কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অবকাঠামোগত নানা সংকট নিরসনে ২০১৮ সালের অক্টোবরে একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৬৫৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প।’ কিন্তু, প্রকল্পটি অনুমোদনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ভূমি অধিগ্রহণের কাজই সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পের কাজের শুরুতেই এই বিলম্বের ফলে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে ভূমি অধিগ্রহণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে ১.২ কি.মি. দূরে প্রকল্পের অধীনে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রসারিত ক্যাম্পাসে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০০ একর জায়গা অধিগ্রহণের প্রস্তাব রাখা হয় প্রকল্পের নকশায়। ২০২৩ সালের মাঝে এই প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু অনুমোদনের দুই বছর পরেও আটকে আছে ভূমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক কাজ।
কুবির এই মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রথম দিকে আশাবাদী ছিলেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দুই বছরেও এই প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনও কাজ শুরু না হওয়ায় এখন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে হলে সেরকম সুযোগ-সুবিধা দরকার হয়। যা অনুমোদিত প্রকল্পটির যে নকশা দেখানো হয়েছিল সেখানে ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি দেখে এ প্রকল্প কবে শেষ হবে বা আদৌ আমরা এর সুফল পাবো কিনা তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’
ভুমি অধিগ্রহণে ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় নয়, জমি অধিগ্রহণ করে দেবে ডিসি অফিস। যেহেতু সরকার আমাদের দিচ্ছে, সেহেতু সরকারিভাবেই এই জমি অধিগ্রহণ করে দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে। এখনও পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজ করার জন্য পরিকল্পনা চলছে।’
সব ঠিক থাকলেও কেন জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে কুবি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছি। তবে পুরো টাকাটা এই অর্থবছরে বরাদ্দ নেই। আর পুরো টাকা না দিলে ডিসি অফিস জমি অধিগ্রহণ করে দিতে পারবে না। তাই দেরি হচ্ছে।’
এদিকে ভূমি অধিগ্রহণ এখনও না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সঠিক সময়ে কাজ শেষ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ এর প্রকল্প পরিচালক সানোয়ার আলীকে ফোন দেওয়া হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রধান প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ ২০০ দশমিক ২২ একর, ভূমি উন্নয়ন (১০০ একর), একাডেমিক ভবন নির্মাণ চারটি (প্রতিটি ১০ তলা), প্রশাসনিক ভবন একটি (৬ তলা), ছাত্র-ছাত্রী হল নির্মাণ চারটি (দু’টি করে প্রতিটি ১০ তলা), উপাচার্যের বাসভবন নির্মাণ একটি (দু’তলা), শিক্ষকদের আবাসিক ভবন নির্মাণ একটি (১০ তলা), ডরমেটরি ভবন নির্মাণ একটি (১০ তলা), ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র নির্মাণ একটি (৫ তলা), অডিটোরিয়াম নির্মাণ একটি (৩ তলা), মেডিক্যাল সেন্টার নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, লেক খননসহ বেশ কয়েকটি কার্যক্রম।
প্রসঙ্গত, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১১ তম সভায় ১ হাজার ৬ শত ৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন পায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত।








