X
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির, হাবিপ্রবি সংবাদদাতা 
১৭ জুলাই ২০২১, ১২:৫৩আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ১২:৫৩

১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিতীয় এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পড়াশোনা করছেন প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে হাবিপ্রবি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হলেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশাও রয়েছে অনেক।

গত মাসে (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সপ্তম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অভিভাবক উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন হাবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মুবাশ্বির। 

শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য চাই

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইরফান ফরিদ পলক বলেন, একজন আদর্শ উপাচার্য সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ভাবেন। এখানে একটি প্রশ্ন আসে ‘বিশ্ববিদ্যালয় কার?’। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার্থীর আর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি মানেই হলো শিক্ষার্থীদের উন্নতি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কখনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন করতে পারে না। বরং শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিক্ষার মান এবং তার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি উপাদানের উন্নয়নই হচ্ছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের মৌলিক এবং মুখ্য বিষয়। আমরা একজন শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উপাচার্য চাই যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানকে প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান সমস্যাগুলোকে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

সেশনজট এবং শিক্ষক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম ব্যাচের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী রাগীব হাসান সিফাত বলেন, আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্য স্যারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অন্তহীন। বর্তমান মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থা অনেক করুন। চলমান সেশনজট ক্রমশ পরিস্থিতি প্রতিকূল পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। যদি সেশনজট কমিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রতি সেমিস্টার চার মাসে সম্পন্ন করা হয় তাহলে সেটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বলে আমরা সবাই আশা রাখি। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিংবা লকডাউনে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দেওয়া আমাদের প্রত্যাশার পালে কিছুটা হওয়া জুগিয়েছে।

পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগেই শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। মাননীয় উপাচার্যের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে তিনি যেন সেশনজট নিরসনে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিএসই অনুষদের দিকে বিশেষ গুরুত্ব চাই

১৮তম ব্যাচের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী উষ্ণ দাশ বলেন, আমি মনে করি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সিএসই এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধিকতর উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ। পাশাপাশি এ দুটি অনুষদের সমন্বয়ে যদি কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কনফারেন্সের আয়োজন করা যায় তাহলে অবশ্যই সেটি একটি ভালো পদক্ষেপ হবে। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে একটি বা দুটি কনফারেন্সের আয়োজন করা গেলে শিক্ষার্থীদের মাঝে গবেষণার প্রতি যেমন আগ্রহ সৃষ্টি হবে তেমনি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও তারা দ্রুত শিখতে পারবে বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রে নবনিযুক্ত উপাচার্য অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার চাই

১৭তম ব্যাচের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী সানজিদা সুলতানা সোমা বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাঝে মধ্যেই চুরির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসে ছিনতাই-হয়রানি রুখতে এবং আমরা যারা মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছি তাদের ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের আশপাশে নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে উপাচার্য স্যারের কার্যকর ভূমিকা দেখতে চাই।

এ ছাড়াও স্যারের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ থাকবে আমাদের যেন প্রতি সেমিস্টারের শুরুতেই একাডেমিক ক্যালেন্ডার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং সেশনজট নিরসনে সেই একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নের জোর দাবিও জানাই। এ ছাড়াও প্রাকটিক্যাল নোট বুক লেখার পরিবর্তে অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’র ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ফিল্ডসহ অন্যান্য সুবিধার জন্য ক্যাম্পাস সম্প্রসারণেরও দাবি জানাই।

আবাসন এবং পরিবহন সেবার অগ্রগতি চাই 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মিতুল জানান, শিক্ষার্থী হিসেবে এমন ক্যাম্পাস চাই যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ও গবেষণার জন্য যথাযথ পরিবেশ থাকবে। এ ছাড়াও চাইবো গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণার জন্য সবার সহাবস্থান নিশ্চিতের পাশাপাশি আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হোক। বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট রয়েছে চরমে। যার দরুন শিক্ষার্থীদেরকে ক্যাম্পাসের আশেপাশে এবং শহরের মেসগুলোতে থাকতে হচ্ছে। ফলে আমাদের ভাড়াও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের ৫টি, মেয়েদের ৩টি হল থাকলেও প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য হলের সিট সংখ্যা যথেষ্ট নয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্যের কাছে আমার আবেদন থাকবে তিনি যেন দ্রুত আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত হল নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সংকট দূরীকরণ এবং প্রত্যেকটা হল অনলাইনের আওতায় এনে হলে সিট প্রাপ্তির আবেদনসহ অন্যান্য সকল কার্যক্রম শুরু করেন। পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবার পরিসর বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। এ ছাড়াও ক্যাম্পাস থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর পর্যন্ত সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল-বিকেল বাস চলাচলের আবেদন জানাচ্ছি। সেক্ষেত্রে সৈয়দপুর, রংপুর এবং আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা চাইলে বাসা থেকেই যদি ক্লাস করতে পারে, তাহলে আবাসন সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে আমি মনে করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন ও পরিবহন সংকটসহ সকল সংকট দূর করে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলবেন এই আশাই ব্যক্ত করছি উপাচার্য মহোদয়ের কাছে।

প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন চাই

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মদিনা আক্তার মিম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাণবন্ত করে তুলতে যে যে উপাদানগুলো প্রয়োজন আমি চাইবো নতুন উপাচার্য স্যার সেগুলোই বাস্তবায়ন করুন। সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাই। এ ছাড়াও আমাদের প্রাণের দাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনে উপাচার্য স্যারের জোর পদক্ষেপ চাই।

 

/এনএইচ/
কূটনৈতিক পাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তার কারণ দেখছে না সরকার
কূটনৈতিক পাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তার কারণ দেখছে না সরকার
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে হয়ে গেলো ‘লার্ন ফ্রম সিইও’
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে হয়ে গেলো ‘লার্ন ফ্রম সিইও’
জাহিদ হাসান ও তৌকীর আহমেদ, কে সত্য আর কে মিথ্যা!
জাহিদ হাসান ও তৌকীর আহমেদ, কে সত্য আর কে মিথ্যা!
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের যা জানালেন জাপানি রাষ্ট্রদূত
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের যা জানালেন জাপানি রাষ্ট্রদূত
সর্বাধিক পঠিত
‘১৮ বছর হলে মেয়েকে এমন একটা সিঙ্গেল ট্রিপে পাঠাবো’
৫০ পর্বে মামানামা- আউট অব দ্য বক্স‘১৮ বছর হলে মেয়েকে এমন একটা সিঙ্গেল ট্রিপে পাঠাবো’
ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ: নেতৃত্ব বাছাইয়ে ‘শর্ট লিস্ট’ ও ‘গোয়েন্দা জরিপ’
ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ: নেতৃত্ব বাছাইয়ে ‘শর্ট লিস্ট’ ও ‘গোয়েন্দা জরিপ’
‘অটোরিকশাকে ট্রেনের টেনে নেওয়া দেখে ভয়ে চিল্লান দিছিলাম’
‘অটোরিকশাকে ট্রেনের টেনে নেওয়া দেখে ভয়ে চিল্লান দিছিলাম’
তারল্য সংক‌ট কাটাতে ইসলামী ব্যাংকগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে
তারল্য সংক‌ট কাটাতে ইসলামী ব্যাংকগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে
আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার
আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার