ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলের মাঠে তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন স্যার এ এফ রহমান হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী। এর জেরে প্রথম বর্ষের ওই শিক্ষার্থী ‘গেস্টরুম নির্যাতনের’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওই শিক্ষার্থী হল প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নির্যাতনের এই ঘটনাটি গত মঙ্গলবারের (১৫ ফেব্রুয়ারি) বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোল্লা তৈমুর রহমান। তিনি শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী রোকনুজ্জামান রোকন তাকে গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেছেন। ঘটনার পর হুমকির মুখে হল ছেড়েছেন তিনি।
প্রাধ্যক্ষকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তৈমুর বলেন, ‘হলের মাঠে সিনিয়র ভাইয়ের সঙ্গে কেন কথা বলেছি— এটি জানতে চেয়ে রোকনুজ্জামান আমাকে সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় দেন। এতে কয়েক ঘণ্টা কানে শুনতে পাইনি এবং তীব্র মাথাব্যথায় ভুগতে থাকি।’
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ‘এর পর রোকনুজ্জামান আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানালে তিনি আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে আমি ভয় পেয়ে ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হল ছেড়ে ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি।’
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ও পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারছেন না বলে জানান তৈমুর। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে রোকনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।
জানা যায়,অভিযুক্ত রোকন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুনের অনুসারী। এবিষয়ে জানতে চাইলে হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুনেম শাহরিয়ার মুন বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে হল প্রশাসনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন।’ তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগটি সত্য হলে যে-ই করে থাকুক, আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা হল প্রশাসনের মাধ্যমে আমি নিশ্চিত করবো। তৈমুরের ওপর দ্বিতীয় কোনও আঘাত না আসার দায়িত্ব আমি নিলাম। আমার কোনও কর্মী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকলে, তার শাস্তি নিশ্চিত করাটা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজকেই আমার কাছে অভিযোগপত্রটি এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হলের আবাসিক শিক্ষক ড. ফারুক শাহ ও ড. মুমিত আল রশিদকে নিয়ে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দুইি দিনের মধ্যে প্রদান করা হবে। আমরা রিপোর্ট অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবো।’









