৫ দফা দাবি ও ১টি প্রশ্ন নিয়ে চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। তবে ক্যাম্পাস খুললে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এমন আশ্বাসেই আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলন স্থগিতের কথা জানান আন্দোলনরত ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ‘গতকাল ভিসি স্যার এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন । যেখানে শাবি প্রশাসনের কাছে আমাদের পাঁচটি দাবি এবং একটি প্রশ্ন ছিলো। আমাদের চারটি দাবি নিয়ে প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের আরও একটি দাবি ছিলো সকল ধরনের ফি ৭০% মওকুফ করা। আশা করি, প্রশাসন এই বিষয়েও অতিদ্রুত গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কোনও শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অপারগ (শারীরিক ও মানসিকভাবে) হয়, সেক্ষেত্রে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
উপরোক্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ও সুনির্দিষ্ট সমাধানের প্রত্যাশায় চলমান আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি চলমান থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সাথে ছুটি শেষে বসে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও তারা জানান। যেখানে এর পূর্বে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিসমূহ নিয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারের সাথে আলোচনায় বসেন।
আন্দোলন শুরু মূল কারণ হিসেবে শিক্ষাথীরা জানান, হঠাৎ করে অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের অসমাপ্ত পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ৭ জানুয়ারির মধ্যে সেমিস্টার ফি ও ক্রেডিট ফি পরিশোধের জন্য সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবি ও ১টি প্রশ্ন নিয়ে উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয় শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে দাবি সমূহ মেনে নিতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
আল্টিমেটামে কোনও সুরাহা না পেয়ে বিগত কয়েকদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান কর্মসূচি, মশাল মিছিল, রোড পেইন্টিংসহ বিভিন্ন কর্মসিূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয় যায়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা গত ২৭ ডিসেম্বর ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা ও বিশ্ববিদ্যালয় খুললে প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি পেয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর আলোকে যতটুকু সম্ভব শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা মেডিক্যাল সেন্টার প্রস্তুত রাখছি। যাতে করে শিক্ষার্থীদের কোনও ধরণের সমস্যা না হয়।’
‘ক্যাম্পাস খুললে তারা চাইলে আমরা তাদের সাথে বসবো’ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, অযৌক্তিক কোনও দাবি নিয়ে এলে আমরা তা মানবো না। তারা যদি যৌক্তিক দাবি নিয়ে আমাদের সাথে বসতে চায়, আমরা বসবো। এসময় শিক্ষার্থীদের চলমান আান্দোলন স্থগিতের ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে পরীক্ষার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ছিলো- পরীক্ষার পূর্বে রিভিউ ক্লাসের ব্যবস্থা করা, যাবতীয় ফি ৭০% মওকুফ করা, আবাসনে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শতকরা ১০০ ভাগ উপস্থিতি নম্বর দেয়া, পরীক্ষার মাঝে ক্রেডিট প্রতি দুইদিন করে বিরতি দেয়া এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর সুনির্দিষ্টি নীতিমালা প্রকাশ করা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের দাবির অন্তর্ভুক্ত প্রশ্নটি ছিলো- পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোনও শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অপারগ (শারীরিক ও মানসিকভাবে) হলে, তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কি ধরনের পদক্ষেপ নেবে?








