খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী অন্তু রায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। অবরোধের ফলে ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এক ঘণ্টা অবরোধের পর শিক্ষার্থীরা নিজ থেকেই অবরোধ তুলে নেন।
এর আগে, ৪ এপ্রিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কুয়েট শিক্ষার্থী অন্তু রায়ের নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বকেয়া ফি-র টাকা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে অন্তু রায়। এই দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
অবরোধ চলাকালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ‘একদিকে এই রাষ্ট্র উন্নয়নের ডামাডোল পেটাচ্ছে। অন্যদিকে উন্নয়নের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রিকশাচালক জরিমানা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করছে, আরেকদিকে অতিরিক্ত ফি-র জাঁতাকলে আত্মহত্যা করছে শিক্ষার্থীরা। এই যে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার মিছিল, এটি রাষ্ট্রের ভঙ্গুরতার বহিঃপ্রকাশ।’
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সামি আল জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘এই রাষ্ট্রব্যবস্থা অন্তু রায়ের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্নভাবে মূল্যবৃদ্ধি প্রমাণ করছে শিক্ষা শুধুমাত্র উচ্চ শ্রেণির লোকদের জন্য। এটি স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার উন্নয়নের গল্প শোনাচ্ছে। সেই উন্নয়নের জাঁতাকলে পড়ে কুয়েট শিক্ষার্থী ফি দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। কত বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি; একজন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফি দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এটি এই রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার।’
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফি এমন করে বাড়ানো হচ্ছে যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা চান্স পেলেও পড়তে পারবে না। এরকম ফি দিতে না পেরে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যা করছে। ১৩ বছরের দুঃশাসনের এই পরিণতি আজকে বাংলাদেশের। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নামে-বেনামে ফি বাড়ানো হচ্ছে।’
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা শাখা) জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ সড়ক অবরোধ করে রাখে। আমি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা নিজ থেকেই অবরোধ তুলে নেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘যারা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল, আমি তাদেরকে অনুরোধ করেছিলাম মহাসড়ক ছেড়ে দিতে। রমজান মাসে মানুষজনের কষ্ট যেন না হয়। শিক্ষার্থীরাও আমার কথা রেখেছে, তারাও তাদের কার্যক্রম শেষ করে নিজ থেকেই অবরোধ উঠিয়ে নেয়।’








