রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই বছর পর বিভাগ থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে খাতা জমা দিতে হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের পরীক্ষার খাতা ১৬ মাস না যেতেই ক্যাম্পাস সংলগ্ন পুরাতন বইয়ের দোকানে পাওয়া গেছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘন ও শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা বলে মনে করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এ জন্য বিভাগের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্সের পরীক্ষা ২০২২ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি আসলাম কাদির নামে একটি আইডি থেকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের ফেসবুক গ্রুপে ওই পরীক্ষার কিছু খাতার ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন, ছবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি পুরাতন লাইব্রেরি থেকে তোলা হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত রীতি ভেঙে খাতাগুলো বিক্রি করায় সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নজরে এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের কাছে কৈফিয়ত চান। এ ঘটনায় বিভাগে জরুরি একাডেমিক মিটিং ঢাকা হয়। পরে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাতাগুলো উদ্ধার করা হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বিজয় কৃষ্ণ বণিক বলেন, ‘একজন কর্মচারী ভুলে কয়েকটি খাতা পেপারের সঙ্গে বিক্রি করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর বিভাগে জরুরি একাডেমিক মিটিং ডাকা হয়। সভায় ওই কর্মচারীর কাছে কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি ভুল স্বীকার করেন। সেই কর্মচারী কম শিক্ষিত হওয়ায় না বোঝে ভুলটি করেছিলেন। তাকে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে বলা হয়। পরে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাতাগুলো উদ্ধার করা হয়।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাতা বিভাগের স্টোরে দুই বছর সংরক্ষণ করতে হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরে বিভাগের সভাপতি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্টোর রুমে খাতাগুলো জমা দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই বিভাগের খাতাগুলো আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। শুনেছি খাতাগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। যেহেতু অধ্যাদেশে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে শাস্তির নির্দিষ্ট কোনও বিধান নেই। তাই কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এটি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিধি লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি সামনে আসার পর আমরা বিভাগের শিক্ষকদের ডেকেছিলাম। তারা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ভুল যাতে ভবিষ্যতে না হয়, সে জন্য অন্যান্য বিভাগগুলোকে সতর্ক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত চিঠি দেওয়া হবে।’









