জবির ৩ বিভাগ অধ্যাপকশূন্য, ৮ বিভাগে ১ জন

জবি প্রতিনিধি
৩১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৯আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৯

অধ্যাপক ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৩ বিভাগ। মাত্র ১ জন করে অধ্যাপক দিয়ে চলছে ৮ বিভাগ। রহস্যজনক কারণেই অধ্যাপক নিয়োগ হচ্ছে না এসব বিভাগে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধ্যাপকশূন্য রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ, সংগীত বিভাগ ও নাট্যকলা বিভাগ। এছাড়াও একজন করে অধ্যাপক দিয়ে চলছে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রাণরসায়ন ও অনুজীব বিজ্ঞান, ফার্মেসি, আইন, ফিল্ম টেলিভিশন, লোকপ্রশাসন, সাংবাদিকতা ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগ।

অধ্যাপক ঘাটতিতে যেমন ব্যাহত হচ্ছে বিভাগগুলোর গবেষণা, তেমনই এসব বিভাগগুলোর মধ্যে অনেক বিভাগের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ। ডিন ও বিভাগীয় প্রধান পদ ধরে রাখতেই অধ্যাপক নিয়োগে বাধা তৈরির অভিযোগও রয়েছে কারোর কারোর বিরুদ্ধে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন (২০০৫) এর ২৪ নং ধারার ২ নং উপধারায় বলা আছে, ‘বিভাগীয় অধ্যাপকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে তিন বৎসর মেয়াদে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত হইবেন।’ ২৪ নং ধারার ৩ নং উপধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনও বিভাগে অধ্যাপক না থাকেন তাহা হইলে ভাইস-চ্যান্সেলর সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে একজনকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিযুক্ত করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, সহযোগী অধ্যাপকের নিম্নের কোনও শিক্ষককে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা যাইবে না। আরও শর্ত থাকে যে, অন্যুন সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার কোনও শিক্ষক কোনও বিভাগে কর্মরত না থাকিলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রবীনতম শিক্ষক উহার চেয়ারম্যান হইবেন।’

ডিন হিসেবে নিযুক্তির ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন (২০০৫) এর ২২ নং ধারার ৫ নং উপধারায় বলা আছে, ‘ভাইস-চ্যান্সেলর সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে প্রত্যেক অনুষদের জন্য উহার বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপকদের মধ্য হইতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পালাক্রমে দুই বৎসর মেয়াদের জন্য ডিন নিযুক্ত করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোনও ডিন পরপর দুই মেয়াদের জন্য নিযুক্ত হইতে পারিবেন না। আরও শর্ত থাকে যে, কোনও বিভাগে অধ্যাপক না থাকিলে সেই বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপক ডিন পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হইবেন এবং কোনও বিভাগের একজন অধ্যাপক ডিনের দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে ঐ বিভাগের পরবর্তী পালাসমূহে অবশিষ্ট অধ্যাপকগণ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন পদে নিযুক্তির সুযোগ পাইবেন। আরও শর্ত থাকে যে, একাধিক বিভাগে সমজ্যেষ্ঠ অধ্যাপক অথবা সহযোগী অধ্যাপক থাকিলে সেক্ষেত্রে তাহাদের মধ্যে ডিন পদের আবর্তনক্রম ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক নিদিষ্ট হইবে।’

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এতসব আইনকে পাত্তা না দিয়ে বছরের পর চেয়ার দখল করে থাকছেন অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্যের পাশাপাশি, নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধেই। এসব অধ্যাপকদের বিভিন্ন নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার সংবাদ উঠে আসলেও অনেক ক্ষেত্রেই গ্রহণ হয়নি কোনও ব্যবস্থা।

আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আলী আক্কাস সরকার আইন ভঙ্গ করে পর পর চারবার ডিন হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। সরকার আলী আক্কাস ২০১২ সালের ৯ মে থেকে ২০১৮ সালের ৮ মে পর্যন্ত ডিনের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চতুর্থবার তাকে পুনরায় নিয়োগ দিলে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খ্রীষ্টিন রিচার্ডসনকে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০২০ সালের ১৫ জুন খ্রীষ্টিন রিচার্ডসনের মেয়াদ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের দুই বিভাগে আরও তিনজন সহযোগী অধ্যাপক থাকার পরেও নিয়ম অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ না দিয়ে সরকার আলী আক্কাসকে আবারও চতুর্থবারের মতো ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার আলী আক্কাস ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বর্তমান সময় পর্যন্ত একাধারে ১১ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে আইন বিভাগে দুইজন সহযোগী অধ্যাপক আছে, কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কাউকেই এখন পর্যন্ত পালাক্রমের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়নি।

ফার্মেসি বিভাগে প্রায় ১০ বছর ধরে বিভাগীয় প্রধান রয়েছেন বিভাগের একমাত্র অধ্যাপক ড. এ. জেড. এম রুহুল মোমেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপর উপুর্যপরি জরিমানা চাপানোর অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম উপেক্ষা করে ভর্তি বা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে প্রায় ৫ বছর ধরে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক জুনায়েদ আহম্মদ হালিম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে প্রায়দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকেন তিনি। এছাড়াও তার ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে এক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে । ওই শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরের অনুমতিও আমলে নিচ্ছেন না তিনি। পরীক্ষায় বসতে গেলে একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে ঐ শিক্ষার্থীকে।

২০১০ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালিন বিভাগীয় প্রধান জাহানারা বেগমের মৃত্যুর পর থেকে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি চেয়ার ধরে থাকলেও সুযোগ পাচ্ছেন না অন্যান্য শিক্ষকরা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, কোনও কাজে স্বাক্ষর নিতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিভাগের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। টাকা জমার রশিদ না দেখালে স্বাক্ষর মেলে না। সম্প্রতি বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে সাবেক এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে তাকে পিটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করানোর হুমকিও দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রায় ৭ বছর ধরে বিভাগীয় প্রধান আছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসমা বিনতে ইকবাল। ৩ বছরের ১ম মেয়াদ শেষে প্রায় ৪ বছর ধরে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে রয়েছেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ লিসা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যোগ্য কাউকে পাচ্ছি না তাই অধ্যাপক নিয়োগ হচ্ছে না।’

একই পদে দীর্ঘদিন ধরে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশেষ বিবেচনায় তারা রয়েছেন।’

/এনএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম