দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চারটি আবাসিক হলে। এতে পানির অভাবসহ দৈনন্দিন নানা চাহিদা মেটাতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যুৎ-পানি সংকট নিরসন, ইঞ্জিনিয়ারকে (বিদ্যুৎ) সবার সামনে মাফ চাওয়াসহ আরও ছয়টি দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের ছাত্রীরা।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টায় তারা বালতি, মগ, বোতল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘নবাববাড়ি (ছাত্রী হল) অন্ধকারে ভিসির বাড়িতে লাইট জ্বলে’, ‘নবাববাড়ি কেন রাজপথে, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘প্রশাসন ধিক্কার, ধিক্কার’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
তাদের দাবিগুলো হলো- দ্রুত বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতি ঠিক করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে সবার সামনে এসে মাফ চাওয়া, সার্বক্ষণিক পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাসস্থান সমস্যা সমাধান, ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানো, হলে ক্যান্টিন ব্যবস্থা চালু, খাবারের মানবৃদ্ধি ও ভর্তুকি দেওয়া।
বিক্ষোভকারী কনক ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবি যতক্ষণ আদায় না হবে, আমরা মাঠ ছাড়ছি না। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু তিনি আমাদের সমস্যার কোনও সমাধান দিতে পারেনি। তাই আন্দোলন চলছে, চলবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হলে বিদ্যুৎ থাকবে না এটা ভাবা যায় না। এটা খুবই বাজে পরিস্থিতি। আমার বাংলোতেও বিদ্যুৎ ছিল না, আইপিএসে শুধু লাইট জ্বলে। আমি নিজেও গোসল করতে পারিনি। আর অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমি প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি, এটা দ্রুত সমাধানে কাজ করছে তারা। আমরা বিদ্যুতের আরেকটা লাইন তৈরির কাজ করতে পারি কি-না তাও দেখবো।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ (বুধবার) মার্চ রাত থেকে নবাব মেয়েদের ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল, ছেলেদের বঙ্গবন্ধু হলের পুরাতন অংশ, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডরমিটরিসহ প্রায় সব ভবনেই বিদ্যুৎ নেই। একই কারণে সৃষ্টি হয়েছে পানির সংকট, পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে ওয়াইফাই সংযোগ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার দফতরের বিদ্যুৎ শাখা জানিয়েছে, মূল লাইনের কোথাও সমস্যা হওয়ায় বিদ্যুৎ চালু করে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না। সমস্যা কোথায় সেটি তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না। বিকল্প ব্যবস্থায় হলগুলোতে সাময়িক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের উপাচার্যের বাংলোর সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।









