উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অহিংস আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘চাষাভুষার টং’ নামে একটি টং দোকান চালু করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। চাষাভুষার টং ছাড়াও আরও চারটি টং দোকান তৈরির কাজ চলছে। বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন 'বি' এর পাশে স্থাপিত এ দোকানের উদ্বোধন করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের এ টং দোকানগুলো স্থাপন করা হবে। এ দোকানগুলোর নাম ‘বাঁশ বাগান’, ‘চাষাভুষা’, ‘ওরা আটাশ’, ‘অর্বাচিন’ ও ‘লিচুতলা’ হতে পারে বলে জানান তারা।
টং দোকান স্থাপনের বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, টং দোকানগুলোতে আমরা সাধারণত স্বল্পমূল্যে খাবার খেয়ে থাকি। পাশাপাশি, এ উন্মুক্ত পরিবেশে আমরা আড্ডা-যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন এটা বন্ধ রাখায় আমাদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা এটা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিই।
টংয়ের নাম ‘চাষাভূষার টং’ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লায়লা আশরাফুন এক বক্তব্যে চাষাভুষা শ্রেণিকে অপমান করেছিলেন। অথচ, তারাই সভ্যতার বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। এজন্য তাদের সম্মানে আমরা এ টংয়ের নাম ‘চাষাভুষার টং’ রেখেছি।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনের সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে টং দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। এছাড়া করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি টং দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেও টং দোকানগুলো আর চালু হতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে আবারও টং দোকান বন্ধের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে টং দোকান স্থাপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা পূর্বে উচ্ছেদকৃত টং দোকানগুলোও পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।









