X
শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

বুয়েট ও ৭ কলেজে ভর্তি পরীক্ষা: ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২১, ১৫:৫২

দেশে চলমান পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, রাস্তায় গণপরিবহন না চলায় পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত আসতে তাদের ভোগান্তির শেষ ছিল না।

গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত বুয়েটের প্রাক-নির্বাচনি ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত পর্বে প্রথম ৬ হাজার জনের দুই শিফটে পরীক্ষার দিন ছিল আজ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শুক্রবার ঢাকায় আসার টিকিট কেটে রাখলেও ধর্মঘটের খবর শুনে বৃহস্পতিবারই অনেকে চলে এসেছেন। সাতক্ষীরা থেকে দুদিন আগেই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন মাজেদুল হক। তিনি বলেন, "ধর্মঘটের কথা শুনে দুদিন আগেই চলে আসতে হয়েছে। অনেক স্ট্রাগল করে প্রাক-নির্বাচনি দিয়ে মূল পর্বে ৬ হাজারের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে আমার মেয়ে। এটা যদি মিস হতো, তাহলে তার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যেতো।”

ঢাকার গাজীপুর থেকে ছেলেকে নিয়ে সকালেই আসেন আবদুল মতিন। তিনি বলেন, "ধর্মঘট চলছে, তাই খুব ভোরে ছেলেকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে রওনা হই। ছেলের বড় সাধ ইঞ্জিনিয়ার হবে। তার ১২ বছরের সংগ্রাম, তাই আগে থেকেই জিএনজি রিজার্ভ করে রেখেছিলাম। ভাড়া গুনতে হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ।"

চট্টগ্রাম থেকে ছেলেকে নিয়ে আসা তৌকির রায়হান বলেন, "ঢাকায় কোনও আত্মীয়-স্বজন নেই। ধর্মঘটের কারণে কোনোভাবে যেন ছেলের পরীক্ষা মিস না হয় সেজন্য দুদিন আগে এসেছি। হোটেলে উঠেছি। সকালে বুয়েট পর্যন্ত আসতে গাড়ি ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি দিতে হয়েছে।"

ঢাকায় এসেও ভোগান্তিতে পড়েছেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হয়েছে সিএনজি বা ভাড়ায় চালিত বাইক নিয়ে। টেকনিক্যাল থেকে পরীক্ষা দিতে আসা দীপ চক্রবর্তী বলেন, বাসে সচরাচর ভাড়া ১০ টাকা। কিন্তু এখন ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে আসতে হয়েছে। আমার মতো অনেককেই এরকম বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।

একই দৃশ্য ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের ভর্তি পরীক্ষাতেও। ঢাকা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা রিয়াজুল করিম নামে আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ধর্মঘটের কারণে পরিচিত অনেকেই গ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে পারেননি। আমি আগেই ঢাকা চলে আসায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছি। ভর্তি পরীক্ষার মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।"

কাঁচপুর থেকে আসা এক অভিভাবক ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে দেশে এই অচলাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাবিবুল্লাহ রিয়াজ নামে এক অভিভাবক বলেন, "ভোগান্তির চরমমাত্রা পেরিয়ে এসেছি। ভোরে কাঁচপুর থেকে রিজার্ভ সিএনজি দিয়ে আসতে হয়েছে। এজন্য আগেই কেন্দ্রে চলে এসেছি।"

বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ভর্তি পরীক্ষায় ৬ হাজারের মধ্যে ৫ হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৯ শতাংশ।”

গণপরিবহন ধর্মঘটের কারণে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিলো উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “যদিও পরীক্ষার্থীরা দূর থেকে এসেছে, তাদের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে আসতে হয়েছে। বিষয়টি আসলে আমাদের হাতে ছিল না।”

/এমএস/
সম্পর্কিত
স্মৃতিকথা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক হাবীবুর রহমানকে স্মরণ
স্মৃতিকথা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক হাবীবুর রহমানকে স্মরণ
ঢাবির হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে 'গেস্টরুমে' নির্যাতনের অভিযোগ
ঢাবির হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে 'গেস্টরুমে' নির্যাতনের অভিযোগ
শাবিপ্রবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
শাবিপ্রবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতীকী অনশন
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতীকী অনশন
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
স্মৃতিকথা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক হাবীবুর রহমানকে স্মরণ
স্মৃতিকথা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক হাবীবুর রহমানকে স্মরণ
ঢাবির হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে 'গেস্টরুমে' নির্যাতনের অভিযোগ
ঢাবির হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে 'গেস্টরুমে' নির্যাতনের অভিযোগ
শাবিপ্রবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
শাবিপ্রবির আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ঢাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতীকী অনশন
শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতীকী অনশন
ঢাবির বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা ‘চাইলে’ সশরীরে পরীক্ষা চলবে
ঢাবির বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা ‘চাইলে’ সশরীরে পরীক্ষা চলবে
© 2022 Bangla Tribune