জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষকদের জন্য প্রদত্ত গবেষণা ভাতা বন্ধ ঘোষণা করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। শনিবার (২০ মে) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক গবেষণাকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। গবেষণার গুরুত্ব উপলব্ধি করেই এ প্রণোদনা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষকেই এই বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে দীর্ঘমেয়াদি কুফল বহন করতে হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের ন্যায্য পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে অযৌক্তিকভাবে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো সংকুচিত করা হচ্ছে। এতে মেধাবী তরুণরা শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। গবেষণা ভাতা, পিএইচডি ইনক্রিমেন্টসহ প্রত্যাহারকৃত অন্য সব সুবিধা পুনর্বহালসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পর্ষদগুলোতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
এ ছাড়া প্রতিবাদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ শিক্ষকের নাম ওই বিবৃতিতে রয়েছে।
এর আগে গত ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার জন্য প্রদত্ত ভাতা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘গত ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুযায়ী এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের গবেষণা ভাতা প্রদান বন্ধ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, গবেষণা ভাতা বন্ধের একটি বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ব্যাপারটা নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো।
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য নুরুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি।









