ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের আয়োজনে কেন্দ্রীয় নাট্যোৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
সোমবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যমঞ্চে ১৫তম এই উৎসব শুরু হয়। এ সময় বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়নের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদারসহ বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি সুচনা পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্র গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে, সেটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শিল্প-সংস্কৃতি-নাট্যকলাসহ দেশের সব আঙিনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে।’ এ সময় তিনি বিভাগের উন্নয়নের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
উপাচার্য বলেন, ‘এই নাট্যোৎসব থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে একটি শক্তিশালী অংশ। এটি শক্তিশালী এ কারণে যে, এটি একটি পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স। সেই কারণে আমরা বিষয়টা সব সময় বিশেষ গুরুত্বসহকারে দেখতে চাই। আমরা সব সময় মুখিয়ে থাকি, কখন এই নাট্যোৎসব শুরু হবে। বিভিন্ন পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বিভাগ আরও নতুনমাত্রা যোগ করবে বলে আমার প্রত্যাশা।’
বিশেষ অতিথি রামেন্দ্র মজুমদার চারুকলা,নাট্যকলা,নৃত্যকলা,থিয়েটার পার্ফরম্যান্স নিয়ে আলাদা ফ্যাকাল্টির প্রস্তাব জানালে উপাচার্য বলেন, ‘বিষয় অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’
মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মৌলিক কিছু দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে টেলিভিশনে যে সব নাটক দেখানো হয়, তাতে কোনও বার্তা দেয় কিনা, আমি ঠিক জানি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগ সেই পথে হাঁটে না।’
সভাপতির বক্তব্যে আশিকুর রহমান লিয়ন বলেন, ‘বিগত দেড়যুগ ধরে আমরা এই উৎসব চলমান রেখেছি। তবে করোনাকালীন বাস্তবতার কারণে আমাদের আয়োজন পিছিয়ে যায়। আজকের দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ দিন। কেননা, আমাদের এই অনুষ্ঠান কয়েকবার পিছিয়েছে।’ এ সময় তিনি বিভাগের এ রকম আয়োজনে সমস্যার কথা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রীর প্রতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায়োগিক কর্মক্ষেত্র তৈরির দাবি জানিয়ে লিয়ন বলেন, ‘এ বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে যখন বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য দৌড়াতে হয়, খারাপ লাগে। শিল্প না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। শিল্প বাঁচলে, সংস্কৃতি বাঁচলে মানুষের চেতনা টিকে থাকে এবং আমরাও বেঁচে থাকি।’
দেশের মঞ্চ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য রামেন্দ্র মজুমদারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া আগত অতিথিদের বিভাগের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়৷
সম্মাননার দেওয়ায় অনুভূতি প্রকাশা করে রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে হতাশায় ভোগেন। তাদের জন্য প্রায়োগিক কর্মক্ষেত্রে তৈরি এখন সময়ের দাবি।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কলেজ পর্যায়ে নাট্যকলা পড়ানোর দাবি জানান তিনি।









