আবাসিক হল খোলা রাখা কিংবা একসাথে ৭ জানুয়ারির দুই সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশন ফি ও ক্রেডিট ফি পরিশোধের জন্য বলা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবিসহ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়। যা গতকাল বিকাল ৫টায় শেষ হলে দাবি পূরণ না হওয়ায় মঙ্গলবার রাত ৮টায় মশাল মিছিল ও বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সোমবার বিকালে হল খোলার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়ে ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এতে করেও কোন সুরাহা না পেয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে।








